Newsbazar24:মাইকেল মধু সুদন বঙ্গভূমির প্ৰতি কবিতায় বলেছেন “জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে ” অর্থাৎ মৃত্যু মানুষের অনিবার্য নিয়তি। এর থেকে পরিত্রাণের কোনো পথ নেই। মৃত্যু আছে বলেই জীবন এত বৈচিত্র্যময়।
কিন্তু সেই মৃত্যু যখন জীবন গড়ার শুরুতেই হয়ে যায় তখন সেই বৈচিত্র্যময় জীবন সবার হয়ে উঠে ভারাক্রান্ত।
একথা বলার একমাত্র কারন হচ্ছে ২০২২সালে ২০ শে নভেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারন রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থাৎ ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে সে না ফেরার দেশে চলে যান আমাদের সবার প্ৰিয় অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা।
তাঁর মৃত্যু হয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রত্যেক বছরই গরীব, দুঃস্থ, অসহায় মানুষদের হাতে শীত বস্ত্র এবং কিছু খাবার তুলে দেওয়া হয় ঠিক এবছর ও তিন বছরে অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা সর্মার এই মৃত্যুবার্ষিকী পরায় তাঁর বাবা ডক্টর উত্তম শর্মা ও মা শিখা শর্মা পাঁচগ্রামে পাঁচগ্রাম সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোয়ার্টার সংলগ্নে প্রায় ৩০০ জন মতো গরীব, দুঃস্থ, অসহায় মানুষদের হাতে শীত বস্ত্র এবং টিফিন তুলে দেন। ঐন্দ্রিলা ছোট থেকে বড় হয়েছিলো এই পাঁচগ্রামে, তাই তিনি পাঁচগ্রামের গর্বিত একজন মেয়ে ছিলো।
এবছর মা অসুস্থ থাকায় হঠাৎ করে পাঁচগ্রাম সু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোয়ার্টার সংলগ্নে এই ধরনের কর্মসুচি তারা গ্রহণ করে। ঐন্দ্রিলা যখন এই জগতে ছিলেন তখন যে দু’জনের সাথে সময় কাটাতেন তারাও সেই টেবিলে উপস্থিত ছিলো, অর্থাৎ তাঁর প্ৰিয় ডগী বোজো এবং তোজো।
এখানেই শেষ হয়নি এই ঐন্দ্রিলা শর্মাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য একটি আম গাছ রোপন করা হয় তাঁর মা ও বাবার, হাত দিয়ে। এই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোয়ার্টার সংলগ্নে। আম গাছ যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে থাকে তাই এই আম গাছ রোপন করা হয়।
সেই সময় ঐন্দ্রিলা শর্মার মা কান্নায় ভেঙে পরেন, তাঁর মা অশ্রু ভরা চোখে এবং অশ্রু ভরা কন্ঠে বলেন ‘আমার দুই মেয়ে, বড়টার ইচ্ছে ছিলো ডাক্তার হওয়ার আর ছোট টার ইচ্ছে ছিলো অভিনেত্রী হওয়ার, সে তাই হয়েছিলো, কিন্তু প্রকৃতি যদি বাধা দেয় ঈশ্বর যদি না চাই সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার থাকেনা’। অন্যদিকে বাবা ডক্টর উত্তম শর্মা বলেন মেয়ে আমাকে টাকা ধার চেয়েছিলো সেই টাকা পরে শোধ করে দেবেও বলে জানিয়েছিলো, ধার নেওয়া টাকা থেকে একটা ফিল্মি ইন্ডাস্ট্রিয়ালে একটি প্রোডাকশন হাউস করার ইচ্ছে হয়েছিলো সেই ইচ্ছেটা সে বেঁচে থাকতে পূরণ না হলেও এখন ঐন্দ্রিলা প্রোডাকশন হাউস নামে একটা প্রোডাকশন হাউস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানায়, ভবিষ্যতে তাঁর স্মৃতির উদ্দেশে আরও কিছু ভালো জিনিস করার কথা ভাবছেন বাবা ও মা।
গোটা পাঁচগ্রাম বাসী আজকের দিনে ভারাক্রান্ত,
শীত বস্ত্র নিতে আশা গরীব, দুঃস্থ, অসহায় মানুষেরা সবাই মিলে উপর ওয়ালার কাছে দোয়া, প্রার্থনা করে ঐন্দ্রিলা শর্মার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।
সন্ধ্যার দিকে আত্মার শান্তি কামনার্থে নাম কীর্তনের ও আয়োজন করা হয়।
অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মার মৃত্যুবার্ষিকীতে তার বাবা-মা পাঁচগ্রাম সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোয়ার্টার সংলগ্নে গরীব, দুঃস্থ, অসহায় মানুষদের হাতে শীত বস্ত্র এবং টিফিন তুলে দেন।





