Newsbazar24:বাংলাদেশে সাম্প্রতিক অশান্তির পেছনে ভারতকে দায়ী করেছেন সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য শাখার সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। নিজের ফেসবুক পোস্টে সেলিম উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ যদি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তাহলে সেটি ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের সুবিধা হবে ভারতকে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ বানানোর দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। তাই দুই পক্ষই তৃণমূল ও বিজেপি এই উদ্দেশ্যে বিদ্বেষের রাজনীতি করছে।
মহম্মদ সেলিম তার পোস্টে লিখেছেন, “৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করার জন্য লড়াই করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে সেই বাংলাদেশে ধর্মকে হাতিয়ার করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। জামাতে ইসলামি এবং অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো ধর্মের নামে রাজনীতি করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। আর সেই অস্থিতিশীলতা ব্যবহার করেই ভারতে সংখ্যালঘু বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের ভূমিকা নিয়ে মহম্মদ সেলিমের এই বিস্ফোরক মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এর উত্তরে এক ব্যক্তি লিখেছেন:
‘হিন্দুত্ব রাজনীতি তো চিরকালই পাকিস্তানি প্রবণতার বিরুদ্ধে তৈরী হওয়া একপ্রকার প্রতিক্রিয়ার শক্তি। আর এতে ঘি ঢেলেছে তথাকথিত সেকুলার ভেকধারী দলগুলি যারা চিরকাল সংখ্যালঘু সাম্প্রদায়িকতাকে প্রশয় দিয়েছে বা দেখেও না দেখার ভান করে থেকেছে।
মুসলিম লীগের আত্মনিয়ন্ত্রনের দাবীকে সমর্থন করে তৎকালীন সিপিআই দল যার ফলে পাকিস্তান প্রচেষ্টা শক্তি পায়।
আজও অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মতন সেকুলার আইন আনবার বিপক্ষে বাম দলগুলো, পাছে সংখ্যালঘু ভোট হারিয়ে যায়। হজে সাবসিডির বিরোধিতা কোনও বাম দল করেছে বলে জানিনা। বামেরা যতটা কাঁদেন ফিলিস্তিনি মানুষের জন্য, ওপার বাংলার হিন্দুদের ওপর অত্যাচারে তার সিকিভাগও দেখা যায় না।
এর ওপর আপনার সেই অদ্ভুত খেয়াল গতবার বিধানসভায় সংখ্যালঘু তোষন করতে গিয়ে এক মুসলিম মৌলবাদী দলের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা।
হিন্দুত্ব রাজনীতি তো এই সব মারাত্মক নীতির সুবিধা তুলবেই। স্বয়ং গান্ধীজির কংগ্রেস মেনে নিয়েছিল ধর্মের ভিত্তিতে ভারতভাগ যা পরোক্ষে ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিনত হওয়ারই নামান্তর’।
বর্তমান প্রজন্মের বাংলাদেশের এক যুবক লিখেছেন আমরা যে এতদিন ধরে বলছি, ভারত বাংলাদেশের সুস্থিতি নষ্ট করছে। তা কিন্তু ভারতের বামপন্থী নেতা মোঃ সেলিমের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হল।



