Newsbazar24::নির্বাচনের আবহে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শাসক দল রাজনীতির ময়দানে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছি বলে অভিযোগ বিরোধীদের। পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাংলার রাজনীতি।
সাম্প্রতিককালে ভিনরাজ্যে বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল ছিল বেলডাঙা। এবার সেই ঘটনায় নিল নয়া মোড়। জানা গেছে, গণপিটুনিতে নয় বরং মানসিক অবসাদেই আত্মহত্যা করেছেন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ।
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুরহস্য নিয়ে তদন্তে কি এল?
ঝাড়খণ্ডে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু নিয়ে গত শুক্রবার থেকে টানা দু’দিন অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা-সহ মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশ। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা ক্রমাগত ভাঙচুর, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের উপর হামলা করে চলেছিল। প্রশাসন ছিল একদম নিষ্ক্রিয়। অবশেষে বাধ্য হয়ে রাজ্য সরকার রেফ নামায়।
পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটনের জন্য ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ফোন করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুততার সঙ্গে ঝাড়খণ্ড পুলিশ তদন্তে নেমেছিলেন। অবশেষে প্রকাশ্যে এল পরিযায়ী শ্রমিকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
ময়নাতদন্তের রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য
সূত্রে জানা গেছে, মুর্শিদাবাদের পুলিসের বিশেষ তদন্তকারী দল ঝাড়খণ্ডে গিয়ে ঝাড়খন্ড পুলিশের সহযোগিতায় মৃত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যু সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করে। রিপোর্টে জানা যায় ঝাড়খণ্ডের পলমু জেলার বিশ্রামপুর থানা এলাকায় একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন আলাউদ্দিন শেখ। এলাকার অন্যান্য বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়, কিন্তু তারা খুনের কোনও ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেননি। শেষে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায়, জীবিত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগানোর ফলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। অর্থাৎ মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যা করেছে এই শ্রমিক।
ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকের এই মৃত্যু ঘিরে বেলডাঙায় একাধিক গুজব রটেছিল। এমনকি পরিবারের তরফেও বলা হয়েছিল যে তাঁকে পিটিয়ে মেরে পরে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে আসল সত্যি জানা গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে, মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার সানি রাজ জানিয়েছেন, ‘আমাদের প্রতিনিধিদল ঝাড়খণ্ডে গিয়ে তদন্তকারী আধিকারিক এবং নিহতের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমাদের হাতে আসার পরে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।
স্বাভাবিকভাবে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন আসল ঘটনা না জেনে কেন এভাবে ভাঙচুর করে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হল? এর জন্য তো দায়ী তৃণমূল দল তারাই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে।





