Newsbazar24:: মালদহে তৃণমূল নেতা তথা ইংরেজবাজার পৌরসভার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর দুলাল সরকারকে খুনের অভিযোগে দুই দুষ্কৃতিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। জানা যাচ্ছে, ধৃত দুজনের মধ্যে একজন বিহারের বাসিন্দা আরেকজন মালদহের। ইতিমধ্যে ধৃত দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। মালদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সম্ভব জৈন সংবাদমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবী এই খুনের ঘটনায় চারজন জড়িত। বাকি আরও দুজনের খোঁজে জোরদার চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী জেলার পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন, তিনি জানিয়েছেন, আমার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও সহযোদ্ধা এবং আমাদের তৃণমূলের মালদা জেলার সহ-সভাপতি দুলাল সরকার আজ সকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। পুলিশের গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটেছে। কারণ এর আগেও তার উপর দুর্বৃত্তের আক্রমণ করেছিল তার সিকিউরিটি তুলে নেওয়া হয়েছিল জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে।
এদিন তারই নির্দেশে মালদহ ছুটে আসেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এবং সাবিনা ইয়াসমিন। হেলিকপ্টারে মালদায় নেমে মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে রাখা ছিল মৃত তৃণমূল কাউন্সিলর তথা জেলা সহ সভাপতি দুলাল সরকারের দেহ।
হাসপাতালের মধ্যেই কর্মী-সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন ফিরহাদ হাকিম। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দুলাল সরকারের দেহরক্ষী দিয়েও কেন তা তুলে নেওয়া হয় তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল চত্বরে। হাসপাতাল চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান মুখ্যমন্ত্রী বাবলা সরকারের মৃত্যুতে গভীরভাবে ব্যথিত তারই নির্দেশে আমি এবং সাবিনা দুজনেই কলকাতা থেকে মালদা এসেছি। আমার মনে হয় এর পিছনের একটা গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে জনপ্রিয় নেতা কে এইভাবে খুন এটা আমরাই কিছুতেই মেনে নেব না। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দিয়েছেন অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, মহানন্দা পল্লীতে নিজের প্লাইউড কারখানার কাছেই ছিলেন দুলালচন্দ্র সরকার ওরফে বাবলা। হঠাত করেই চারজন দুষ্কৃতী মুখে কালো কাপড় ঢাকা অবস্থায় আসে। এবং লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি মাথায় কাছে লাগে লাগে। গুলি লাগে পিটেও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে মৃত বলে জানান চিকিৎসকরা।



