Newsbazar24:গুজরাটের আমেদাবাদের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় দেশবাসী শোকস্তব্ধ। দুর্ঘটনার ভয়াবহতা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। বিমানের সব যাত্রী মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে,কারন যেভাবে বিমানটি বহুতলে গিয়ে ধাক্কা মেরে ভস্মীভূত হয়েছে। সেখানে কোন যাত্রীর বেঁচে থাকা সম্ভব নয় কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে এক যাত্রীর বেঁচে থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে।
আহমেদাবাদের আসারওয়া সিভিল হাসপাতালের জেনারেল বেড়ে শুয়ে এক যুবক দাবি করেছেন, তিনিও ওই বিমানে ছিলেন।
সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে , বছর ৪০-এর বিশ্বাস কুমার রমেশ জানিয়েছেন, তিনি ওই বিমানেই ছিলেন। বেঁচে গিয়েছেন বরাত জোরে। ওই বিমানে ছিলেন, তাঁর ভাইও।
যুবকের এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের টিকিটের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। বুকে, চোখে এবং শরীরের একাধিক জায়গায় তাঁর গভীর ক্ষত। সর্বভারতীয় ওই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ওই যুবক জানিয়েছেন, উড়ানের কয়েক সেকেণ্ড পরেই নাকি বিকট শব্দ শোনা যায়। তারপরেই ভেঙে পড়ে বিমানটি।
সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থা আরও জানিয়েছে,মাটিতে আছড়ে পড়ার প্রাক মুহূর্তে ওই যাত্রী বিমানের একটি জরুরি দরজা খুলে বাইরে লাফিয়ে পড়েন। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে। তখন বিমানটি মাটি থেকে মাত্র কয়েকশো ফুট উপরে ছিল।
দুর্ঘটনা স্থল থেকে বেশ কিছু দূরে একটি ছোট জলাভূমির কাছে গুরুতর আহত অবস্থায় রমেশকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধারকারী দল গুরুতর আহত রমেশকে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের একাধিক হাড় ভেঙেছে, ফুসফুসে আঘাত লেগেছে এবং মাথায় গভীর ক্ষত রয়েছে। তবে তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর জ্ঞান ফিরলে দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্তের সম্পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গুজরাত পুলিশ কমিশনার এই ঘটনায় সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে গুজরাত পুলিশ তার তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে।
যদিও ওই যুবক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, জ্ঞান ফিরে তাকিয়ে দেখেন চারদিকে শুধু ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেহ, হাহাকার। সেখান থেকে দৌড়ে চলে যান তিনি। তিনি জানিয়েছেন প্রায় ২০ বছর ধরে লন্ডনেই রয়েছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী পুত্র এখনও সেখানেই রয়েছেন। জ্ঞান ফিরে তিনি আর ভাইকে কোথাও খুঁজে পাননি বলেও জানিয়েছেন।
এখন রমেশের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে পুরো দেশ। তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন সবাই। জানতে চান বিমান ভেঙে পড়ার আগের মুহূর্তের অবস্থা। রমেশের বক্তব্য থেকেও বিমান দুর্ঘটনার সূত্র পাওয়া যেতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।





