আদালতে মামলার পাহাড়, তাহলে এত ছুটি কেন? প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টার

Newsbazar24:আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থাকে পাল্টানো নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত। তারিখ-পে-তারিখ ব্যবস্থা চলতে পারেনা। ঔপনিবেশিক আমল থেকে হয়ে আসছে। তাহলে পঁচাত্তর বছর ধরে আমরা এই একই ব্যবস্থাকে বয়ে বেড়াচ্ছি কেন?’ প্রশ্ন তুলে দিলেন অক্সফোর্ডের কৃতি ছাত্র অর্থনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট ও দেশের হাইকোর্টগুলোতে লম্বা ছুটির ব্যাপারেও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে ১৯৩ দিন কাজ হয়, হাইকোর্টগুলোতে কাজের দিন ২১০, নিম্ন আদালতে সেটা ২৪৫ দিন। সুপ্রিম কোর্ট বছরে দুইবার লম্বা ছুটি নেয়। যার মধ্যে গরমের ছুটি লম্বা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারির হিসেবে, আশি হাজারেরও বেশি মামলা অমীমাংসিত হিসেবে ঝুলে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
তাহলে আমজনতার প্রশ্ন এত দীর্ঘ লম্বা ছুটি কেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এই কেসগুলোর ফয়সালা কবে হবে? মানুষ কতদিন ধরে বিচারের আশায় সুপ্রিম কোর্টের দোরে দোরে ঘুরে বেড়াবে? তিনি আরো বলেন এইসব পুরনো ব্যবস্থাকে বদলানো দরকার। বা নয়ত, আধুনিকীকরণ করা উচিত। সরকার এতে খানিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু দিনের শেষে তো বিচারব্যবস্থাকেই এই নিয়ে উদ্যোগী হতে হবে।’
সুপ্রিম কোর্টের এই দীর্ঘ ছুটি নিয়ে এর আগে একাধিক কমিশন বা কমিটির রিপোর্টে বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০০০ সালে বিচারপতি মালিমথ কমিটি সুপারিশ করেছিলেন ছুটি ২১ দিন কমানো হোক। বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্টের কর্মদিবস ২০৬ দিন করা হোক, হাইকোর্টের কর্মদিবস বাড়িয়ে করা হোক ২৩১ দিন। ২০০৯ সালের আইন কমিশনের রিপোর্টে ছুটি ১০-১৫ দিন কমানো এবং দিনে কাজের সময় আধঘন্টা বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো এখনো অথৈ জলে। এখানে সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম নীতি নিয়েও সমালোচনা শোনা যায় তার মুখে। কলেজিয়াম ব্যবস্থায় বিচারপতিরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন কে বিচারপতি হবেন। তারপরের বিচারপতিরা আবার তারপরের ব্যাচ ঠিক করবেন। এতে করে যেটা হয়, ওঁদের নিজেদের লোকজনই ঠিক করছেন কে কী হবেন বা পরের জন কে আসবেন।’ পরে নিজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই যে আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সভার একজন সদস্য। এখন আমিই যদি বলি, পরের উপদেষ্টা কে হবেন, সেটা কি হওয়া সম্ভব? নিয়োগ শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।’
সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য বারবারই বলে এসেছে, কলেজিয়াম ব্যবস্থাকে বদলানো হলে তা আদালতের নিরপেক্ষতার ওপর বড়সড় আঘাত হয়ে দেখা দেবে। সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাবে সংসদ, অর্থাৎ, বকলমে রাজনীতিকরা। যে কারণে ২০১৪ সালে ‘ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশন’ গঠিত হলেও তাকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
সঞ্জীব বাবু এরপর সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে সম্ভাষণের রীতি বদলের পক্ষেও সওয়াল করেন। এখনও দেশের আদালতে বিচারপতিদের ‘মাই লর্ড’ বা ‘ইওর লর্ডশিপ’ বলে ডাকার রেওয়াজ রয়েছে। সঞ্জীববাবু বলেন, এগুলো বলতে আসলে কী বোঝায় জানেন কি? সমাজে নতুন চিন্তাভাবনার দরকার। তবেই এই বদলগুলোর জন্য আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আর্থিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যালের নানা বক্তব্য নিয়ে ইদানীং বেশ তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে। কিছুদিন আগেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা নিয়ে সঞ্জীববাবুর মন্তব্যে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। তার আগে বাঙালির সংস্কৃতি নিয়ে মন্তব্য করেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।