আজ ফলহারিনী’ কালী পূজা ! কেন এই পুজোকে রামকৃষ্ণও গুরুত্ব দিয়েছিলেন ? কেনই বা নাম হলো এই রকম

শঙ্কর চক্রবর্তী : হিন্দু ধর্মে, সারা বছর ধরেই দেবী কালীর বিভিন্ন তিথিতে বিভিন্ন রূপে পূজা করা হয়। দেবীর আরাধনা সর্বজন বিদিত। তবে জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে যে কালীর ফল পুজো করা হয় সেই কালীকে বলা হয় ‘ফলহারিনী’ মা। এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পৌরাণিক কাহিনী। আজ ফলহারিনী’ কালী মায়ের পূজা। জেনে নিন আজ কখন অমাবস্যা শুরু হবে এবং শেষ হবে । এবং জেনে নিন কেন এই ফলহারিনী কালী মায়ের পূজার এত মহত্ব আছে ?

২০২৪ সালে ফলহারিনী কালী মায়ের পূজার সময় নির্ঘণ্ট

আজ ৫ জুন (বাংলা ২২শে জ্যৈষ্ঠ ), বুধবার, ফলহারিনী কালী পূজার দিন।

আমাবস্য কখন শুরু হয় এবং শেষ হয়?

অমাবস্য তিথি জুন ০৫, সন্ধ্যা ৭:৫৫ –থেকে জুন ০৬, সন্ধ্যা ৬:০৭ পর্যন্ত

কেন ফলহারিনী কালী পূজা পালিত হয়?

মা কালী জীবের কর্ম হিসেবে ফল প্রদান করছেন। তিনি তার নিজের মধ্যেই কর্মের সমস্ত ফলাফল ধারণ করে থাকেন । মহাশক্তির এই মাতৃদেবী রূপ প্রসন্ন হলেই জীবের সব দুঃখ-দুর্দশা থেকে মুক্তি মিলে । এর সাথে শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়।
কথিত আছে, জগতের মঙ্গল কামনায় ফল ফলহারিনী কালী পূজার দিন রামকৃষ্ণদেব তাঁর স্ত্রী সারদা দেবীর পূজা করেছিলেন। এই দিনে, শ্রী মা সারদাকে ষোড়শী রূপে পূজা করেছিলেন বলে আজকের এই পূজা রামকর্ষ্ণমঠ ও আশ্রমের ভক্তদের কাছে ‘ষোড়শী’ পূজা নামে পরিচিত।

এছাড়া ১২৮০ বঙ্গাব্দ মাসের অমাবস্যা তিথিতে তিনি দক্ষিণেশ্বর অদ্যাশক্তি সুগুন রূপের পূজা করেছিলেন। এ কারণেই এই দিনটি অত্যন্ত শুভ ও পৌরাণিক তাৎপর্য পূর্ণ । মোক্ষলাভের জন্য শ্রী রামকৃষ্ণ বিশেষভাবে এই দিন কালী দেবীর পূজা করলেও এই দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষদের কাছে এই দিনটি খুবই গুরুত্ব পূর্ণ । এই দিন বিভিন্ন ধরনের ফল মা কালীকে অর্পণ করে পূজা করা হয়ে থাকে ।

অন্যদিকে, তার কর্মের ফল হরণ করে, তিনি তার ভক্তদের তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রদান করেন। কালীপূজার দিনে মা কালী নিজেই তার সন্তানদের শুভ ফল দান করেন এবং একই সাথে তাদের থেকে অশুভ ফল কেড়ে নেন।
মানুষকে জন্মের পর থেকেই সারাজীবন কাজ করতে হয় । তবে বিশ্বাস করা হয় যে দেবী কালিকা এই কর্মের মধ্যে ভালো কর্মের ফল দান করেন।
কারণ তিনি শক্তি, জ্ঞান, ইচ্ছা এবং কর্ম শক্তি আকারে সবকিছুর উপর রাজত্ব করেন। আর সেই কারনেই ফল হারিণী কালীর ফল পুজো করলে সকলের শিক্ষা, কর্ম এবং এর সাথে তাদের আর্থিক ভাগ্যের উন্নতি হয়। প্রেমের সব বাধা দূর হয়। দাম্পত্য জীবনে সুখ শান্তি বজায় থাকে ।

এই মাসে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদি ফল সহজেই পাওয়া যায়। ভক্তরা তাদের প্রিয় দেবীকে ইচ্ছেমত বিভিন্ন ফল নিবেদন করে থাকেন । শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ‘ জীবনী সর্বস্ব ‘ অর্থাৎ সাধকের সাধকের খারাপ কর্মের ফল হরণ করে সাধক কে পাপমুক্ত করা ।

এরকম আরো খবর পেতে সাবস্ক্রাইব করুন