Newsbazar24::বন্যার ত্রাণ তহবিলের বিপুল টাকা জালিয়াতির অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ)-কে অবিলম্বে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে, রিপোর্ট দিতে বিলম্বের কারণ জানতে চেয়ে ক্যাগ-এর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত। ঘটনায় তৃণমূল বিজেপি বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
ক্যাগর প্রতিবেদনে ইতিমধ্যে বিশাল অঙ্কের জালিয়াতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যেখানে ৮০-এর বেশি পঞ্চায়েত প্রধান ও কর্মকর্তার নাম জড়িয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা শাসকদলের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে শাসক দলের ত্রাণ বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে।
জানা গেছে,২০১৭ সালের বন্যায় মালদার লক্ষ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, ১০০০ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ হওয়া ত্রাণ তহবিলের বড় অংশ প্রকৃত দুর্গতদের কাছে পৌঁছায়নি বলে একটি পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশন (পিআইএল)-এ অভিযোগ করা হয়েছে। পিটিশনে বলা হয়েছে, এই অর্থ নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীরা এই অপব্যবহারের মূলে রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে হাজার হাজার উপভোক্তার জন্য একই মোবাইল নম্বর বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে, যা সুস্পষ্ট জালিয়াতি। হাইকোর্টের বিচারপতি এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, “এটা কেবল অর্থের অপব্যবহার নয়, এটা লোকজনের জীবনের সঙ্গে খেলা। বন্যার ক্ষতিগ্রস্তরা আজও ত্রাণের অপেক্ষায়, আর অর্থগুলো কোথায় গেল?”
পিটিশনে ৮০-এর বেশি পঞ্চায়েত প্রধান ও স্থানীয় কর্মকর্তার জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে, যাদের অনেকেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। প্রথম ক্যাগ রিপোর্টে ৫৮ কোটি টাকার বাড়ি পুনর্নির্মাণ তহবিল সহ মোট ১০০০ কোটির অর্থে অনিয়মের ছাপ থাকার কথা জানানো হয়। জাল নাম যোগ করা এবং একই অ্যাকাউন্টে একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে।
২০২৩ সালে আদালত ক্যাগকে তদন্তের নির্দেশ দিলেও চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা না হওয়ায় হাইকোর্ট ক্ষুব্ধ, আদালতের পর্যবেক্ষণ “তদন্ত শেষ হয়েছে, তাহলে প্রতিবেদন কেন লুকিয়ে রাখছেন? এটা জনগণের অধিকার।” পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৫ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে, যেখানে ক্যাগকে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।
আদালত অভিযুক্ত সম্ভাব্য অপরাধীদের নামও চিহ্নিত হওয়ার কথা বললেও সেই তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। বিজেপি এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষের ত্রাণে তৃণমূলের দুর্নীতি বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে শাসকদল তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করে ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত বলে দাবি করেছে।





