নতুন বছরেই তামাকজাত পণ্যে বড় ধাক্কা: কেন এত দাম বাড়ছে পান, বিড়ি, সিগারেট? বিস্তারিত বিশ্লেষণ
নতুন বছর শুরু হতেই সাধারণ মানুষের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা স্পষ্ট। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে পান, বিড়ি, সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে চলেছে। এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে কর কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে বাজারদরে।
কী বদল হচ্ছে কর ব্যবস্থায়?
এতদিন তামাকজাত পণ্যগুলিকে ‘সিন গুডস’ হিসেবে ধরা হতো এবং জিএসটির পাশাপাশি বসত কমপেনসেশন সেস। এবার সেই সেস পুরোপুরি তুলে নেওয়া হচ্ছে। তার বদলে জিএসটির উপর বসছে নতুন অতিরিক্ত শুল্ক ও আবগারি কর। অর্থ মন্ত্রক সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই পরিবর্তন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংসদের দুই কক্ষ—লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাশ হওয়া দুটি নতুন বিলের ভিত্তিতেই কার্যকর হচ্ছে।
শীতে তুলসি গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে? এই ৫টি নিয়ম মানলেই গাছ থাকবে সবুজ ও ঝরঝরে
কোন পণ্যে কত কর বসছে?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী—
পান মশলা, সিগারেট ও তামাকজাত পণ্য: ৪০% জিএসটি
বিড়ি: ১৮% জিএসটি
পান মশলা: জিএসটির পাশাপাশি বসবে স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তা সেস
চিবানো তামাক: শুল্ক ২৫% থেকে বেড়ে সরাসরি ১০০%
হুক্কা তামাক: ৪০% শুল্ক
স্মোকিং মিক্সচার: আগে যেখানে ৬০% ছিল, তা বেড়ে ৩০০%
এছাড়াও জর্দা ও গুটখা প্যাকেট তৈরিতে ব্যবহৃত প্যাকিং মেশিনের উপরেও আলাদা করে শুল্ক বসানো হচ্ছে, যা উৎপাদক সংস্থাগুলির খরচ আরও বাড়াবে।
ফেরিওয়ালা সেজে সোনার দোকানে ডাকাতি, মুর্শিদাবাদ পুলিশের জালে ‘বদাউন’ গ্যাং
সিগারেটের দামে কেন সবচেয়ে বড় লাফ?
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসছে সিগারেটের ক্ষেত্রে।
আগে প্রতি ১,০০০ সিগারেট স্টিকে আবগারি শুল্ক ছিল ২০০ থেকে ৭৩৫ টাকার মধ্যে
নতুন নিয়মে তা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ২,৭০০ থেকে ১১,০০০ টাকা
এই বিপুল কর বৃদ্ধির বোঝা শেষ পর্যন্ত এসে পড়বে ভোক্তার ঘাড়েই।
বাজারে এর প্রভাব কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে—
৭০ টাকার সিগারেট প্যাকেট পৌঁছতে পারে প্রায় ১০০ টাকায়
১০ টাকার পান মশলা বেড়ে হতে পারে ১৪–১৫ টাকা
যে সিগারেটের প্রতি পিসের দাম ১৮ টাকা, সেটি একধাক্কায় ৭০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে
অর্থাৎ, দৈনন্দিন অভ্যাস হিসেবে যাঁরা এই পণ্যগুলি ব্যবহার করেন, তাঁদের মাসিক খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে।
সরকারের যুক্তি কী?
সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই কঠোর কর নীতির পেছনে তিনটি মূল উদ্দেশ্য—
তামাক সেবন কমানো এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষা
ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমাতে মানুষকে নিরুৎসাহিত করা
কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তামাকের অভ্যাস থেকে দূরে রাখাই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
শেষ কথা-
সব মিলিয়ে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে তামাকজাত পণ্যের উপর করের নতুন কাঠামো কার্যকর হলে ধূমপায়ী ও পান-মশলা ব্যবহারকারীদের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সরকারের আশা, দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবহার কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।
👉 এখন দেখার, এই মূল্যবৃদ্ধি সত্যিই অভ্যাস বদলাতে পারে কি না, নাকি বাজারে তৈরি হবে বিকল্প ও অবৈধ পণ্যের নতুন চাহিদা।





