সচল শান্তিপুরের তাঁত, লক্ষাধিক শাড়ির বরাত
নিউজ বাজার ২৪ ডেস্ক : বাংলার রাজনীতিতে প্রচারের কৌশল বরাবরই অভিনব। দেওয়াল লিখন, পোস্টার কিংবা সভার পাশাপাশি এবার সেই তালিকায় বড় জায়গা করে নিয়েছে সাবেকি শাড়ি। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে নদীয়ার ঐতিহ্যবাহী শান্তিপুরের তাঁত শিল্পে এখন সাজ সাজ রব। কোনো শাড়ির জমিনে ফুটে উঠছে ঘাসফুল, কোথাও আবার শোভা পাচ্ছে পদ্ম। রাজনৈতিক দলের স্লোগান আর প্রতীকের মিশেলে তৈরি এই শাড়িগুলি এখন শান্তিপুরের তাঁতপাড়ার ভোল বদলে দিয়েছে।
সচল শান্তিপুরের তাঁত, লক্ষাধিক শাড়ির বরাত
বছরের অন্য সময় তাঁত শিল্পীরা কিছুটা মন্দার মুখ দেখলেও ভোটের বাজার তাঁদের সামনে এনে দিয়েছে বড় সুযোগ। শান্তিপুরের সুত্রাগড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রান্তে এখন দিনরাত চলছে মাকু চালানোর শব্দ। স্থানীয় শিল্পীরা জানাচ্ছেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি— প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের পক্ষ থেকেই বিপুল পরিমাণ অর্ডারের ঢল নেমেছে। শুধু নদীয়া জেলা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক শাড়ির বরাত আসছে শিল্পীদের কাছে।
প্রতীকের সাথে স্লোগান: শাড়িতেই চলছে রাজনৈতিক প্রচার
শান্তিপুরের এই বিশেষ শাড়িগুলিতে কেবল দলীয় প্রতীক নয়, থাকছে নানাবিধ আকর্ষণীয় কারুকার্য:
তৃণমূলের শাড়ি: জোড়া ফুল প্রতীকের পাশাপাশি থাকছে দলের জনপ্রিয় স্লোগান। নেত্রীর ছবি সম্বলিত ডিজিটাল প্রিন্ট বা হ্যান্ডলুম কাজের শাড়িগুলির চাহিদা তুঙ্গে।
বিজেপির শাড়ি: পদ্মফুল প্রতীকের সাথে গেরুয়া পাড়ের মেলবন্ধন। শাড়ির আঁচল বা জমিনে থাকছে বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা।
আরও পড়ুন-গ্যাসের দাম ২ হাজার হচ্ছে ! তথ্য না রাজনৈতিক দাবি—কী বলছেন অভিষেক?
সরগরম শান্তিপুরের গদি ঘর: ব্যস্ত মালিক ও শ্রমিকরা
এই বিপুল চাহিদার জেরে নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন শান্তিপুরের তাঁতিরা। সঠিক সময়ে অর্ডার সাপ্লাই দিতে নাজেহাল অবস্থা মহাজন বা গদি ঘরগুলোর মালিকদের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে ডিজাইন বাছাই, রং করা এবং সুতো শুকানোর কাজ। একজন তাঁত শিল্পীর কথায়, “ভোট এলেই আমাদের কপাল ফেরে। তবে এবারের চাহিদা গত কয়েকবারের তুলনায় অনেকটা বেশি। রাজনৈতিক মিছিলে মহিলাদের এই শাড়ি পরিয়ে নামানোর তোড়জোড় চলছে, তাই অর্ডারগুলো সময়মতো পৌঁছনো আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।”
মহিলা ভোটারদের টানতে নয়া কৌশল
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিছিলে কিংবা নির্বাচনী জনসভায় নারী শক্তিকে তুলে ধরতে এবং একঘেয়েমি কাটাতে ‘রাজনৈতিক শাড়ি’ একটি কার্যকর হাতিয়ার। জেলা বা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলা কর্মীরা যাতে দলীয় প্রতীকে মোড়া একই ধরণের শাড়ি পরে মিছিলে হাঁটতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই রাজনৈতিক দলগুলো এই বিনিয়োগ করছে। একদিকে যেমন এতে দলের প্রচার হচ্ছে, অন্যদিকে শান্তিপুরের হাজার হাজার তাঁত পরিবারে অর্থের জোগান বাড়ছে।
অর্থনীতির অক্সিজেন: চাঙ্গা শান্তিপুর
দীর্ঘদিন ধরে তাঁত শিল্পের সংকট নিয়ে আলোচনা হলেও, ভোটের এই সাময়িক জোয়ার শিল্পীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। লাভজনক মূল্যে সরাসরি দলের নেতাদের কাছ থেকে বরাত পাওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার, শান্তিপুরের তাঁতীদের বোনা এই শাড়ি ভোটের ময়দানে কোনো দলের পক্ষে কতটা হাওয়া ঘোরাতে পারে।





