news bazar24: ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ভোট’ ব্যবস্থা চালু করতে চলতি অধিবেশনেই বিল আনতে পারে মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ভোট’ নিয়ে রাম নাথ কোবিন্দ কমিটির রিপোর্ট অনুমোদন করেছে। সরকার এখন বিলটি নিয়ে ঐকমত্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। সূত্র বলছে, বিলটি বিস্তারিত আলোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটি বা জেপিসিতেও পাঠানো হতে পারে।
জেপিসিতে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন। সেখানে ‘এক জাতি, এক ভোট’ বিলের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে। অন্যান্য শরিকদেরও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হতে পারে। সারা দেশের জ্ঞানী-গুণীদের পাশাপাশি সব অ্যাসেম্বলির স্পীকারদের ডাকা যেতে পারে। এছাড়াও, সাধারণ মানুষকে তাদের পরামর্শ দিতে বলা হতে পারে।
ঐক্যমত ছাড়া ‘এক জাতি, এক ভোট’ বিল পাস করা বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে। ‘এক জাতি, এক ভোট’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনে অন্তত ৬টি বিল জড়িত। এছাড়া সংসদে সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে। সংসদের উভয় কক্ষে এনডিএ-র সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ কঠিন কাজ।
রাজ্যসভার 245টি আসনের মধ্যে এনডিএ-র রয়েছে 112টি আসন। বিরোধী দলগুলো মিলে ৮৫টি। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে সরকারের কমপক্ষে ১৬৪ ভোট প্রয়োজন।
লোকসভার ৫৪৫ টি আসনের মধ্যে এনডিএ-র ২৯২ টি আসন রয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৩৬৪ টি আসন প্রয়োজন। যাইহোক, পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে। কারণ এই বিলের ওপর ভোটাভুটি নির্ভর করবে সংসদে উপস্থিত সদস্যদের ভোটের ওপর।
‘এক জাতি, এক ভোট’ ব্যবস্থা চালু করতে মরিয়া মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, প্রথমত বারবার নির্বাচনে বিপুল খরচ বন্ধ হবে। নির্বাচনের পেছনে সরকারের খরচ যেমন কমবে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর খরচও কমবে।
দ্বিতীয়ত, বারবার নির্বাচনের কারণে সরকারের কাজ ও উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়ে, যা আর হবে না । একই সঙ্গে ভোট হলে বারবার কাজ বন্ধের সংখ্যা কমবে।
তৃতীয়ত, বারবার নির্বাচনের জন্য বারবার সবার পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় এবং ভোটকর্মী এবং নিরাপত্তারক্ষীরা ঝুঁকির মুখে পড়ে। সেটাও কিছুটা কমানো যেতে পারে।
চতুর্থত, বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচন একযোগে হলে ভোটারদের ভোটদানের হার বাড়তে পারে বলে অনেকে মনে করেন।
পঞ্চমত, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের কাজে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে, কারণ তাদের সারা বছর প্রচার নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
তবে এই বিষয়ে কংগ্রেস প্রতিবাদ করছে। তৃণমূল ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও প্রতিবাদ করছে। বিরোধী নেতৃত্বের যুক্তি যে একটি ফেডারেল কাঠামোতে, সাংসদ এবং বিধায়কদের নির্বাচনে যাই বৈচিত্র্য রয়েছে, তা বিজেপির আক্রমণাত্মক প্রচারণার মুখে ভেঙে পড়তে পারে।
দেশের প্রতিটি রাজ্যে বিধানসভার মেয়াদ বিভিন্ন সময়ে শেষ হয়। একই সঙ্গে ভোট হলে কয়েকটি রাজ্যের ভোট এগিয়ে আনতে হবে। কিছু রাজ্যের ভোট স্থগিত করতে হবে। যা পদ্ধতির দিক থেকে একটি গুরুতর সমস্যা।
তাছাড়া লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ধরন আলাদা। রাজ্য ও কেন্দ্রের ভোট একসঙ্গে হলে বিধানসভা নির্বাচনের চরিত্র নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা বিরোধীদের। এছাড়া কোনো রাজ্যে বা কেন্দ্রে কোনো মেয়াদের মাঝপথে সরকার পতন হলে সেই রাজ্যে বা কেন্দ্রে আবার নির্বাচন করতে হবে। ফলে ‘এক জাতি, এক ভোট’ মূল লক্ষ্য অর্জিত হবে না।
দেশের সব রাজ্যে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একযোগে হলে প্রতি ১৫ বছরে শুধু ইভিএমের খরচ হবে ১০ হাজার কোটি টাকা। যা বর্তমান খরচের চেয়ে অনেক বেশি। একই সঙ্গে ভোট হলে ভোটগ্রহণ কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।





