Newsbazar24:আরজি কর কান্ডে চিকিৎসক ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় নির্যাতিতার মা-বাবা মালদহে এলেন তাদের আইনজীবীর সাথে দেখা করার জন্য। রবিবার তারা তাদের আইনজীবী তড়িৎ ওঝার ডাকে সাড়া দিয়ে মালদহে আসেন। জানা গেছে এদিন তারা মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তড়িৎ বাবুর সাথে আলোচনায় বসেন সেখানে নতুন করে পুনরায় মামলার রিট্রায়ালের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এদিন আইনজীবীর বাড়িতে বসেই সংবাদ মাধ্যমকে নির্যাতিতার বাবা জানান, আমরা বর্তমানে চাইছি যারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তারা সকলেই তদন্তের আওতায় আসুক। একা সঞ্জয়ের ফাঁসি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। একা সঞ্জয়ের পক্ষে এই ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। শিয়ালদহ কোর্টের রায় আমাদের এই দাবিকে মান্যতা দিয়েছে। আমার মেয়ে সরকারি কর্মী। কর্মরত অবস্থায় মানুষের সেবা করতে গিয়ে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয়েছে। তাই রাজ্য সরকার কোনভাবেই এর দায় এড়াতে পারে না। আমি রাজ্য সরকারকে অনুরোধ করব রায়ের কপিটা ভালো করে পড়ার জন্য তাহলেই তারা বুঝতে পারবেন আমি কেন পদত্যাগ দাবি করেছি। একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে বাকীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসন। রায়ের কপিটা ভালো করে না পড়ে সঞ্জয়ের ফাঁসির দাবিতে রাজ্য সরকার তড়িঘড়ি হাইকোর্টে গেল। সিবিআইও ফাঁসির দাবিতে উচ্চ আদালতে গিয়েছে। আর সঞ্জয় শাস্তি মকুবের দাবি করেছে। এই সবই খেলা চলছে। আমরা এই খেলার মধ্যে নেই। আমরা চাই, বাকি যারা যুক্ত তারা সামনে আসুক। কিন্তু রাজ্য তা চাইছে না, এই কারণেই রাজ্যের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছি।
শিয়ালদহ আদালতের বিচারক আমাদের দাবিগুলিকে মান্যতা দেওয়ার জন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই।
নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী তড়িৎ ওঝা বলেন, সঞ্জয় রায় এই ঘটনার সাথে যুক্ত থাকতে পারেন বা নাও থাকতে পারেন সেই বিতর্কে আমরা যাচ্ছি না। এই ঘটনার সাথে প্রথম থেকে যারা যুক্ত তাদেরকে কলকাতা পুলিশ ধরেনি ও সিবিআইও ধরেনি। সিবিআই কলকাতা পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী চার্জশিট দিয়েছে।আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাই কোর্টে আর জি কর মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেই দিন হাই কোর্টে মামলার রি-ট্রায়ালের জোরালো দাবি তোলা হবে।। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানি রয়েছে। আমরা ফের শুনানি চাইছি। আমাদের যুক্তি হল, আর জি করে একাধিক দুর্নীতির ঘটনা রয়েছে। সিবিআই এবং ইডির তদন্তেও তা স্পষ্ট। দুর্নীতির প্রতিবাদের শিকার হতে হয়েছে আমাদের কন্যাকে । রি-ট্রায়ালের আদেশ পেলে কেউ ছাড় পাবে না।”
এদিন মালদহে নির্যাতিতার মা বলেন, আমার মেয়ে পরিকল্পিত খুনের শিকার। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই দায়ী। সঞ্জয় রায় একা বাইরে থেকে এসে এই ঘটনা ঘটিয়ে গেল, আর ভিতরের কেউ কিছুই জানতে পারল না! এটা মানা সম্ভব নয়। চেস্ট মেডিসিন বিভাগের অনেকে ঘটনার সম্পর্কে যুক্ত। তদন্ত নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে পুলিশ ও সিবিআই। আমরা চাই আসল অপরাধীরা সামনে আসুক এবং সকলের সাজা হোক।





