Newsbazar24:ই রিকশাতে বেআইনি ভাবে প্রচুর কফ সিরাপ নিয়ে যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের দুই নেতা। বৃহস্পতিবার মাথাভাঙ্গা শীতলকুচি সড়কে ধরলা নদীর উপেন বর্মন সেতু সংলগ্ন নাকা চেকিংয়ে ধরা পড়ে। ধৃত দুই নেতা হলেন রাহুল পাল ও প্রদীপ বর্মন। তারা মাথাভাঙ্গা-১(বি) ব্লকের তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের ই-রিকশা ইউনিয়নের ব্লক সভাপতি ও সহ-সভাপতি। প্রদীপের বাড়ি মাথাভাঙ্গা ১নং ব্লকের বড় কাউয়ারডারা এলাকায়। রাহুলের বাড়ি পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চানন মোড় সংলগ্ন এলাকায়। দুই তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারের খবরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাকা তল্লাশির সময় ই-রিকশাটি আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে কফ সিরাপ নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কোনও বৈধ নথি দেখাতে না পারায় দু’জনকে আটক করা হয়। পরে শীতলকুচি বিডিও অনিন্দিতা সিনহা ব্রহ্মা, শীতলকুচি থানার ওসি অ্যান্থনি হোড়ো সহ অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ই-রিকশা থেকে এক হাজারের বেশি কফ সিরাপ উদ্ধার হয়। এরপর ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা জানায়, রাহুলের ই-রিকশা করে কোচবিহার শহরের এক ওষুধের দোকান থেকে কফ সিরাপের প্যাকেটগুলি আনা হয় মাথাভাঙ্গাতে। মাথাভাঙ্গা থেকে প্রদীপের ই-রিকশাতে শীতলকুচি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। শীতলকুচির এক ব্যক্তি তাঁদের ই-রিকশা ভাড়া নিয়েছে। শীতলকুচিতে প্যাকেট গুলি নামিয়ে নেওয়ার কথা ছিল সেই ব্যক্তির। তবে ওই ব্যক্তির নাম – ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর ধৃতরা কিছুই জানাতে পারেনি। আজ ধৃতদের মাথাভাঙ্গা মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তৃণমূলের ওই দুই শ্রমিক নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে মাথাভাঙ্গার বিজেপি বিধায়ক সুশীল বর্মন কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূলের আশ্রয়েই এ ধরনের অবৈধ কারবার চলছে। তোলাবাজি, বালি পাচার, কফ সিরাপ পাচারে তৃণমূল নেতারা যুক্ত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। ধৃত তৃণমূল নেতাদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে পারবে না শীতলকুচি থানার পুলিশ।
তবে তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, দলের সঙ্গে যুক্ত কেউ অসামাজিক কাজে জড়িত থাকলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। সে যত বড় নেতাই হোক। পুলিশকে বলবো সঠিক ভাবে তদন্ত করতে।
বিষয়টি নিয়ে সিপিএমের শীতলকুচির প্রাক্তন বিধায়ক হরিশ্চন্দ্র বর্মন বলেন, এলাকায় যত চোরাকারবারি আছে, সবই তৃণমূল নেতাদের মদতে হচ্ছে। এই সব করেই তৃণমূল নেতারা মুনাফা নিচ্ছে। পুলিশ ধরেছে ঠিকই কিন্তু এই কপ সিরাপগুলি কার কাছে নিয়ে যাচ্ছিলো তা উদ্ধার করে প্রকাশ্য আনলে আরো বড় কোনো তৃণমূল নেতার নাম উঠে আসবে। এখন দেখার পুলিশ তদন্ত কতদূর এগিয়ে নিয়ে যায়।





