Newsbazar24:মালদহের মানিকচক ব্লকে এর আগে বন্যাত্রাণের ত্রিপল-ত্রাণ চুরির অভিযোগ উঠেছিল। সেই ইসু কে কেন্দ্র করে ব্লক স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত অভিযোগ পৌছেছিল। অভিযোগ ছিল শাসকদল পরিচালিত পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে, যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল তারা।
আবারো মানিকচক ব্লকে ভুতনি এলাকায় বন্যা বিধ্বস্ত
অভূক্ত বানভাসীদের জন্য বরাদ্দ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ। টাকার পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা। বেশ কয়েক বারে ভুয়ো বিল বানিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। ঘটনাটি নিযে তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, পঞ্চায়েতের নির্বাহী সহায়ক সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঐ পঞ্চায়েতেরই ১৩ জন তৃণমূল সদস্যের। ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে জেলা শাসক, মহকুমা শাসক, বিডিওর কাছে। জেলা শাসকের নির্দেশে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি মালদার মানিকচকের ভূতনির উত্তর চণ্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের। তৃণমূল পরিচালিত উত্তর চণ্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অর্চনা মণ্ডল ও এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট তথা নির্বাহী সহায়ক বাসুদেব মণ্ডল মিলে বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। টাকা তছরুপে জড়িত পঞ্চায়েতের আরও কয়েকজন সরকারি কর্মী ও কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্যও বলে অভিযোগ।
গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সহ ১৩ জন তৃণমূল সদস্য এবং বিরোধী তিনজন মোট ১৬ জন পঞ্চায়েত সদস্য প্রধানের বিরুদ্ধে শুধু ব্লক ও জেলা প্রশাসনকে অভিযোগ জানাননি, পাশাপাশি পঞ্চায়েত প্রধান, এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ছয়টি ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তারা।
বিগত বছরে পরপর দু’দফার বন্যা কবলিত ভূতনি থানা এলাকা। বন্যার কবলে জমির ফসল, ভিটেমাটি সর্বস্ব হারিয়েছেন ভূতনিবাসীরা। চরম দুর্দশায় ছিলেন উত্তর চণ্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ। অভিযোগ, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছে উত্তর চণ্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। সামান্য কিছু টাকা খরচ করেই দেড় কোটি টাকার ভুয়ো বিল বানিয়ে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।
এর প্রতিবাদে ভূতনি থানা, মানিকচকের বিডিও, মালদা জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন উত্তর চণ্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের উপপ্রধান নাসির শেখ সহ তৃণমূলের ১৩ জন, কংগ্রেসের দুজন ও বিজেপির একজন সদস্য। গত মার্চ মাসে তাঁরা দ্বারস্থ হন উচ্চ আদালতের। আদালত মানিকচকের বিডিওকে তিন মাসের মধ্যে এই ঘটনার সম্পর্কিত তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেন। এই ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছেন প্রধান। তবে অভিযুক্ত নির্বাহী সহায়ক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উপপ্রধান নাসিম শেখ বলেন, “বিগত দিনে বন্যাত্রানে হয়েছিল। ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল। তার মধ্যে খরচ হয়েছে ৬০ লক্ষ টাকা। বাকি ৪৫ লক্ষ টাকা প্রধান আত্মসাৎ করেছেন। আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদেরকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে বলেন, আমি যেটা করব সেইটাই হবে। এরপর আমরা বিডিওকে লিখিত অভিযোগ করি। পাশাপাশি হাইকোর্টেও অভিযোগ জানিয়েছি।
অপর অভিযুক্ত উত্তর চণ্ডিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কার্যনির্বাহী সহায়ক বাসুদেব মণ্ডল বলেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ। জেলা প্রশাসনের নির্দেশানুযায়ী কাজ করা হয়েছে।






