Newsbazar24:মালদহের জনপ্রিয় তৃণমূল নেতা ও ইংরেজবাজার পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দুলাল সরকারের (বাবলা)খুনে আরও ১ জনকে গ্রেফতার করল জেলা পুলিশ। এই নিয়ে গ্রেপ্তারির সংখ্যা দাঁড়ালো ৩। এর আগে বৃহস্পতিবার দুই অভিযুক্ত ধরেছিল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে ধৃতদের নাম মোহাম্মদ সামি আক্তার(২০) বিহারের কাটিহার জেলার বাসিন্দা, টিংকু ঘোষ(২২) মালদহের ইংলিশ বাজার থানার যদুপুর গাব গাবগাছির বাসিন্দা, অপরজনের নাম আব্দুল গনি(২০), বিহারের কাটিহার জেলার সালমারি বাসিন্দা। এদিন ধৃত তিনজনকে জেলা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী আদালত ধৃতদের ১৪ দিন জেলা হেফাজতের আদেশ দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ঘটনার তদন্তে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে বিহার যোগ। বিহার থেকে সুপারিকিলার আনা হয়েছিল। তৃণমূল নেতৃত্ব সহ পরিবারের আশঙ্কা বিরাট ষড়যন্ত্র রয়েছে পেছনে। এ বিষয়টি মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে জানিয়েছেন দুলাল সরকারের সহধর্মিনী চৈতালি ঘোষ সরকার।
শুক্রবার সকালে দুলাল সরকারের মরদেহ মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ইংরেজবাজারের মহানন্দাপল্লীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জেলা তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এবং ইংরেজবাজার পুরসভার পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী।নেতার শেষযাত্রায় কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়।

অনেকে রাস্তা দু’ধারে দাঁড়িয়েছিলেন নেতাকে শেষ দেখার জন্য। সেখান থেকে তার মরদেহ ভবানীমোরে তার নিজস্ব অফিসে আনা হয়। সেখানেও কাতারে কাতারে মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
দুপুরে তৃণমূলের পার্টি অফিসে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর
মৃত বাবলা সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। এরপর ইংরেজবাজার পুরসভাতেও একইভাবে নিয়ে আসা হয় তৃণমূল নেতার মরদেহ। এদিন বাবলা সরকারের মৃতদেহ প্রতি শ্রদ্ধা জানান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা তৃণমূলের পদস্থ নেতারা। এদিন সকালে বাড়ির সামনে, ইংলিশ বাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দ চৌধুরী বিস্ফোরক অভিযোগ করেন, এই খুনের জন্য ভাড়াটে খুনিদের ১০ লক্ষ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল। তিনি আরো জানান, পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং মোট ছ’জনের মধ্যে একজন পালিয়ে গিয়েছে।
প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবার সকালে দুলাল সরকার ইংরেজবাজার শহরের ঝলঝলিয়ায় তাঁর প্লাইউড কারখানার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অভিযোগ,চার দুষ্কৃতী তাঁকে ল গুলি চালায়। একটি গুলি তাঁর মাথার কাছে লাগে। তাঁকে সঙ্কটজনক অবস্থায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হলেও, সেখানেই মৃত্যু হয়।
দুলালের হত্যাকাণ্ডে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং সাবিনা ইয়াসমিন মালদহে পৌঁছান।



