Newsbazar24:কলকাতা হাইকোর্টে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে এসএসসির আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালতের ক্ষোভ। ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র প্রকাশকে কেন্দ্র করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের আইনজীবীকে কড়া ভাষায় ভৎসনা করেন বিচারপতি। স্বচ্ছতা বনাম গোপনীয়তা এবং কমিশনের ফি চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আদালতের অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ।
এদিনের শুনানির উদ্দেশ্য ছিল এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট জনসমক্ষে আনা। গত ২৭ নভেম্বর আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল যে ওএমআর শিট প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু আজ কমিশনের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য আদালতে জানান যে, কমিশনের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে আবেদন করলেই কেবল ওএমআর শিট দেখানো হয়। তিনি আরও জানান যে, আদালতের আগের নির্দেশের মডিফিকেশন বা পরিবর্তনের জন্য তাঁরা আবেদন করেছেন।
এই যুক্তি শোনা মাত্রই বিচারপতি অমৃতা সিনহা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, “এটা কি কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান? কমিশন কি এখানে ব্যবসা করতে বসেছে?” দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তথ্যের স্বচ্ছতার জন্য কেন টাকা দাবি করা হবে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতি। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যেখানে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেখানে পুরনো নিয়ম বা ফি-এর দোহাই দিয়ে তথ্য গোপন করা যাবে না।
শুনানি চলাকালীন ‘দাগী নয়’ বা স্বচ্ছ প্রার্থীদের হয়ে সওয়াল করা আইনজীবী সুবীর স্যানাল আদালতে প্রশ্ন তোলেন যে, ব্যক্তিগত ওএমআর শিট পাবলিক ডোমেইনে বা সকলের সামনে প্রকাশ করা কতটা যুক্তিযুক্ত। এটি প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে কি না, সেই প্রশ্নও উঠে আসে।
এর উত্তরে বিচারপতি সিনহা অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে গোপনীয়তার চেয়ে স্বচ্ছতা অনেক বেশি জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের কোনো স্থগিতাদেশ না থাকায়, দুর্নীতির অভিযোগ নিরসনে ওএমআর শিট সকলের সামনে আনাই একমাত্র পথ বলে মনে করে আদালত। কমিশনের সময় বাড়ানোর বা নিয়ম পরিবর্তনের কোনো আর্জিই আদালত গ্রাহ্য করেনি।
এসএসসি ২য় এসএলএসটি ২০২৫ সংক্রান্ত এই মামলার দেখা যায়, একাধিক নতুন ‘ক্যান’ বা সিভিল অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে। মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী সুদীপ্ত দাসগুপ্ত অভিযোগ করেন যে, এভাবে প্রতিদিন নতুন আবেদন জমা পড়ার ফলে মূল মামলার নিষ্পত্তি পিছিয়ে যাচ্ছে এবং সময় নষ্ট হচ্ছে।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা বিলম্ব নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেও, বিচার প্রক্রিয়ার স্বার্থে তিনি সব পক্ষের বক্তব্য শোনার সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে, চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের আইনজীবী প্রতীক ধর হলফনামা বা এফিডেভিট জমা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময় প্রার্থনা করেন। আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের এখন লক্ষ পরবর্তী শুনানির দিকে, যেখানে ওএমআর প্রকাশের পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার মোড় কোনদিকে যায়, তা দেখার বিষয়।





