Newsbazar24:জমি জটের কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ থমকে রয়েছে। এবার সরাসরি এই অভিযোগ করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। শনিবার হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে এক নয়া ট্রেন উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে এসে রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করার আবেদন জানান।মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তার উপস্থিতিতে এই আবেদন এবং খোঁচা, রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “যেখানে মানুষের পরিষেবার বিষয়, সেখানে উচিত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করা। জমি না দিলে রেল প্রকল্প সম্ভব হবে না। রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে যদি কাজ করে তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধা হবে। সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ না থাকলে সব কাজ করা সম্ভব না।” তার বক্তব্যে স্পষ্টতই রাজ্যের শাসকদলের অসহযোগিতার ইঙ্গিত ছিল।
রেলমন্ত্রী এদিন আটকে থাকা বেশ কয়েকটি প্রকল্পের তালিকা সভায় পেশ করেন।
খিদিরপুর মেট্রো প্রকল্পে মাত্র ৮০০ বর্গমিটার জমি না পাওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো প্রকল্প আটকে রয়েছে
চিংড়িঘাটা প্রকল্প: অনুমতির অভাবে আটকে রয়েছে। বিষ্ণুপুর-তারকেশ্বর লাইনে ৬০ কিলোমিটার লাইন বসানো হয়ে গেলেও, মাত্র ২ কিলোমিটারের জমির অভাবে গোটা প্রকল্প থমকে রয়েছে।
হিলি-বালুরঘাট লাইন: অনেক কষ্টে চালু করা গেলেও, এর অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
নন্দীগ্রাম: জমির অভাবে রেললাইন আটকে রয়েছে।
“আমি হাত জোড় করে আবেদন করব, রাজ্য সরকার যেন রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে কাজ করে। তাহলে সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে,” বলেন রেলমন্ত্রী।
রেলমন্ত্রীর পাশেই উপস্থিত বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও একই সুরে তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি সরাসরি মঞ্চে উপস্থিত তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অনুযোগ সহকারে জমি সমস্যা মিটানোর আবেদন জানান। সুকান্ত বলেন, “মেট্রো পরিষেবা সম্প্রসারণ হোক বা নতুন লাইন পাতা, কোনরকম সহযোগিতা রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে পাওয়া যায় না। ৬১টি রেল প্রকল্প আটকে রয়েছে শুধুমাত্র জমির অভাবে।” তিনি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, “ভাই আমি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়কে বলবো, তাদের তরফে যেন একটু সাহায্য করা হয় রেলকে। রেল প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। প্রসূন বন্দোপাধ্যায়রা যদি সহযোগিতা না করেন তাহলে সমস্যায় পড়বে রেল।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই প্রকাশ্য মন্তব্য রাজ্য-কেন্দ্র সম্পর্ক এবং রাজ্যের উন্নয়ন প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।







