Newsbazar24 :দিল্লির লাল কেল্লায় গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে চাঞ্চল্যকর তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে। জানা গেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদে অবস্থিত আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটি থেকে ১০ জনেরও বেশি ছাত্র ও কর্মী হঠাৎ করেই নিখোঁজ। নিখোঁজদের মধ্যে তিন জন কাশ্মীরি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আশঙ্কা এই ব্যক্তিরা ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’-এর অংশ হতে পারে। এদের খোঁজে তদন্তকারী সংস্থা বিভিন্ন জায়গায় জাল ফেলেছে।
সূত্রে জানা গেছে আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ডাক্তার এবং অধ্যাপক জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দ -এর মতো জঙ্গি সংগঠনের সাথে যোগসূত্র রাখতেন। জম্মু-কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশ এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ করছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিখোঁজদের সম্পূর্ণ তালিকা নিয়েছে। জানা গেছে, দিল্লি বিস্ফোরণের পর থেকেই এই ব্যক্তিরা আর কারও সাথে যোগাযোগ করেননি।
এদিকে ইডির তদন্তে ৪১৫ কোটি টাকার জালিয়াতি:
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট মানি লন্ডারিং মামলায় আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জাভেদ আহমেদ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করেছে।দিল্লি পুলিশের এফআইআর-এর ভিত্তিতে ইডি পিএমএলএ -এর অধীনে মামলা করেছে। ইডি আদালতকে জানিয়েছে, সিদ্দিকীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ অনেকেই উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসতি স্থাপন করেছেন, তাই তিনি ভারত থেকে পালিয়ে যেতে পারতেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ভুয়া অনুমোদন দেখিয়ে ছাত্রদের কাছ থেকে ৪১৫ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক প্রতারণা হয়েছে। ২০১০-১১ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত কোটি কোটি টাকার আয়ের যে হিসাব দেখানো হয়েছে, তাতে স্বেচ্ছাসেবী অবদান এবং ভুয়া রাজস্ব অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইডি-র অভিযানে ৪৮ লাখ টাকা নগদ, ডিজিটাল ডিভাইস এবং একাধিক শেল কোম্পানির হদিশ মিলেছে।
আদালত সিদ্দিকীকে ১৩ দিনের জন্য ইডি হেফাজতে (রিমান্ডে) পাঠিয়েছে। ইডি-র দাবি, ট্রাস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর সিদ্দিকীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং ঠিকাদারির কাজও তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের কোম্পানিগুলিকে দেওয়া হত।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১০ তারিখে, লাল কেল্লার কাছে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের সময় হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন পুলওয়ামার ডাক্তার মোহাম্মদ উমর (ওরফে উমর নবী), যিনি আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। এই বিস্ফোরণের পরই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি তদন্তকারী সংস্থাগুলির কড়া নজরে রয়েছে।





