Newsbazar24:: প্রত্যেকের মাথায় কালী প্রতিমা তাই নিয়ে দৌড়াতে হবে। প্রায় ৩৫০ বছর আগে চাঁচলের তৎকালীন রাজা শরৎচন্দ্র রায় বাহাদুর চালু করেছিলেন চাচোলের মালতীপুরের কালী দৌড় প্রতিযোগিতা। সেই রীতি আজও অব্যাহত। সেই ধারাকে অব্যাহত রেখে এখনও সেখানে আয়োজিত হয় কালী দৌড় প্রতিযোগিতা। মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। এই কালি দৌড় ঘিরে ছিল প্রচন্ড নিরাপত্তার বলয়।
হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিমরাও প্রতিযোগিতা দেখতে হাজির হন। দৌড় প্রতিযোগিতা ঘিরে তৈরি হয় সম্প্রীতির আবহ। গতকাল দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে উপস্থিত ছিলেন মালদা জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসেন, চাঁচল থানার আইসি পুর্ণেন্দু কুন্ডু, চাঁচল-২ এর বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী সহ এলাকার জেলা পরিষদ সদস্য রেহেনা পারভীন, চাঁচল-২ ব্লকের বিডিও শান্তনু চক্রবর্তী, চাঁচল-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বাদল সাহা, মালতীপুর পঞ্চায়েত প্রধান ছোটেলাল নুনিয়া প্রমুখ।
এবার মালতীপুরে কালী দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সাতটি কালী প্রতিমা। এদের মধ্যে ছিল হ্যান্টা কালী, হাট কালী ও শ্যামা কালী, বুড়ি কালী, চুনকা কালী, বাজারপাড়া কালী, আম কালী। মা কালীকে মাথায় নিয়ে প্রথমে ষ মালতীপুর গ্রাম প্রদক্ষিণ করে প্রতিমা গুলোকে দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়। এই দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কালীকে একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করানো হয়। এই ভাবে প্রতিটি কালী পাঁচ বার গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। সঙ্গে ঢাকের বাদ্যি ও আতশবাজির প্রদর্শনী চলতে থাকে। শেষে প্রতিমা গুলো নির্দিষ্ট পুকুরগুলোতে নিরঞ্জন করা হয়। এই দৌড় প্রতিযোগিতায় আজও ঐতিহ্য মেনে পাটকাঠির মশাল জ্বালিয়ে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়
কালী মাথায় নিয়ে এ আজব দৌড় কেন? এর পিছনে রয়েছে এক ঐতিহাসিক তথ্য। যে সময়কার কথা সেই সময় মালতীপুরে পুকুরের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি। মালতীপুর কালীবাড়ী লাগোয়া পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হত একাধিক কালী প্রতিমাকে। প্রতিমা নিরঞ্জনের ভিড় এড়াতে সে সময় চাঁচলের রাজা শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরী সুষ্ঠুভাবে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে এই কালী দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু করেন। অমাবস্যার পরের দিন সন্ধ্যার সময় মালতীপুর বাজারে একটি কালী দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তিনি। প্রতিযোগিতায় নিয়ম ছিল এই কালী দৌড়ে যার কালী প্রতিমার কোন ক্ষতি হবে না, সেই প্রতিমাকেই প্রথম বিসর্জন দেওয়া হবে কালী দিঘিতে।
সে রাজাও নেই। রাজপাটও চুকে গিয়েছে কবে। তবে থেকে গিয়েছে সেই রীতি। এদিন সন্ধ্যায় মালতীপুরে এই প্রতিযোগিতা দেখতে এলাকা সহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় হাজারেরও বেশি লোক সমবেত হয়েছিল।






