Newsbazar24 :রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের সচিব পিবিসালিম হঠাৎই এক নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের প্রতিটি জেলাশাসকের কাছে সেই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে নবান্ন। ওই নির্দেশিকায় রয়েছে, ‘উমিদ পোর্টাল তৈরির ছয় মাসের মধ্যে সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য সেই পোর্টালে আপলোড করতে হত। এই ছয় মাসের সময়সীমা ৫ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। তাই এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের ৮২ হাজার ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য আপলোড করতে হবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় পোর্টালে।‘ অর্থাৎ কেন্দ্রের তৈরি ওয়াকফ সংশোধনী আইন মেনে নিল রাজ্য সরকার।
একসময়ে সংশোধিত ওয়াকফ আইননের সর্বাত্মক বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল। সেই বিরোধিতার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ওয়াকফ সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে কাচের বোতল আছড়ে ভেঙেছিলেন, নিজের ডান হাত কেটে রক্তারক্তি করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ভরা সভায় বলেছিলেন, ‘যতক্ষণ তিনি রয়েছেন, বাংলায় ওয়াকফ হতে দেবেন না।’ তাহলে হঠাৎ কি হলো? যার জন্য ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে অবস্থান বদল করতে হলো।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে কেন্দ্রের তৈরি আইন না মেনে বেশিদিন অপেক্ষা করতে পারে না’ কোনও রাজ্য। সুতরাং আইনে সম্মতি দিতেই হবে। বাংলাও দিয়েছে।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে ছেঁদো যুক্তি খাড়া করা হয়েছে দলের মুখপাত্র তথা কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী জানান, ‘আমাদের আপত্তির জায়গাটা নীতিগত। মোদী সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি বিক্রির পর এবার নজর পড়েছে ওয়াকফ এস্টেটগুলিতে। রাজ্যের ওয়াকফ সম্পত্তিগুলি যাতে ওয়াকফ বোর্ডের আওতায় থাকে, সেটাকে সুনিশ্চিত করতেই আমরা নতুন নির্দেশিকা জারি করেছি।’
এক সময়ে বিরোধিতা করে বর্তমানে রাজি হলেও রাজ্যের বিরোধী শিবির কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সরকারকে
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না। বাবা সাহেব অম্বেদকরের সংবিধান শেষ কথা বলবে। আর এই ওয়াকফ আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে যে হিন্দুদের ক্ষতি হয়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিন। আর মুসলিমদের বলছি, আপনারা যদি সত্যি ওয়াকফ আইনের বিরোধী হন, তা হলে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে বয়কট করে দেখান।’
প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, বাংলায় ওয়াকফ আইন বয়কট করার মধ্য দিয়ে তৃণমূল আসলেই জমি মাফিয়াদের সুবিধা করে দিচ্ছিল। ‘বাংলায় প্রচুর ওয়াকফ সম্পত্তি। এই সুবাদে রেজিস্ট্রেশন না হওয়া জমিগুলি মাফিয়ারা দখল করে নিতে পারে বলেই আশঙ্কা।’
ওয়াকফ নিয়ে সংখ্যালঘু নেতাদের বক্তব্য: ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘প্রথমে বললেন মানা হবে না, এখন মেনে নিলেন। এসআইআর নিয়েও বলেছিলেন। কিন্তু রাজ্যে এখন এসআইআর চলছে।’
অন্যদিকে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দাবি, ‘এই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেছিলেন, ওয়াকফ লাগু হতে দেবেন না। ওনার আমলেই তো সবচেয়ে বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি চুরি হয়েছে। এসব দ্বিচারিতা নিয়ে সংখ্যালঘু মানুষদের এবার ভাবা উচিত।’
রাজ্য সরকারের আধিকারিক থেকে সিদ্দিকুল্লা— প্রায় সকলের কথাতেই স্পষ্ট, এই নির্দেশিকা জারি না-করে কোনও উপায় ছিল না নবান্নের।





