Newsbazar24:জঙ্গলমহলের ছেলে মেয়েরা খেলাধুলায় যে পিছিয়ে পড়ে নেই তা আরো একবার প্রমাণ করলো তারা।
রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ইউথ স্পোর্টসে পুরুলিয়ার মানবাজার বিবেকানন্দ স্পোর্টস অ্যাকাডেমির বালক বালিকারা ফুটবলে অনূর্ধ্ব ১৭ বালিকা ও বালক—উভয় বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হল।

বাঁশবেড়িয়ার কিশোর সংঘ মাঠে, রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ইউথ স্পোর্টসে অনুর্দ্ধ-১৭ বালিকা বিভাগে কৈকালা ফুটবল কোচিং সেন্টারকে ৬-১ গোলে পরাজিত করল বিবেকানন্দ অ্যাকাডেমি। এরপর একই মাঠে, অনুর্দ্ধ-১৭ বালক বিভাগে কালনার এসকেএম স্পোর্টস ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জয় পেলো এই অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীরা।
জঙ্গলমহলের ছেলেমেয়েদের প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে বিবেকানন্দ একাডেমীর এই সাফল্য এটাই প্রমাণ করে
প্রতিভার অভাব এই অঞ্চলে কোনোদিনই ছিল না; অভাব ছিল সুযোগ, পরিকাঠামো ও ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতার।
দীর্ঘ উপেক্ষা, প্রশাসনিক উদাসীনতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়েও যেভাবে এই অ্যাকাডেমি যুব ফুটবলের ভিত গড়ে তুলে চলেছে, তা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক।
এই একাডেমি থেকে উঠে আসা জঙ্গলমহলের অনেক ছেলেমেয়েরা কলকাতা ময়দানে বিভিন্ন ক্লাবে খেলে, এমনকি কলকাতা লিগের তৃতীয় ডিভিশনে অংশ নিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে।
বিবেকানন্দ স্পোর্টস একাডেমি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই একাডেমি চালাতে গিয়ে প্রশাসনিক উদাসীনতার শিকার হয়েও যেভাবে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে লড়াই করেও প্রতিভাগুলোকে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা তারা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বক্তব্য,যদি পরিকল্পিত সহায়তা, স্থায়ী পরিকাঠামো ও স্বচ্ছ পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া যায়, তবে জঙ্গলমহল থেকেই উঠে আসতে পারে আগামী দিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার। প্রতিভা খোঁজার দায়িত্ব শুধু অ্যাকাডেমির নয়, রাষ্ট্রেরও
বিবেকানন্দ অ্যাকাডেমির এই সাফল্য কিন্তু অনেকগুলো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে ক্রীড়া প্রশাসক, ক্রীড়া সংগঠক, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির কাছে, “বড় বড় ভাষণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা বার্তা কিংবা একদিনের সংবর্ধনায় কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? আজও জঙ্গলমহলের বহু ক্রীড়া সংস্থা মাঠ, কোচিং সুবিধা, চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত”।
এখন দেখার, এই সাফল্য থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্রীড়া কর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা বাস্তব পদক্ষেপ নেন কি না সেটাই দেখার।





