Newsbazar24:মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দলের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন। সূত্রের খবর মমতা এদিন বলেছেন, আমি দলের চেয়ারপার্সন, আমার কথাই শেষ কথা। এর আগে দলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তৃণমূলে ক্ষমতার কেন্দ্রে তিনিই থাকবেন। শুকরিয়া আরো জানা গেছে,এদিনের বৈঠকে তিনি আরো বলেছেন, তৃণমূলে ছাত্র ও যুব সংগঠন অনেক দিন ধরে দেখছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন ‘ছাত্র ও যুব সংগঠন আমি সাজিয়ে দেব। পাশাপাশি মমতা আরও বলেন, ‘দল আমি আর বক্সীদাই দেখব।’ অর্থাৎ দলে যে তিনিই শেষ কথা, সেটা বুঝিয়ে দিলেন। প্রশ্ন উঠছে দলের চেয়ারম্যান তথা সুপ্রিমো হিসেবে এমন কথা বলার প্রয়োজন পড়ল কেন? এতদিন ধরে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা কি তাহলে খর্ব করা হলো পাশাপাশি এই প্রশ্নও উঠছে।
তৃণমূলে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত নেতা নারায়ণ গোস্বামীকেও এদিন ধমক দিয়েছেন দিদি। তাঁকে বলেছেন, তোমাকে আর এদিক ওদিক যেতে হবে না। নিজের এলাকায় নজর দাও। পাশাপাশি মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকেও তিনি বেফাঁস মন্তব্য করতে বারণ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিধায়কদের সাফ বলে দেন, মেপে কথা বলতে হবে। যা ইচ্ছা যখন ইচ্ছা মিডিয়ার সামনে মুখ খুললে চলবে না। বেচাল দেখলে দল ব্যবস্থা নেবে।
পরিষদীয় দলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ছাব্বিশের ভোট আসছে। মানুষের ঘরে ঘরে যান। অভাব-অভিযোগ, সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নিন। আরও শৃঙ্খলাপরায়ণ হোন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনও বলেন, কারও কোনও অসুবিধা থাকলে তাঁরা যেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস বা দেবাশিস কুমারকে জানান। দিদির এ কথাও অনেকে অর্থবহ বলে মনে করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দলে নবীন প্রবীণের দ্বন্দ্বের যে আবহাওয়া তৈরি হয়েছে তাতে জল ঢেলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন দেখার ভবিষ্যতে কি হয়?



