news bazar24: চৈত্র সংক্রান্তির পরেরদিনকে বাংলা ক্যলেন্ডারের প্রথম দিন হিসাবে ধরা হয়। আর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি পয়লা বৈশাখ নামে পরিচিত। বৈদিক হিন্দু পঞ্জিকা বা পঞ্চাঙ্ক অনুযায়ী চৈত্র মাস থেকে নতুন বছর শুরু হলেও পশ্চিম বঙ্গ ও বাংলাদেশে বাংলা ক্যালেন্ডারের হিসেবে নতুন বছর শুরু হয় বৈশাখ মাস থেকে। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে সূর্য মেষ রাশিতে প্রবেশ করা থেকেই শুরু হয় নতুন বাংলা বছর। অর্থাত্ মেষ সংক্রান্তি বা চৈত্র সংক্রান্তির পরের দিনটি পয়লা বৈশাখ দিন হিসেবে পালন করা হয় । তবে দেশের অনেক জায়গাতে এই দিনটি বৈশাখী নামে পরিচিত।
এই বছর ইংরেজি ২০২৪ সাল অর্থাৎ বাংলা নববর্ষ ১৪৩১
আর কয়েকদিন বাকি । বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৪৩০ সাল শেষ হয়ে যাবে । এরপরেই শুরু হতে চলেছে ১৪৩১ সাল। সাধারণত ১৪ এপ্রিল থেকে বাংলা নতুন বছর শুরু হয়।
এক কথায় বেশিরভাগ বছরেই ১৪ এপ্রিল দিনটি পড়ে পয়লা বৈশাখ। এই বছরেও একই দিনে পড়েছে। অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল ২০২৪ রবিবার পালিত হবে পয়লা বৈশাখ । সেদিন থেকেই শুরু হবে ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।
পয়লা বৈশাখের মাহাত্ম্য
সেই সাদা কালো ছবির দিন থেকে ১ লা বৈশাখের সাথে জড়িয়ে আছে বাঙালির সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে। এই দিনে বাঙালিরা বিশেষ করে যারা দুই বাংলায় বাস করে তারা যেন তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আরও একটু বেশি আঁকরে ধরে।
বাঙালি মেয়েরা শাড়ি ও ছেলেরা ধুতি-পাঞ্জাবি বা পাজামা-পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে সকালে প্রভাত ফেরী , মন্দিরে গিয়ে পূজা দেওয়া আর বিকালে হালখাতা করতে যাওয়ার মধ্যদিয়ে বাঙালিরা ঐতিহ্যের প্রকাশ ঘটায়।
অনেক ব্যবসায়ীরা এদিন লক্ষ্মী ও গণেশের পুজো করেন দোকানে এছাড়া এদিন হালখাতা করেন। বাংলা গান, কবিতার মধ্যে দিয়ে এই দিনটি পালন করেন অনেকে। নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে বাঙালি সমাজ যেন আরও একটু বাঙালি হয়ে ওঠে।
পয়লা বৈশাখের ইতিহাস-
মুঘল আমল থেকে পয়লা বৈশাখ পালনের ইতিহাস পাওয়া যায়। সেই সময় মূলত কৃষি উত্সব হিসেবেই পালিত হত। চৈত্র সংক্রান্তির মধ্যে সারা বছরের কর মিটিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে উত্সব পালন করার প্রথা ছিল। বাঙালি জমিদাররা এদিন প্রজাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ও উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে পয়লা বৈশাখ পালনের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় সাধারণ মানুষের মধ্যে।
