Newsbazar24:এ বছর ভূত চতুর্দশী পড়েছে আগামী ৩০ শে অক্টোবর। এই ভূত চতুর্দশীর দিন বাংলার ঘরে ঘরে অনেকগুলি রীতি পালিত হয়। যার মধ্যে অন্যতম হলো ১৪ প্রদীপ জ্বালানো। পুরান মতে ভূত চতুর্দশীর দিনে কিছু সময়ের জন্য আত্মারা মর্ত্যে নেমে আসেন।পিতৃকুল ও মাতৃকুলের চোদ্দ পুরুষের অশরীরী আত্মা নেমে আসেন গৃহস্থের বাড়িতে। এই দিনে অশুভ শক্তির প্রকোপ বৃদ্ধি পায় বলে একটা বিশ্বাস প্রচলিত আছে। এই অশুভ শক্তিকে নিজের বাড়ি থেকে দূরে রাখতেই ১৪ প্রদীপ জ্বালানো হয়ে থাকে। যেহেতু দিনটি চতুর্দশী, তাই ১৪টি প্রদীপই জ্বালানো হয়।
চোদ্দো শাক খাওয়ার রীতি। প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানে মানুষের দেহ গঠিত হয় তাই প্রকৃতির থেকে ১৪ টি শাক তুলে সেগুলিকে একত্রিত করে ১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করে খাওয়ার রীতি প্রচলিত।
চোদ্দো শাক কি? ওল, কেও, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, জয়ন্তী, নিম, হেলঞ্চা বা হিঞ্চে, শাঞ্চে বা শালিঞ্চা, গুলঞ্চ, পলতা বা পটুক পত্র, ভাঁটপাতা, শুলফা, শুষনী। আয়ুর্বেদে উল্লেখ আছে প্রাচীন বাংলার এই ১৪ টি শাকের। যেগুলি, ঋতু পরিবর্তনের পরে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কথিত আছে এমনটা করলে বাড়িতে যমের ছায়া পড়ে না এবং পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ গৃহের উপর বর্ষিত হয়। অলক্ষীর বাস করে না গৃহে। শাস্ত্র অনুযায়ী আরো বলা হয় যে, ভূত চতুর্দশীর দিনে মা কালী নরকাসুরকে বধ করেছিলেন বলে এই চতুর্দশী নরক চতুর্দশী নামেও পরিচিত।



