নিউজ বাজার২৪ ডেস্ক ঃ কলকাতা হাই কোর্টে এক অস্বাভাবিক আইনি প্রশ্ন ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত মামলাগুলির শুনানি পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ থেকে কীভাবে ডিভিশন বেঞ্চে স্থানান্তরিত হল—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে এদিন এ সংক্রান্ত ১৪টি মামলার শুনানি হয়। এর মধ্যে হিংসার শিকারদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে দায়ের করা একটি মামলাও ছিল। ওই মামলায় আবেদনকারী ও আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা তিব্রেওয়াল শুনানির আবেদন জানালে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন—যে মামলা পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি হয়ে রায় ঘোষিত হয়েছে, তা নতুন কোনও নির্দেশ ছাড়াই কীভাবে ডিভিশন বেঞ্চে ফের পাঠানো যেতে পারে?
মালদা জেলা পুলিশের অভিযানে ৫ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি আইনজীবীরা
এই প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে না পারায় ডিভিশন বেঞ্চ আদালতের রেজিস্ট্রিকে অনুরোধ করেছে, যাতে আগামী দিনে এই বিষয়ে আদালতকে দিকনির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের আইনজীবীদেরও এতদিনে দেওয়া সমস্ত রায় ও নির্দেশ সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। এই কারণে মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে সংঘটিত হিংসার অভিযোগগুলির শুনানির জন্য তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করেছিলেন। ওই বেঞ্চ থেকে সিবিআই তদন্ত, ক্ষতিপূরণসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৩ সালে ফের শুরু হয় শুনানি
২০২৩ সালে হঠাৎ করেই তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি পুনরায় শুরু হয়। ২০২১ সালের নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বাড়িঘরে ভাঙচুর, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, ভয় দেখানো এবং মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের আঙুল ওঠে শাসকদলের কর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে, যাঁরা নাকি বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালিয়েছিলেন।
এই প্রেক্ষাপটে, মামলার শুনানি কোন বেঞ্চে হওয়া উচিত—তা নিয়ে ফের আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।





