news bazar24: পৃথিবীর বহু দেশের জীববৈচত্ত্র নানান ধরনের হয়ে থাকে। আবার এমনও কিছু জায়গা আছে যেখানে নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির প্রাণী বা উদ্ভিদ দেখতে পাওয়া যায়। আবার কখনো সেটাও যায় না। সাধারণত গাছপালা ও প্রাণী-পতঙ্গের ক্ষেত্রে অতটাও নজর পড়ে না। কিন্তু শুনলে আপনার আশ্চর্য লাগা অস্বাভাবিক নয় যে, সাপের মতো এত বহুল পরিচিত সাধারণ এক সরীসৃপও কোনো কোনো দেশে দেখা পাওয়া যায় না! যেমন আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড যেখানে সাপের অস্তিত্ব ও পাওয়া খুবই দুর্লভ হয়ে ওঠে।
সাপ নিউজিল্যান্ডের একটি স্থায়ী আদি প্রাণী নয়। কখন ও কখনও জাহাজের মারফতেও সাপ চলে আসে। তবে তাদের দেখা পাওয়া গেলেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তা ছাড়া নিউজিল্যান্ডের শীতার্ত আবহাওয়াও সাপের পক্ষে ততটা অনুকূল নয়, তাই তাদের বসবাস বা প্রজনন এখানে সেভাবে সম্ভব হয় না।
আমরা সকলেই জানি যে, আয়ারল্যান্ডে সাপ দেখা য়ায় না ,আয়ার ল্যান্ড একটি সর্পহীন যুক্ত জায়গা। কেন দেখা য়ায় না তার দুটি কারণ নিম্নরূপ…………..!
সেদেশের কোনোও এক কিংবদন্তি বলেছেন পেগানিজম থেকে ক্রিশ্চিয়ানিটিতে বদলের সময়-পর্বে আয়ারল্যান্ডের সেন্ট প্যাট্রিক পাঁচের শতকেই আয়ারল্যান্ডকে সর্পহীন করে দিয়েছিলেন তিনি। কথিত আছে, সেন্ট প্যাট্রিক পাহাড়ের মাথায় একটা ৪০ দিনের উপবাস পালন করেছিলেন। সেই সময়ে সাপেরা নাকি তাঁকে খুব বিরক্ত করত। তিনি রেগে গিয়ে সাপেদের আইরিশ সমুদ্র পর্যন্ত তাড়া করেছিলেন ,তার পর থেকে আর আয়ারল্যান্ডের দ্বীপে কখনও সাপ দেখা যায়নি বলে যানা যায়।
কিন্তু বৈজ্ঞানিক রা তো আর এই গল্পকে বা বিশ্বাসকে মান্যতা দিতে পারে না তাঁরা বলছেন, এই গ্রহের শেষতম বরফযুগ কেটেছে আজ থেকে প্রায় ১৫০০০ বছর আগে। তার পর থেকে কোনও কোনও অঞ্চলে আবহাওয়া মোটামুটি অপরিবর্তনশীল অবস্থাতেই থেকে গিয়েছিল। এরকম অবস্থায় আয়ারল্যান্ড ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে পৃথক হয়ে যায়। এর ফলে দুই ভূখণ্ডের মাঝে ১২ মাইল দীর্ঘ জল-অঞ্চলের উৎপত্তি হয়। আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মাঝে তৈরি হয় নর্থ চ্যানেল। ফলে, সাপেদের পক্ষে ওই প্রতিকূল পরিবেশ খাপ খাওয়ানো ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে টিকে থাকাটা ক্রমশ কঠিন পরেছিল সাপেদের পক্ষে। যার ফলে, আয়ারল্যান্ডের মাটিতে কমতে লাগে সাপের সংখ্যা।

