news bazar24: বাঙালির ইমোশন শুক্ত। বাঙালিয়ানার অন্যান্য খাবারগুলির মধ্যে একটি প্রধান খাবার হল শুক্ত। ছোট থেকে বড় হওয়ার যাত্রায় এবং এখনো পর্যন্ত অতপ্রতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই খাবারটি। কারণ ভাত খাবার সময় এটা আমরা প্রায়ই খেয়ে থাকি। বাঙালির প্রতিটা ঘরে ঘরে মা- ঠাকুমাকে বানাতে দেখেছি।তাছাড়া যে কোনো অনুষ্ঠানে শুক্ত হয়েই থাকে। এটি বানানো কিন্তু খুবই সহজ। বিভিন্ন রকমের সবজি দিয়ে বানানো হয়ে থাকে এটি। সবথেকে মজার বিষয় হলো এই পুরো রেসিপিটিতে কোন লঙ্কা ব্যবহার করা হয় না, লঙ্কা ছাড়াই শুক্ত বানানো হয়। তাই শুধু বড় নয় ছোটদেরও এইটি খুব পছন্দের খাবার। তাহলে চলুন আর দেরি না করে ঝটপট উপকরণটি লিখে বানিয়ে ফেলুন শুক্ত।
প্রয়োজনীয় জিনিষ ঃ–
আপনি পরিবারের সবার কথা চিন্তা করলে শুক্ত বানানোর হাতের কাছে যা রাখবেন, উচ্ছে বা করলা, সবুজ সিম, বেগুন (ইউরিক অ্যাসিড থাকলে দেবেন না), আলু, কাঁচাকলা আর সজনে ডাঁটা
( এই সব সব্জি একসাথে মিলিয়ে আমি নিয়েছি ৫০০ গ্রাম, আপনি প্রয়োজনে বাড়াতে বা কমিয়ে নেবেন ,তবে সব সব্জি যেন একসাথে সেদ্ধ হয় সেই মতো সব সব্জি কেটে নিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে ),
আপনি শুক্ততে বড়িও দিতে পারেন ।( এখানে আপনারা মটর ডাল বেটে সেটিকে বড়ির আকারে ভেজেও ব্যবহার করতে পারেন),
এছাড়া মশলা লাগবে- সরষের তেল ১ টেবিল চামচ, আমুল দুধ ১ কাপ, দানা ঘি ১/২ চামচ, হলুদ গুঁড়ো ১ চা- চামচ, নুন নিজের স্বাদ মতো, কালো বা হলুদ সরষে বাটা ১ চামচ, পাঁচফোড়ন গুঁড়ো ১ চামচ তবে আপনাকে ( গোটা পাঁচফোড়ন কে শুকনো কড়াই তে ভেগে গুঁড়ো করে নিতে হবে ) আর লাগছে তেজপাতা বড় মাপের ১-২ টা।।
কি ভাবে বানাবেন এই শুক্ত ? নিচে বিস্তারিত ভাবে প্রনালি দেওয়া হল-
যে ভাবে তৈরি করবেন ? প্রথমে কড়াই গরম করে সরষে বা সাদা তেল দিতে হবে। তেল গরম হয়ে গেলে বড়ি গুলো লাল করে ভেজে তুলে নিতে হবে। এরপর ওই গরম তেলেই মধ্যেই অল্প অল্প করে সিম আর করলা ভেজে আলাদা একটা পাত্রে রেখে দিন।
এবার তেলের মধ্যে তেজপাতা ফোড়ন দিতে হবে। এরপর আলুর টুকরো গুলো দিয়ে দিতে হবে। আলু বেশ নাড়াচাড়া করতে হবে। আলু যখন অর্ধেক ভাজা ভাজা হবে ওর মধ্যে কাঁচা কলার টুকরো গুলো দিয়ে দিতে হবে। এবার আলু আর কাঁচা কলা খুব ভালভাবে নাড়াচাড়া করে নিতে হবে। এরপর বেগুন আর সজনে ডাঁটা দিয়ে দিতে হবে। সজনে ডাঁটা আর বেগুন সামান্য নাড়াচাড়া করে নিতে হবে। এখন ভেজে রাখা করলা গুলো দিয়ে দিন ,আর এর মধ্যে দিয়ে দিন পরিমান মত হলুদ গুড়ো ।
কড়াইতে ভেজে রাখা সব কিছু দেওয়া হয়ে গেলে নাড়াচাড়া করে জল দিয়ে দিতে হবে। মাথায় রাখবেন সব উপকরণ যেন প্রায় ডুবে থাকে তেমন পরিমান মতো জল দেবেন।কিছুক্ষন ফোঁটার পর নিজের পরিমাণ মতো নুন দিয়ে দিন।
ঘরের খাবার খেয়ে নিয়ন্ত্রনে আনুন ইউরিক অ্যাসিড
এবার একটা ঢাকা দিয়ে দিতে হবে ১৫ মিনিট তবে আঁচটা কমিয়ে রাখতে হবে। ১৫ মিনিট পর ঢাকা খুলে দেখে নিতে হবে আলু সেদ্ধ হয়েছে কিনা। এরপর দিয়ে দিতে হবে দুধ আর ভেজে রাখা বড়ি।
এরপর হাল্কা আঁচে ২ মিনিটের মত রেখে দিন এবং বেটে রাখা সরষে দিয়ে নেড়ে দিন।এরপর আরো ১ মিনিটের মত আঁচে রেখে দিন। নামানোর আগে ঘি আর পাঁচফোড়ন গুঁড়ো দিয়ে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে গেল বাঙ্গালীর শুক্ত।




