জেনে নিন নতুন বাংলা বছরের গ্রহণসূচী ও আপনার জীবনে তার প্রভাব

  news bazar24:   পুরানো বাংলা বছরের প্রায় শেষ লগ্নে দাঁড়িয়ে আছে বাঙালী। চৈত্র সংক্রান্তি  আগামী ১৪ এপ্রিল। আর তার পরের দিন ১৫ এপ্রিল বৈশাখের প্রথম দিন। আর ১লা বৈশাখ মানেই বাংলার নববর্ষ। বৃহৎ সংহিতা অনুসারে ১৪৩০এর এই বাংলা নববর্ষের অধিপতি গ্রহ হল বুধ। অন্যদিকে বৈদিক ক্যালেন্ডার অনুসারে চৈত্র মাসে শুরু হয় নতুন বছর। সেই মতো এবছর ২২ মার্চ নতুন বিক্রম সংবত ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে বাংলা পঞ্জিকা মতে চৈত্র নয় বরং বৈশাখকেই নববর্ষের সূচনা মাস হিসেবে ধরা হয়।

আসন্ন বাংলা নববর্ষে সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ মিলিয়ে মোট ছয়টি গ্রহণ হবে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে সূর্য বা চন্দ্র গ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই গ্রহণের প্রভাব যেমন আবহাওয়ার উপর পড়ে তেমনই আমাদের অজান্তেই নানা ভাবে মানুষের জীবনকেও প্রভাবিত করে। আসুন জেনে নেওয়া যাক নতুন বাংলা বছরে কবে কবে গ্রহণ আছে ও তার কী প্রভাব পড়তে চলেছে।

প্রথম গ্রহণ

১৫ এপ্রিল নববর্ষ শুরু হওয়ার পাঁচ দিন পরেই আগামী ২০ এপ্রিল সংগঠিত হবে এই বছরের প্রথম গ্রহণ। সেদিন আবার বৈশাখী অমাবস্যা। এই বৈশাখী অমাবস্যায় হবে সূর্য গ্রহণ। বছরের প্রথম গ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না। অস্ট্রেলিয়া ও পূর্ব-দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি এই গ্রহণ দেখতে পাবে। সূর্য গ্রহণের সময়কাল ২০ এপ্রিল সকাল ৭টা থেকে ১২:৩০র মধ্যে।

দ্বিতীয় গ্রহণ

তার ঠিক ১৫ দিন পরে ৫ মে হবে এই বছরের দ্বিতীয় গ্রহণ। বৈশাখী পূর্ণিমা বা বুদ্ধ পূর্ণিমায় সেদিন হবে চন্দ্রগ্রহণ। এই গ্রহণ ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু কিছু স্থান থেকে দেখা যাবে। এই দিন রাত ৮:৪৫ থেকে ১টা পর্যন্ত থাকবে এই গ্রহণ। যেহেতু এই চন্দ্র গ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না, তাই এর কোনো প্রভাব ভারতের উপর পড়বে না ও সূতক কাল বৈধ হবে না। 

তৃতীয় গ্রহণ

এই বছরের তৃতীয় গ্রহণ হবে আগামী ১৪ অক্টোবর, শনিবার। সেদিন আবার আশ্বিন অমাবস্যা। সেদিন হবে এবছরের দ্বিতীয় ও শেষ সূর্য গ্রহণ। এই গ্রহণটিও ভারত থেকে দেখা যাবে না, ফলে এর কোনও সূতককাল কার্যকরী হবে না ভারতের উপরে। মূলত মেক্সিকো ও কানাডাসহ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি দেশ থেকে এই গ্রহণ দেখা যাবে বলে জানিয়েছে নাসা।

চতুর্থ গ্রহণ

তার কয়েক দিন পরেই ২৮-২৯ অক্টোবরে আরও একটি গ্রহণ হবে। ভারতে এটি হবে আংশিক চন্দ্র গ্রহণ। শারদ পূর্ণিমার এই গ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে। ফলে এই গ্রহণের প্রভাব কিছুটা কার্যকর হবে আমাদের দেশের উপর। বৈজ্ঞানিক কোনো যুক্তি না থাকলেও জ্যোতিসশাস্ত্র মতে, এই চন্দ্র গ্রহণের প্রভাব পড়তে পারে আপনার ত্বকের উপর। দেখা দিতে পারে ত্বকের প্রদাহ, ব্রণর মতো সমস্যা। এছাড়া, গ্রহণের সময় আহার থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। এই সময় আমাদের দেহে পাক্ক্রিয়ার গতি অনেকটাই ধীর হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে চন্দ্র গ্রহণ খালি চোখে দেখা সম্পূর্ণ নিরাপদ। সূর্য গ্রহণের মতো এক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই চোখের রক্ষাকবচের।

পঞ্চম গ্রহণ

ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে হবে পরবর্তী গ্রহণ। তবে বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে ১৪৩০ সালেই এই গ্রহণ হবে। ২৫ মার্চ ২০২৪ সালে ফাল্গুন পূর্ণিমায় ফের গ্রহণ লাগবে চাঁদে। এই আংশিক ছায়া গ্রহণ দেখা যাবে পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে।

ষষ্ঠ গ্রহণ

বাংলা নববর্ষের শেষ বা ষষ্ঠ গ্রহণটি হবে ৮ এপ্রিল ২০২৪ সোমবার। চৈত্র অমাবস্যায় সূর্য গ্রহণ হবে।

এই সূর্য গ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না, ফলে এর কোনো প্রভাবও আমাদের দেশের উপর পড়বে না ও এর সূতক কালও বৈধ হবে না।

বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১৪৩০ সালের এই ছয়টি গ্রহণের মধ্যে কেবল একটি চন্দ্র গ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে। শারদ পূর্ণিমায় আশ্বিন নক্ষত্রে এই আংশিক চন্দ্র গ্রহণ হবে। এই একটিমাত্র গ্রহণের প্রভাব আমাদের দেশের উপর পড়বে, বাকি পাঁচটি গ্রহণের প্রভাব আমাদের দেশের উপর কার্যকর হবে না।