Newsbazar24:ওবিসি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আপাতত হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল। অর্থাৎ কোন স্থগিতাদেশ পেলনা রাজ্য।
সোমবার ওবিসি সার্টিফিকেট মামলার শুনানি ছিল বিচারপতি বিআর গাভাই ও কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে। রাজ্য সরকারের আইনজীবী কপিল সিব্বাল হাইকোর্টের রায় এর উপর স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন। বিচারপতি বিআর গাভাই জানান শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ পাওয়া উচিত নয়। একইসঙ্গে রাজ্যের অনুরোধ খারিজ করে হাইকোর্টের নির্দেশের উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হল না।
প্রসঙ্গত ২০১০ সালের পরে রাজ্যে ইস্যু হওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল ঘোষণা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, রাজনৈতিক অভিসন্ধি চরিতার্থ করতে ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে মনে হয়েছে। মুসলিমদের ৭৭টি শ্রেণিকে ওবিসি সংরক্ষণের আওতায় আনা গোটা মুসলিম সমাজের জন্য অপমানের। এরপর রাজ্যের সরকারি চাকরি ও রাজ্য সরকার পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওই ওবিসি সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সংরক্ষণ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিব্বলের পাল্টা যুক্তি,ধর্মের ভিত্তিতে নয়,অনগ্রসর শ্রেণির ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন বলেন, কমিশন না করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কী ভাবে সংরক্ষণের তালিকা তৈরি করতে পারে?” সিব্বাল জানান বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শ্রেণীবিন্যাস করেছে, তালিকা করেনি।” বিচারপতি গাভাই বলেন, “হাইকোর্ট বলেছে শ্রেণীবিন্যাস করে রাজ্য বিধানসভায় নতুন ওবিসি তালিকা পেশ করতে। রাজ্য কেন নিজের ক্ষমতায় তা করতে পারবে না?”
হাইকোর্টের রায়ের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দাবি করেন রাজ্যের আইনজীবী। এরপর বাকি আইনজীবীদের বক্তব্য শোনেন বিচারপতিদ্বয়। বরিষ্ঠ আইনজীবী পিএস পাটোয়ালিয়ার বয়ানও শোনে আদালত। কমিশনকে এড়িয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য ছাড়াই ওবিসি ঘোষণা করা হয়েছে বলে হাইকোর্ট জানিয়েছে, এমনটা জানান পাটোয়ালিয়া। সব শুনে এখনই এনিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত জানানো হবে না বলে ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। ৭ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।



