Newsbazar24:: আই-প্যাক সংক্রান্ত মামলায় ইডির অভিযানে ঘিরে আজ কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি হল।
দিনের শেষে প্রথম রাউন্ডে তৃণমূলের পরাজয় এটা নির্দ্বিধায় বলা যায় কারন ইডির তল্লাশি নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ টিকল না। সুপ্রিম কোর্টে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত মামলা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছিল ইডি, আর সেই আবেদনকে মেনে নিল কলকাতা হাই কোর্ট।
এদিন ইডি আদালতে জানায় যে, আই-প্যাকের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালানোর সময় তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ যে, আইন মেনে তল্লাশি এবং নথি বাজেয়াপ্ত করতে গেলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। সেই সঙ্গে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস কেড়ে নেওয়া হয়।
ইডির দাবি যে, ওই সময় রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক এবং পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে। যা তদন্ত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। সংস্থার তরফে বলা হয় যে, এটি একদম ন্যায়বিচারে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি যে, আই-প্যাক সংক্রান্ত অভিযানে ইডি বেআইনিভাবে রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি সংক্রান্ত কৌশল, সমীক্ষা রিপোর্ট, সাংগঠনিক তথ্য ও ভোটার সংক্রান্ত ডেটা নিয়ে গেছে ইডি। যার সঙ্গে টাকা পাচার অথবা কোনও অপরাধের কোনও সম্পর্ক নেই।
তাদের অভিযোগ যে, ইডির এই অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একপ্রকার হেনস্থা।
শুনানিতে ইডির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয় যে, যদি সত্যিই নির্বাচনী তথ্য নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ থাকে, তবে মামলায় নির্বাচন কমিশনকে পক্ষ করা হয়নি কেন। পাশাপাশি ইডি জানায় যে, তারা কোনও রাজনৈতিক ডেটা বাজেয়াপ্তই করেনি। বরং অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সংশ্লিষ্ট জায়গায় উপস্থিত হয়ে নথি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করে ইডি।
ইডির আইনজীবীর চাঞ্চল্যকর দাবি তৃণমূলের দাখিল করা হলফনামায় যার সই রয়েছে তল্লাশি চলাকালীন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আর সেই কারণে মামলাটি অনুমানের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে তৃণমূলের তরফ থেকে আদালতে বলা হয়, ইডি যদি দাবি করে যে কোনও তথ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়নি, তবে সেই বক্তব্য আদালতে নথিভুক্ত করা হোক। কারণ রাজনৈতিক তথ্য সুরক্ষিত রাখা দলের অধিকার।
শুনানির শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের করা আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। সেই সঙ্গে ইডির আলাদা আবেদন পরবর্তী শুনানির জন্য মুলতুবিও রাখা হয়েছে।
আজ আদালতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) স্পষ্ট জানায় যে , আই-প্যাকের অফিস অথবা সংস্থার ডিরেক্টরের বাড়ি কোনও জায়গা থেকেই তারা কোনও নথি, হার্ডডিস্ক বা ডিজিটাল তথ্য বাজেয়াপ্ত করেনি। ইডির এই বক্তব্য নথিভুক্ত করার আবেদন জানায় তৃণমূল কংগ্রেস।
তবে ইডির তরফে পাল্টা দাবি, অভিযানের সময় কোনও কিছুই তারা নেয়নি। বরং সমস্ত নথি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নিয়ে গিয়েছেন বলেও আদালতে জানায় সংস্থা।
এই পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট জানায় যে, তৃণমূলের আবেদনে আর কোনও বিষয় বিচারাধীন নেই। ফলে সেই আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। তবে ইডির করা পৃথক মামলার শুনানি পরে হবে বলেও জানানো হয়েছে। আদালত উল্লেখ করে যে, এই সংক্রান্ত কিছু বিষয় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।





