বিবাহ বারষিকী – প্রজ্ঞাপারমিতা সাহা
আজ সোমার বিয়ের ১২বছর পূর্ণ হল। সোমবার জন্মদিন বলে বাবা-মা আদর করে এই নাম রেখেছিলেন। মেয়ের ২০বছর হলে তারা বিয়ের জন্য পাত্র দেখতে শুরু করলেন। সকল পাত্রই সুন্দরী শিক্ষিতা সোমাকে পছন্দ করে। কিন্তু সোমাই কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে পাত্রদের নাকচ করে দিয়েছে।.
এইরকম ভাবে কিছুদিন গড়িয়ে যাওয়ার পর অনিমেষের সাথে দেখা হয় সোমার। সোমাকে খুব পছন্দ হয় অনিমেষের। কিন্তু পাত্রের মা তো ঘোর আস্তিক। তাঁর গুরুদেবের পরামর্শ ছাড়া এক পাও এগোন না। তিনি পাত্রীর ঠিকুজী করে দেখলেন পাত্রী মাঙ্গলিক। এদিকে ছেলেও নাছোড়বান্দা। অবশেষে গুরুদেব এক উপায় বাতলালেন। পাত্রীর বিয়ের দিন নারায়ণশিলার সাথে মেয়েটির বিয়ে দিলে এই দোষ কেটে যাবে। সোমা সব শুনে মনমরা হয়ে রইল। কি এমন করতে পারে সে যে তার জন্য তার স্বামীর মৃত্যু হবে? নিজেকে বিশ্বাস করতে পারে না সে। সেও ওই শান্ত নম্র অনিমেষকে ভালোবেসে ফেলেছে যে। কি করে সে তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে?নাঃ সে বিয়েই করবে না। সে না হয় তার ভালোবাসাকে বাঁচাতে সারাজীবন দূর থেকেই ভালোবাসবে অনিমেষকে। কিন্তু বাবা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারল না সে। যথারীতি নারায়ণশিলা পরে অনিমেষের সাথে বিয়ে হয়ে গেল তার।
বিয়ের পর সে ভয়ে ভয়েই চলতে লাগল । যে যা বলত তাই করত পাছে তার স্বামীর অকল্যাণ হয়। শ্বশুরবাড়ি পাড়ার সকলের চোখের মনি সে। অশান্তি হলেও সে তার নিজের গুণে কাটিয়ে নেয় সব। আজ বিয়ের ১২ বছর উপলক্ষে নিজ হাতে সারাদিন ধরে পোলাও মাংস পায়েস রেঁধেছে সে।সবাই চেটেপুটে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। অনিমেষের শরীর আজ খারাপ করছিল। তাই সোমা সজাগ হয়েই রইল। ভোরে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছে বুঝতে পারে নি।.
পরদিন সকালে সবাই অনিমেষকে ডাকছে। কিন্তু সব শেষ। ঘুমের মধ্যেই চলে গেছে সে। ধরফর করে উঠে পড়ে সোমা। মাঝে মাঝেই এরকম দুঃস্বপ্ন দেখে সে। পাশে তাকিয়ে দেখে চা খাচ্ছে অনিমেষ। হাঁফ ছাড়ল সোমা।
আজ নিজেই সে প্রতিকার জানতে যাবে গুরুদেবের কাছে। সোমার কথায় গুরুদেব আবার গনণায় বসলেন। অনেকক্ষণ পর গুরুদেবের মুখে দেখা গেল স্বস্তির হাসি। বললেন বিপদ আর নেই। গতকালই একটা বিপদ যোগ ছিল। সেটা কেটে গেছে। আর বিপদ নেই। সোমার অকৃত্রিম ভালোবাসাই বাঁচিয়ে দিয়েছে অনিমেষকে।

