Newsbazar24:মালদহের তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি ও কাউন্সিলর দুলাল সরকারের খুনের ঘটনায় আরো দুজনকে গ্রেফতার করা হল। এ নিয়ে পুলিশ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করল। এদিন যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারমধ্যে একজনের নাম অভিজিৎ ঘোষ (২০)। সে ইংরেজবাজার পৌরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোড়াপীর এলাকার বাসিন্দা। আরেকজনের নাম অমিত রজক। বাড়ি ২২ নম্বর ওয়ার্ডের রেলওয়ে ব্যারাককলোনী সংলগ্ন এলাকায়।
শনিবার ধৃত অভিজিৎ ও অমিতকে মালদা জেলা আদালতে তোলা হয়। আগামী ১৭ তারিখ পর্যন্ত তাদের পুলিশি হেফাজাতের আদেশ দিয়েছে আদালত।
দুলাল সরকারের বাড়ি থেকে সামান্য কিছু দূরে অমিত রজকের বাড়ি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে বাড়িটি অমিতের দিদার। দিদা মারা যাওয়ার পর থেকে মাঝেমধ্যেই এই বাড়িতে এসে থাকতো সে আর এই বাড়িতে বসেই দুলালের খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান সেটাই বলে জানা গিয়েছে। খুনের দিন কয়েক আগে থেকেই সেই বাড়িতে কয়েক জন অপরিচিত যুবকের আনাগোনা লক্ষ্য করেছিলেন বলে দাবি প্রতিবেশীদের। বাইকে চেপে আসতেন ওই যুবকেরা। তাদের আরও দাবি খুনের ঘটনার পর থেকেই ওই বাড়িতে আর কোনও অপরিচিত যুবককে দেখা যায়নি।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় সন্দেহ আরো দৃঢ়তর হয়েছে। তাহলে কি অমিতের বাড়িতে বসেই দুলাল খুনের ছক কষা হয়েছিল এ প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সূত্রে আরো জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে রোহনকে দেখা গিয়েছিল। এই রোহন এখনো পলাতক পুলিশ তাকে খুঁজছে।এই রোহনের ভাই অমিত রজক। যে এই খুনের পরিকল্পনার সাথে জড়িত বলে দাবি পুলিশ সূত্রের। এছাড়াও পুলিশ সূত্রের আরও দাবি, ঘোড়া পীরের বাসিন্দা অভিজিতের বাড়িতে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো রাখা হয়েছিল। তবে ঘটনার নেপথ্যে মূল মাস্টারমাইন্ড কে বা কারা ,খুনের মোটিভ কী, তা এখনও পুলিশ বের করতে পারেনি। অপর ধৃত অভিজিৎ দুলালের খুনের ঘটনায় জড়িত, একথা বিশ্বাস করেন না বলে দাবি তার বাবা-মায়ের। তবে খুনের আগেরদিন রাতে বাড়িতে ছিল না সে, একথা স্বীকার করেছেন অভিজিতের বাবা-মা। তার মা সুমিতা ঘোষ। জানান, খুনের ঘটনার দিন দুপুরবেলা বাড়ি আসে অভিজিৎ। খাওয়াদাওয়া করার পর বিকেলের দিকে আবার বাইরে যায়। রাতে বাড়ি থেকেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। অভিজিতের স্বভাবে কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করেননি বলেই জানান তার মা।
অপরদিকে অমিতের এক প্রতিবেশী পঞ্চমী রায় জানান, বাবলা সরকারের খুনের ঘটনায় অমিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি পরিবারের লোকেদেরও আটক করা হয়েছে। কিছুদিন আগেও এলাকায় গন্ডগোল হয়েছিল সেখানে সেখানেও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উপস্থিত ছিলেন অমিত ও তার দাদা। অমিত প্রকৃত দোষী কিনা তা তিনি বলতে পারেননি।



