নিজের একবার বা দু’বার নয়, টানা চারবার বাইপাস সার্জারি করিয়েও তিনি এখনও নিয়মিত অন্যের চিকিৎসা করে চলেছেন।
বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা। তবুও যেন হার না মেনে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন চিকিৎসক শ্রায়ণ ঘোষ। এখন তিনি জেডিয়াটিক মেডিসিন এর চিকিৎসক হিসেবে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত হলেও, আগামীতে জলপাইগুড়িতে পোস্টিং হয়েছে তাঁর। অ্যাপোলো হাসপাতালের কার্ডিওথোরাসিক বিভাগের সঙ্গেও তিনি জড়িত। চিকিৎসা করাতে আসা রোগীদের নানা সময়ে মনের জোর বাড়াতে, প্রেসক্রিপশন ওষুধের পাশাপাশি চিকিৎসক শ্রায়ণ ঘোষ তুলে ধরেন নিজের লড়াইয়ের কাহিনীও। বলেন, আমি যদি চারবার ওপেন হার্ট সার্জারির ধাক্কা সামলে বেঁচে থাকতে পারি, আপনি কেন পারবেন না!
তাঁর এই গল্প যেন রোগীদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয় সাহস ও আত্মবিশ্বাস। কথা বলে জানা যায়, ছাত্রজীবনেই তার ধরা পড়ে বিরল হৃদ্রোগ। ২০১২ সালে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় শ্রায়ণের প্রথম হার্টের জটিল সমস্যা ধরা পড়ে। হয় প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি। তখন পরীক্ষার আর মাত্র দেড় মাস বাকি। অস্ত্রোপচারের পর ক্রাচে ভর দিয়েই পরীক্ষা দেন শ্রায়ণ। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। ২০১২ সালের পরে আরও তিনবার — ২০১৪, ২০১৫ ও ২০২৩ সালে — তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। তবুও চিকিৎসা ও পড়াশোনাকে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন শ্রায়ণ। ২০১৩ সালে এমবিবিএসে সুযোগ পান। মাঝপথে ফের দুটি অস্ত্রোপচার সত্ত্বেও ২০১৮ সালে পাশ করেন। এরপর ২০২০ সালে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে এমডি কোর্সে ভর্তি হন। এমডি পাশ করার পর ২০২৩ সালে আবারও বুক কেটে হয় অস্ত্রপচার।





