Newsbazar24;অবশেষে দীর্ঘ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার অবসান হল।
প্রাথমিক শিক্ষকের ৩২ হাজার চাকরি বহাল রাখল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দিল আদালত।
এদিন মামলার রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, এভাবে ৯ বছর পর একসঙ্গে এতজনের চাকরি কেড়ে নেওয়া হলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিপর্য়য় নেমে আসতে পারে। ১২ নভেম্বর শেষ হয়েছিল শুনানি পর্ব। প্রায় তিন সপ্তাহ পরে এল বহু প্রতীক্ষিত রায়। স্বভাবতই স্বস্তিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা।
প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগে
২০১৪ সালের ‘টেট’-এর ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রাথমিকে প্রায় ৪২ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই বেনিয়মের অভিযোগে মামলা ওঠে হাইকোর্টে। ২০২৩ সালের মে মাসের ১২ তারিখ ওই মামলায় হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রশিক্ষণহীন ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেন। তাঁর নির্দেশ ছিল, চাকরি বাতিল হলেও শিক্ষকরা স্কুলে যাবেন। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুরও নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে কেবল যোগ্য প্রার্থীরাই চাকরি পাবেন।
সিঙ্গল বেঞ্চের ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। তৎকালীন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের চাকরি বাতিলের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে।
একই সঙ্গে বিচারপতি তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ মতো নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া পর্ষদকে শুরু করতে হবে। হাইকোর্টের ওই দুই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য এবং পর্ষদ। সেখানে আবেদন জানান চাকরিহারাদের একাংশ।
তাঁদের বক্তব্য ছিল, সিঙ্গল বেঞ্চ শুনানিতে সব পক্ষকে বলার সুযোগ দেয়নি। ওই বছর শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চকে সব পক্ষের বক্তব্য শুনতে নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরে মামলা যায় বিচারপতি চক্রবর্তী এবং বিচারপতি মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ।
অভিযোগ,এই নিয়োগে বিস্তর বেনিয়ম হয়েছে। মামলা কারীদের দাবি, ইন্টারভিউ থেকে মেধাতালিকা— সব ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতি হয়েছে। যদিও পর্ষদের দাবি ছিল, কয়েকটি ক্ষেত্রে অনিয়ম ধরা পড়লেও তা সংশোধন করা হয়েছে। সব পক্ষের যুক্তি শেষে এদিন নিজের চূড়ান্ত মত জানাল ডিভিশন বেঞ্চ। আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা এই রায়ে হতাশ। তারা জানান দুর্নীতি কিন্তু প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও রায় সঠিক হলো না এর বিরুদ্ধে তারা উচ্চতর আদালতে যাবেন। অপরদিকে চাকরিরত শিক্ষকরা জানান তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হল। তারা কেউ দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে চাকরি পাননি বলে তারা আনন্দ





