আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রচলন দুই বঙ্গের হিন্দু ঘরে ঘরে । সেই মত এ বছর কোজাগরী পূর্ণিমা পড়েছে
আগামী ১৬ অক্টোবর বুধবার রাত ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে আর পূর্ণিমা শেষ হচ্ছে ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে ৫০ মিনিট পর্যন্ত ।
যাঁরা রাতে পুজো করবেন, তাঁরা ১৬ তারিখ রাতেই পুজো করতে পারেন। কারণ ১৬ তারিখেই হবে রাত্রি জাগরণ।
news bazar24 : প্রতি বছর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দেবী লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। এ বছর ১৬ ও ১৭ অক্টোবর লক্ষ্মী পূজা। লক্ষ্মী দেবী তার ভক্তদের ধন ও সমৃদ্ধি দিয়ে আশীর্বাদ করেন এবং অলক্ষ্মীর বাজে প্রভাব থেকে মুক্তি দেন। ভাগবত পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ এবং ব্রহ্মা পুরাণ অনুসারে, ঋষি ভৃগুর স্ত্রী খ্যাতির গর্ভে লক্ষ্মীর জন্ম। অন্য দিকে শতপথ ব্রাহ্মণে ব্রহ্মা থেকে লক্ষ্মীর উৎপত্তির উল্লেখ পাওয়া যায়। । অর্দ্র, গজশুণ্ডগ্রাবতী, পশুরূপা, পিঙ্গলবর্ণ, পদ্মমালিনী, চন্দ্রভাবা, হিরণ্ময়ী, ষষ্ঠীহস্ত, সুবর্ণা, হেমমালিনী, সূর্যভা ইত্যাদি নানা নামে লক্ষ্মীকে সম্বোধন করা হয়। বাংলার ঘরে ঘরে এদিন মাটির মূর্তি, সরা, কুলো ইত্যাদি বিভিন্ন রূপে লক্ষ্মীর পূজা করা হয়।
তবে ঘরে ঘরে এইদিন লক্ষ্মী পুজো থাকার জন্য পুরোহিত পাওয়া খুব চাপের হয়ে যায় , অনেকেই চিন্তায় থাকেন পুরহিত পাওয়া নিয়ে । তাই আমাদের এই প্রতিবেদন ,” পুরোহিত ছাড়া বাড়িতে কীভাবে করবেন লক্ষ্মী পুজো ? ”
জেনে নিন বিস্তারিত –
1. প্রথমে যারা পূজা করবেন বা পুজোর ঘরে বসবেন তাদের চারিদিকে এবং মাথায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন।
2. এরপর পূজা শুরু করুন নারায়ণকে স্মরণ করে । কারন নারায়ণ কে অসম্মান করলে লক্ষ্মী দেবী ক্রোধিত হন ।
3. পুজোর জায়গায় তামার পাত্রে জল রাখুন। সূর্যকে এই জল নিবেদন করতে হয়। তামার পাত্রে জল ঢালতে গিয়ে সূর্যের কথা মনে করুন।
4. মাটির একটি বৃত্ত চ্যাপ্টা করুন এবং এটিতে পাত্রটি রাখুন। ঘটনা সামনে রেখে ভাত ছড়িয়ে দিতে হবে।
5. সিঁদুর দিয়ে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকুন।
6. এবার গঙ্গার জল ভরে তাতে আম্রপল্লব রাখুন। আম পাতায় তেল ও সিঁদুরের ফোঁটা লাগান। পাতায় হরিতকি, ফুল, দূর্বা রাখুন।
7. পাত্র রাখার পর ধ্যান মন্ত্রের সাথে লক্ষ্মীকে প্রণাম করুন। মন্ত্রটি হল-
মন্ত্রটি হল-
ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ সৃণিভির্যাম্য সৌম্যয়োঃ।
পদ্মাসনাস্থাং ধায়েচ্চ শ্রীয়ং ত্রৈলোক্য মাতরং।।
গৌরবর্ণাং স্বরূপাঞ্চ সর্বালঙ্কারভূষি তাম্।
রৌক্নোপদ্মব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।
যদি এই মন্ত্রটি ভুল উচ্চারণ করবেন না , যদি মনে হয় উচ্চারণ করতে সমস্যা হচ্ছে ,তবে নিজের মন থেকে বলুন মা আমি নিয়ম বিধি জানিনা ,আমার পুজো গ্রহণ করো মা, এই বলে প্রণাম করুন।
8. এবার লক্ষ্মীকে আহ্বান করুন । হাত জোর করে লক্ষ্মীকে স্মরণ করে বলুন, এসো মা লক্ষী, বসো আমার ঘরে । আমার এই সামান্য আয়োজন, নৈবেদ্য গ্রহণ করো মা।’
9. এর পর লক্ষ্মীর পা ধুতে হবে। আল্পনা দিয়ে আঁকা লক্ষ্মীর পায়ে ও ফটো বা
মূর্তির পায়ে জল ছিটিয়ে দিন।
10.এবার আপনার স্থাপন করা ঘটে আতপ চাল, দূর্বা, ফুল ও চন্দন দিন এরপর একে একে লক্ষ্মী দেবীর উদ্দেশ্যে জোগাড় করা সব কিছু নিবেদন করুন লক্ষ্মীকে।
11. ফল, মিষ্টি ভোগ ইত্যাদি নিবেদন করুন। নারকেল ছোবার ধূপ দেখান।
12. সব কিছু নিবেদনের পর পুষ্পাঞ্জলি দিতে হবে। হাতে ফুল নিয়ে পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র জপ করে তিনবার অঞ্জলি দিতে হবে।
মন্ত্রটি হল-
নমস্তে সর্বদেবানাং বরদাসি হরিপ্রিয়ে।
যা গতিস্তং প্রপন্নানাং সা মে ভূয়াত্বদর্চবাৎ।।
13. এর পর লক্ষ্মীর বাহনকেও ফুল অর্পণ করে নারায়ণকে স্মরণ করুন। এবার ইন্দ্র ও কুবেরের স্মরণে ঘটে ঘটে ফুল দিন । তারপর লক্ষ্মীকে প্রণাম করুন।
14. সবশেষে লক্ষ্মীর পাঁচালী পড়ুন এবং পূজা সম্পূর্ণ করুন।
লক্ষ্মী পূজায় ঘণ্টা বা কাঁসর বাজাবেন না। এতে লক্ষ্মী অসন্তুষ্ট হন। শুধু শেশাঁখ বাঁজাবেন
লক্ষ্মীকে তুলসী পাতা দেবেন না।
লোহার পাত্র ব্যবহার করবেন না।
কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা সাধারণত সন্ধ্যায় করা হয়। তবে অনেকেই সকালে তা করেন।
শ্রীলক্ষ্মী পূজার আরও কিছু মন্ত্র দেওয়া হলো । সকাল ৯টার মধ্যে পুজো করে নেবার চেষ্টা করুন –
লক্ষ্মীর স্তোত্র-
লক্ষ্মীস্তং সর্বদেবানাং যথাসম্ভব নিত্যশঃ।
স্থিরাভাব তথা দেবী মম জন্মনি জন্মনি।।
বন্দে বিষ্ণু প্রিয়াং দেবী দারিদ্র্য দুঃখনাশিনী।
ক্ষীরোদ সম্ভবাং দেবীং বিষ্ণুবক্ষ বিলাসিনীঃ।।
শ্রী শ্রী লক্ষ্মীর স্তোত্রম্
ত্রৈলোক্য পূজিতে দেবী কমলে বিষ্ণুবল্লভে।
যথাস্তং সুস্থিরা কৃষ্ণে তথা ভবময়ি স্থিরা।।
ঈশ্বরী কমলা লক্ষ্মীশ্চলা ভূতি হরিপ্রিয়া।
পদ্মা পদ্মালয়া সম্পদ সৃষ্টি শ্রীপদ্মধারিণী।।
দ্বাদশৈতানি নামানি লক্ষ্মীং সম্পূজ্য যঃ পঠেত।
শ্রী শ্রী লক্ষ্মীর প্রণাম মন্ত্র
ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে।
সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমোস্তুতে।
ভুলে গেলে চলবে না কিন্তু—





