Newsbazar24:২০১৬ সালে নির্মিত মালদা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি চত্বরে পাইকারি মাছ বাজার এখনো চালু হয়নি। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের স্টল বন্টন করা হয়ে গিয়েছে। অনেক মাছ ব্যবসায়ী ঋণ করে ঘর নিয়েছেন আর উপর প্রতি মাসে ঘরের ভাড়া গুনতে হচ্ছে ৭৫০ টাকা করে। দীর্ঘ প্রায় আট বছর হয়ে গেল কিন্তু এখনও চালু হল না ঐ মাছ বাজার বলে অভিযোগ মৎস্য ব্যবসায়ীদের।
অথচ দুই কোটি টাকা খরচা করে তার পাশেই আরও একটি মাছ বাজার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন একটি মাছ বাজার থাকা সত্ত্বেও আরও একটি মাছ বাজারের তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কেন? কেন সরকারি টাকাকে এভাবে নয় ছয় করা হচ্ছে?
মৎস্য ব্যবসায়ীরা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, তাদের বক্তব্য ২০১৬ সালে তৈরি হওয়া এই মার্কেটে প্রায় ৯৫ জন মাছ ব্যবসায়ী স্টল পেয়েছিল। ২০১৭ এবং ২০১৯ সালে এক মাসের জন্য তারা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এই মাছ বাজার চালু করেছিল। কিন্তু প্রশাসনের অসহযোগিতায় তা বন্ধ হয়ে যায়। এখন এই মাছের বাজারের জরাজীর্ণ অবস্থা। আগাছা এবং নোংরা আবর্জনায় ভরে গেছে গোটা বাজার। রাত হলেই সেখানে মদের আসর বসে যত্রতত্র পড়ে থাকে মদের বোতল। ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ কেউ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে আবার কেউ সম্পত্তি বিক্রি করে কেউ ১০ লাখ কেউ ১২ লাখ আবার কেউ ১৫ লাখ টাকা দিয়ে এই স্টল নিয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত এই মার্কেট চালু হলো না অথচ এই ৮ বছর ধরে তারা ৭৫০ টাকা করে ভাড়া দিয়ে আসছেন মার্কেট কর্তৃপক্ষকে। সঙ্গে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

এই বিষয়ে মালদা নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবসায়ী সমিতির উজ্জ্বল সাহা জানান, ২০১৬ সালে মালদা জেলা রেগুলেটেড মার্কেটে পাইকারি মাছ বাজারের জন্য কিছু স্টল তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন বাজার সমিতির ভুল সিদ্ধান্তের জন্য প্রকৃত যারা মাছ ব্যবসায়ী তাদেরকে না দিয়ে তারা টেন্ডারের মাধ্যমে স্টল গুলি বিলি করেছিল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মালদা শহরের নেতাজি মার্কেটের প্রকৃত মাছ ব্যবসায়ীরা দোকান না পাওয়াই এই মার্কেট উদ্বোধন করা বা চালু করা সম্ভব হয়নি। তাই সেই সমস্ত মাছ ব্যবসায়ীদের জন্য ইংলিশ বাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান আরো একটি মাছের বাজারের তৈরি করার আবেদন করেছিলেন রাজ্য সরকারের কাছে। সেই মতো আরো একটি মার্কেট তৈরি করা হচ্ছে।
ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী জানান, সমস্ত কিছুর পাইকারি মার্কেট মালদহ জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি চত্বরে রয়েছে। তাই নেতাজি মার্কেটের মাছ বাজার নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির চত্বরে নিয়ে আসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই নতুন করে আরও একটি বাজার তৈরি হচ্ছে।



