বাম আমল থেকে ধ্বংসের পথে এই গ্রাম! তবে কোথায় রয়েছে এই গ্রামটি? জানতে পড়ূন

Newsbazar24:বাম আমল থেকে ধ্বংসের পথে গিয়েছে এই গ্রাম! তবে কোথায় রয়েছে এই গ্রামটি? কোন গ্রাম নিয়েই বা আজ আলোচনা হচ্ছে, জানাবো আপনাদের। আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকদিনের অপেক্ষা, এক কথায় চতুর্থ দফা লোকসভা নির্বাচনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সমস্ত রাজনৈতিক দলের। আগামী ১৩ ই মে বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রে হবে লোকসভা নির্বাচন। সেই লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে কি দাবি রাখছেন এই গ্রামের মানুষ। এই এলাকা থেকে যেই প্রার্থী জয়ী হোক না কেন কি চাইছেন তারা? কি চায় গ্রামের মানুষ? শোনাবো আপনাদের। বীরভূম জেলার ময়ূরেশ্বর দুই নম্বর ব্লকের অন্তর্গত কুন্ডলা গ্রাম, যে গ্রামে আজও কান পাতলে অনুভব করা যায় সেই জমিদারি প্রথার। গা ছমছমে পরিবেশ। এই গ্রাম ঘুরে দেখলে খুঁজে পাবেন আজও বুক চিরে দাঁড়িয়ে আছে বহু জমিদারের সেই বাড়ি। এই গ্রামেই রয়েছে সেই জমিদারদের ঐতিহ্যবাহী পিতলের রথ, তবে কোথায় রয়েছে এই কুণ্ডলা গ্রামটি ? সাঁইথিয়া রেলস্টেশন থেকে সাঁইথিয়া কাঁদি রাজ্য সড়ক হয়ে যেতে হবে আপনাকে প্রথমে বোখারিয়া বাস স্ট্যান্ড, আর সেখান থেকেই টোটো কিংবা অটোতে করেই খুব সহজে পৌঁছে যাবেন এই কুণ্ডলা গ্রাম। সাঁইথিয়ার রেল স্টেশন থেকেও সরাসরি আসতে পারেন টোটো তে কিংবা যে কোন গাড়িতে করেই মাত্র কুড়ি মিনিটের পথ এই কুণ্ডলা। তবে ভোটের মুখে কি চাহিদা রয়েছে গ্রামের মানুষের?
এ বিষয় নিয়ে আমরা সরাসরি কথা বলেছি গ্রামের মানুষের সাথে। এ বিষয়ে ওই গ্রামেরই এক বাসিন্দা প্রসেনজিৎ চট্টরাজ আমাদের জানান “বাম আমল থেকেই এই গ্রাম ধ্বংসের পথে চলে গিয়েছে। বাম আমলে যারা একটু মধ্যবিত্ত ছিল তারা সব শহরে চলে গিয়েছে, বাম আমলের অত্যাচারে। এই জমিদারি বাড়িগুলো এখন ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। আমি চাই এই বাড়িগুলো অন্ততপক্ষে সংরক্ষণ করে ঠিক করে দেওয়া হোক।”
তবে এই গ্রামের মধ্যেই রয়েছে গ্রামেরই আরাধ্য দেবী মা সর্বমঙ্গলা। আর এই মন্দিরে বছর ভর পূর্ণার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। আছে, নিত্য পুজোর ব্যবস্থা। বছরের বিভিন্ন সময় এই মন্দিরে কয়েক হাজার ভক্তদের সমাগমে দেওয়া হয় পূজো। তবে মন্দির তো আছে, হয়েছে কাজও। বিভিন্ন অনুদানে ও গ্রামের মানুষের উদ্যোগে সেজে উঠেছে এই মন্দির। সরকারি উদ্যোগে হাইমাক্স লাইট, শৌচালয়, আটচালা থেকে শুরু করে সাজানো হয়েছে বিভিন্নভাবে এই মন্দির চত্বর। তবে গ্রামের মানুষ চায় আরো উন্নয়ন। তাদের দাবি তৈরি করা হোক একটি যাত্রী নিবাস , ভিন্ন সাজে সেজে উঠুক এই সর্বমঙ্গলা মন্দির তৈরি করা হোক একটি পার্ক।
মূলত কুন্ডলা গ্রাম জমিদার গ্রাম হিসেবেই পরিচিত। ইতিহাসের পাতা খুঁজলে এই গ্রামের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, তবে কালেরক্রমে হারাচ্ছে এই গ্রামের ঐতিহ্য। ময়ূরেশ্বর দুই নম্বর ব্লকের কুণ্ডলা গ্রাম কয়েকশো বছর আগে সূচনা হয়েছিল । আর এই গ্রামেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রথ। রাঢ় ভূমের এই জেলায় ইতিহাসের পাতা উল্টালে যে কয়েকটি রথের অতীত-কথা পাওয়া যায়, কুন্ডলা গ্রামের পিতলের রথকথা তাদের মধ্যে অন্যতম। অতি প্রাচীন এই পিতলের রথের সূচনা করেছিলেন জমিদার কৃপাসিন্ধু মুখোপাধায়।এখানকার রথের সাবেকিয়ানার ধারা আজও অটুট। তবে অর্থ সহ কালের কবলে অনেকটাই জৌলুস হারিয়েছে জমিদার বাড়ির রথে। শোনা যায় এই রথে পিতলের বিভিন্ন কারুকার্য করে সাজানো থাকলেও, আজ সেই রথ সহ রথ বাড়ির হয়েছে ভগ্নদশা। চুরি গিয়েছে রথের বিভিন্ন অংশ! কালের স্রোতে মন্দির থেকে রথ সবই কিছুটা হলেও শ্রী হারিয়েছে। তবু সেই সাবেকিয়ানা, নিয়ম-নীতি ও নিষ্ঠায় আজও এতটুকু ভাটা পড়েনি। এ বিষয় নিয়ে কমলা মুখার্জী ও আলপনা মুখার্জি রা জানান, “রথ ঘরের এখন ভগ্ন অবস্থা। কোনরকমে ঠাকুরকে আমরা জল দি পূজার্চনা করি। আমরা চাই এই এলাকা থেকে এই নির্বাচনে যে প্রার্থী জয়ী হোক না কেন সে যেন আমাদের রথবাড়ির দিকে একটু নজর দেয়।”
তবে ভোট আছে ভোট যায়। এই পাঁচ বছরে এলাকায় কতটা হয়েছে উন্নয়ন। এ বিষয়ে কুন্ডলা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, দিদি আশাতে এলাকায় হয়েছে পানীয় জলের ব্যবস্থা, করা হয়েছে রাস্তাঘাট। সেজে উঠেছে গ্রামের বিভিন্ন জায়গা। কিন্তু কুন্ডলা গ্রামে পানীয় জলের ব্যবস্থা রাস্তাঘাট হয়েছে বটে আর এই গ্রামে যদি আরও কিছুটা জায়গায় রাস্তাঘাট ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে গ্রামের মানুষ আরো উপকৃত হতো।