Newsbazar24:সব খেলার সেরা, বাঙালির তুমি ফুটবল— ঠিক সেই আবেগই যেন আবারও ছড়িয়ে পড়ল বাঁকুড়ার এক প্রান্তিক গ্রামের মাঠে।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন— “গীতা পড়ার চেয়ে ফুটবল খেলা অনেক ভালো।” আজ মোবাইল গেমে ডুবে থাকা যুবসমাজকে বাস্তব লড়াই, ঘামের গন্ধ, শক্ত মাটির স্পর্শে ফেরাতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল এই ফুটবল টুর্নামেন্ট—তা যেন দু’মাসের মধ্যে পরিণত হলো এক উৎসবে।
বাঁকুড়া জেলার শেষ সীমানার এক প্রান্তিক গ্রাম—যেখানে সুযোগ-সুবিধা শহরের মতো নয়, সেখানে খেলার প্রতি এতো ভালোবাসা, এতো উৎসাহ—দেখলে মন ভরে যায়। মাঠের চারপাশে ছোটো-বড়ো, ছেলে-মেয়ে, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা—সবাই যেন একটাই ভাষায় কথা বলছিলেন, ফুটবলের ভাষায়।
রবিবার ইন্দাস থানার অন্তর্গত বাগলপুর ইয়াংস্টার ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো ১৬ দলীয় নক-আউট ফুটবল টুর্নামেন্টের মহা ফাইনাল।
মাঠজুড়ে সাজ সাজ রব, ঘণ্টাখানেক আগেই ভিড়ে ভরে যায় চারদিক। আকাশে উড়ল পায়রা, উড়ল গ্যাস বেলুন, উঠল ফানুস—যেন আনন্দ, ঐক্য আর মানবতার বার্তা নিয়ে আকাশও আজ উৎসবে যোগ দিল।
ফাইনাল লড়াইয়ে মুখোমুখি হলো বাঁকুড়া দীপ একাদশ বনাম নতুহরপুর এফসি। ম্যাচের প্রথম থেকেই ছিল উত্তেজনা, প্রতিটি পাস, প্রতিটি আক্রমণ দর্শকদের হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত নতুহরপুর এফসি ১–০ গোলে জয় লাভ করে। গোলদাতার নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে উৎসবের ঢেউ বয়ে যায়।

জয়ী দলকে নগদ ১২ হাজার টাকা ও সুদৃশ্য ট্রফি এবং রানার্স দলকে ৮ হাজার টাকা সহ ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। ট্রফি হাতে নিয়ে খেলোয়াড়দের চোখেমুখে যে গর্ব, যে আনন্দ—তা সত্যিই অমূল্য।
পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদেরও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশুরা উচ্ছ্বাসে দৌড়োচ্ছিল, কেউ পতাকা নেড়েছে, কেউ ঢাক বাজিয়েছে—পুরো গ্রাম যেন এক হয়ে উঠেছিল এই ফুটবল উৎসবকে কেন্দ্র করে। এদিনের েখেলায় উপস্থিত ছিলেন, ইন্দাস পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মোল্লা নাসের আলী, শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ আতাউল হক, আকুই ফাঁড়ির ইনচার্জ হায়দার আলী, দিঘলগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শুভ্রা মজুমদার।
ক্লাবের সেক্রেটারি শান্তনু পণ্ডিত জানান—“এই টুর্নামেন্ট শুধু খেলা নয়, এটা আমাদের গ্রামের মানুষের মিলনমেলা। যুবসমাজকে ভুল পথে না গিয়ে মাঠে ফিরিয়ে আনার জন্যই এই আয়োজন।”
গ্রামের মানুষেরা বলছেন
এ যেন শুধু একটি ফাইনাল ম্যাচ নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলার আবেগকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার দিন।মোবাইলের স্ক্রিন নয়—আজ মাঠের ঘাস, বলের শব্দ আর মানুষের উল্লাসই ছিল সবার আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু।
ফুটবল আবার প্রমাণ করল—যেখানে খেলা আছে, সেখানে মানুষ আছে। যেখানে মানুষ আছে, সেখানে আনন্দ, ঐক্য আর স্বপ্ন আছে।





