Newsbazar24:সুপ্রিম কোর্টে ‘ভিআইপি কালচার’ বন্ধে, সাহসী সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্তর।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ভেতরে বহু দশকের রীতিতে বদল ঘটালেন নতুন প্রধান বিচারপতি সুর্যকান্ত। যে সিদ্ধান্তগুলো প্রকাশ্যে এসেছে সেগুলো শুধু আদালতের দৈনন্দিন কাজকর্ম নয়, সমগ্র বিচারব্যবস্থার আগামী দিনের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠতে পারে।
এক কথায় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সুপ্রিম কোর্টের ভিআইপিদের মতো পুরো জাঁকজমকের অবসান ঘটিয়েছেন।
এখন থেকে, কোনও সিনিয়র আইনজীবী লাইনে লাফিয়ে “আগে আমার মামলা শুনুন” মনোভাব দেখাতে পারবেন না।
জরুরি মামলাগুলো কেবল লিখিত পদ্ধতির মাধ্যমেই পরিচালিত হবে – কোনও শর্টকাট নেই, কোনও অ্যাক্সেস নেই।
জুনিয়র আইনজীবীদের জন্য নির্দেশ আরও স্পষ্ট, কেবল অসাধারণ পরিস্থিতি ছাড়া কোনো মামলা মেনশন করা যাবে না। অযথা মেনশন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আদালতের ভাষায় এখন “মেনশনিং-মাফিয়া” কার্যত নিষ্ক্রিয়।
এমন সিদ্ধান্তকে অনেকে বলছেন, “সুপ্রিম কোর্টে সমান অধিকারের যুগের সূচনা।”
পাশাপাশি তিনি এই বার্তাও দিয়েছেন প্রয়োজনে
কলেজিয়াম ব্যবস্থাকে বাতিল করে জাতীয় বিচারক নিয়োগ কমিশন (NJAC) ফিরিয়ে আনা হবে।
এর ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। কলেজিয়াম ব্যবস্থার জায়গায় যদি এনজিএসি ফিরে আসে, তবে বিচারপতিরা আর নিজেরাই নিজেদের নিয়োগ করবেন না, বৃহত্তর অংশগ্রহণ আসবে সংসদ, কেন্দ্র ও সমাজ থেকে।
অনেক বিচারপতি ও আইনজীবী বলছেন, “এটি বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজলভ্য করবে।”
আবার কিছু বিচারপতি সতর্ক করছেন, “বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের হাতেই নিয়োগ থাকা উচিত।”
তবে সকলেই একমত, সুর্যকান্ত বিচারব্যবস্থার স্থবিরতা ভাঙতে সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন।
আইনবিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক মাসে এনজিএসি পুনর্বিবেচনার আবেদন সুপ্রিম কোর্টে তালিকাভুক্ত হতে পারে। আদালতের নতুন ‘লিস্টিং প্রটোকল’ কার্যকর হলে যাদের পেছনে বড় আইনজীবী নেই, তারাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। সিনিয়র আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের সুবিধা কমবে, বিচারব্যবস্থার ভেতরে ক্ষমতার কাঠামো বদলে যেতে পারে।





