Newsbazar24:সম্প্রতি দক্ষিণ 24 পরগনার মগরাহাটে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক এসআইআরে নিযুক্ত পর্যবেক্ষক অর্থাৎ ইলেক্টোরাল রোল অবজারভার তথা আইএএস শ্রী সি. মুরুগনের উপর জনতার হামলার ঘটনায় বাংলার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে ফের গুরুতর প্রশ্ন তুলল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজি রাজীব কুমারকে আজ মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে Action Taken Report জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে, এই ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেক গুরুতর গাফিলতি হয়েছে। কমিশনের মতে, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং তা পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে।
ঘটনাটি ঘটে মাগরাহাট ও কুলপি এলাকায়, অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের মদতপুষ্ট একটি উত্তেজিত জনতা পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিকে ঘিরে ধরে এবং হেনস্তা করে। অভিযোগ, এই হামলার পিছনে ছিল রাজনৈতিক প্ররোচনা এবং সংগঠিত শক্তি। ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের মুখ স্পষ্ট দেখা গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও উল্লেখযোগ্য গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তাঁদের দাবি, প্রশাসন রাজনৈতিক চাপে কাজ করছে বলেই প্রকাশ্য দিবালোকে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকও নিরাপদ নন।
এই ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আগাম গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি? কেন ঘটনার পরও দ্রুত এফআইআর দায়ের ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়নি? এসব প্রশ্নেরই উত্তর চেয়ে কমিশন ATR জমা দিতে বলেছে।
রাজ্য পুলিশের শীর্ষ মহলের একাংশের মতে, রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, এই যুক্তি আসলে দায়িত্ব এড়ানোর নামান্তর। তাঁদের দাবি, সংবিধান রক্ষা করা পুলিশের প্রথম কর্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থ নয়।
ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ভিডিওগুলি ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ভিডিওতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অনেকেই স্থানীয় তৃণমূল নেতা বা কর্মী বলে দাবি বিরোধীদের। তাঁদের বক্তব্য, প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যদি পুলিশ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তা প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব ছাড়া আর কি হবে?
কমিশনের এই কড়া অবস্থানে রাজ্য প্রশাসন বিপাকে। মঙ্গলবারের মধ্যে ATR জমা দিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে রাজ্য পুলিশকে। এখন দেখার, রাজীব কুমারের নেতৃত্বাধীন পুলিশ প্রশাসন আদৌ দৃঢ় পদক্ষেপ নেয় কি না, নাকি রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। এই ঘটনার পর একটাই প্রশ্ন রাজ্যের পুলিশ কি সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ, না কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করবে? এই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





