Newsbazar24:২০২৬এর নির্বাচনকে সামনে রেখে
শাসক বিরোধী দুই দলই ময়দানে নেমে পড়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মালদহ জেলার চাঁচলে শুক্রবার এক জনসভায় বলেন, এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের ১০০ দিনের কাজ ২০০ দিনে উন্নীত করা হবে। তিনি দাবি করেন যে, বিজেপি গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের বর্তমান আওতা বাড়াবে।
এদিন দলীয় কর্মসূচিগুলিতে তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক বাধার তীব্র সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ২০২১ সালেরনা বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে তাঁর সভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতির জন্য তাঁকে ১০৪ বার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছ। এই চাচলেও সভা করার জন্য হাইকোর্টে যেতে হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অত্যাচারী তৃণমূল সরকার এবং তাদের হাতের পুতুল পুলিশ বাহিনী কোনও কারণ ছাড়াই অনুমতি আটকে রাখে। এর উদ্দেশ্য শুধু বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “বারবার কলকাতা হাইকোর্ট এই স্বেচ্ছাচারী নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে অনুমতি দিয়েছে, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনের ক্ষমতার নির্লজ্জ অপব্যবহার ফাঁস করে দিয়েছে। এটা শাসন নয়, একনায়কতন্ত্রের ছদ্মবেশ”
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার নতুন ‘বিকশিত ভারত-গারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বিল’ পাশ করে, যা পূর্ববর্তী এমজিএনআর ইজিএ।
এই নতুন আইনে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দেয় এবং কর্মসংস্থানকে পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করে। তবে, এর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রকল্পের ৪০ শতাংশ তহবিল রাজ্যেকে ব্যবস্থা করতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আবাসন ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে তহবিল আটকাচ্ছে বলে তৃণমূলের মিথ্যা অভিযোগের জবাবে শুভেন্দু্ বলেন এই প্রকল্পগুলির জন্য বরাদ্দ অর্থ রাজ্যের শাসকদলের মদতপুষ্ট অসাধু সুবিধাভোগীরা লুঠ করেছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি বাড়ির জন্য ৩ লক্ষ টাকা দেবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। এই প্রসঙ্গে তিনি রাজ্য সরকারের দেওয়া ১.২০ লক্ষ টাকাকে অপর্যাপ্ত বলে মন্তব্য করেন, বর্তমান নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে।
এদিনের সভায় তিনি ২০২৫ সালের শুরুতে মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিবাদে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন যে, “এখন সময়ের দাবি হলো হিন্দুদের রাজ্যব্যাপী ঐক্যবদ্ধ করা।”
শুভেন্দু বলেন ২০২১ সালের নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের দুটি পকেটে হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল – মালদহ উত্তর অঞ্চলে, যেখানে বিজেপি দুটি আসন জিতেছিল, এবং নন্দীগ্রামে, যেখানে তিনি স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হলো তাঁদের রাজ্যব্যাপী ঐক্যবদ্ধ করা।” মুখ্যমন্ত্রীকে বিঁধে এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দিদি যখন পিসি হয়েছিলেন, তখনই আমি তৃণমূল ছেড়েছিলাম।”
তিনি আবারও অভিযোগ করেন, “মালদহের মানুষ তৃণমূলকে ঘৃণা করে, কারণ তারা চোর।” অধিকারী দাবি করেন যে, গত সাধারণ নির্বাচনে এই অঞ্চলে কোনও বিধানসভা আসনে তৃণমূল জিততে পারেনি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মানুষের জন্য উন্নত কল্যাণমূলক প্রকল্প আনা হবে এবং তৃণমূল ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুজব ছড়াচ্ছে বলে সেটিকে তিনি নস্যাৎ করেন।





