জয়দেব মেলার আগে স্বস্তি, দুর্গাপুরে শুরু অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ
জয়দেব মেলার ঠিক আগেই স্বস্তির খবর মিলল বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর থেকে। দীর্ঘদিনের দাবি, বিক্ষোভ ও অবরোধের পর অবশেষে অজয় নদীর উপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলো কাঁকসার বিদ বিহার এলাকায়। বুধবার সকাল থেকেই বিদ বিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের তদারকিতে জেসিবি দিয়ে দ্রুতগতিতে চলছে সেতু নির্মাণের কাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাঁকসার বিদ বিহারের নবগ্রাম থেকে জয়দেব মেলায় যাতায়াতের জন্য এই অস্থায়ী সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর জয়দেব মেলাকে কেন্দ্র করে এই এলাকার বহু মানুষ ব্যবসা ও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। সেতু না থাকায় নদী পারাপার কঠিন হয়ে পড়ছিল, যার জেরে শুধু যাতায়াতই নয়, এলাকার মানুষের রুজি-রুটিতেও বড়সড় প্রভাব পড়ছিল।
ফেরিওয়ালা সেজে সোনার দোকানে ডাকাতি, মুর্শিদাবাদ পুলিশের জালে ‘বদাউন’ গ্যাং
এই সমস্যার সমাধানের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছিল। অস্থায়ী সেতুর দাবিতে বিক্ষোভ ও অবরোধে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বিদ বিহার ও সংলগ্ন অঞ্চল। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
এলাকার বাসিন্দা নন্দদুলাল গরাই, কাঞ্চন চট্টোপাধ্যায় ও নরহরি মাঝি বলেন, “এই রাস্তা ও সেতু আমাদের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে। এতদিন অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে। এখন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুবই খুশি।”
বিদ বিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য স্বপন সূত্রধর জানান, মানুষের ক্ষোভ থেকেই প্রতিবাদ তৈরি হয়েছিল। তবে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কথা রেখেছে। তিনি বলেন, “রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার এবং স্থানীয় বিধায়ক নেপাল ঘড়ুই-এর উদ্যোগেই অজয় নদীর উপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর জন্য আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে, যাতে জয়দেব মেলার আগে সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্বাভাবিক করা যায়। সেতু চালু হলে বিদ বিহার ও আশপাশের গ্রামের মানুষ যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্যও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়নে এলাকায় এখন স্বস্তির পরিবেশ। মানুষজন আশা করছেন, ভবিষ্যতে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দিকেও প্রশাসন নজর দেবে।





