You are here: Homeঅনেক কিছুপ্রেস-রিলিজভারত সেবাশ্রম সংঘের শতবর্ষ উদযাপন সমারোহ উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ
Monday, 08 May 2017 18:25

ভারত সেবাশ্রম সংঘের শতবর্ষ উদযাপন সমারোহ উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ Featured

Written by 

নয়াদিল্লী, ৭ইমেঃ   প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ভারত সেবাশ্রম সংঘের শতবর্ষ উদযাপন উৎসবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভাষণ দেন। অনুষ্ঠানটি শিলং-এ আয়োজিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সাধারণ সম্পাদক শ্রীমৎ স্বামী বিশ্বাত্মানন্দজি মহারাজ ভারতের গৌরবময় আধ্যাত্মিকতা ও সেবার ঐতিহ্য সম্পর্কে বলেন।

সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী গুজরাটে তিনি যখন ভারত সেবাশ্রম সংঘের সঙ্গে কাজ করেছিলেন, তখনকার কথা স্মরণ করেন। তিনি ভারত সেবাশ্রম সংঘকে শতবর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই সংগঠনে সেবা ও শ্রম এই দুই গুণের সমন্বয় ঘটেছে। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই সংগঠনের কাজকর্ম এবং বিপর্যয়ের সময় এর ভূমিকা বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী পুঁথি ইত্যাদিতে যেমন বলা আছে তেমনভাবেই গরিব ও দুস্থদের সেবা করার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন,

আচার্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ দ্বারা স্থাপিত ‘ভারত সেবাশ্রম সংঘ এ বছর শতবর্ষ পূর্ণ করল। এক শতাব্দী আগে সামাজিক ন্যায়ের কথা বলেছিলেন এবং তিনি এই উদ্দেশ্যেই সংঘ গড়ে তোলেন। ভারত নির্মাণের জন্য সেবা এবং শ্রমকে পাথেয় করে এগিয়ে যাওয়া এই সংঘের সকল সদস্যকে আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। যে কোনও সংস্থার জন্য এটা অনেক গর্বের বিষয় যে তার সেবার বিস্তার, ১০০ বছর পূর্ণ করছে। বিশেষ করে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে ভারত সেবাশ্রম সংঘের জনকল্যাণকারী কাজ অনেক প্রশংসার দাবি রাখে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি একটি মিথ গড়ে তোলা হচ্ছে যে, সেবা আর আধ্যাত্মিকতা দুটি পৃথক বিষয়। তিনি বলেন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ তার কাজের মধ্য দিয়ে এই মিথটি ভেঙে দিতে পেরেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন - ভক্তি, শক্তি আর জনশক্তির মাধ্যমে স্বামী প্রণবানন্দজি সামাজিক উন্নয়ন ঘটিয়েছিলেন। বন্যা হোক বা খরা, কিংবা প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের পর ভারত সেবাশ্রম সংঘের সদস্যদের ঝাঁপিয়ে পড়ে পীড়িতদের ত্রাণ পৌঁছতে দেখা যায়। সংকটের সময় যখন মানুষের সর্বাধিক সাহায্যের প্রয়োজন, তখন স্বামী প্রণবানন্দের শিষ্যরা সবকিছু ভুলে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। আমাদের শাস্ত্রে পীড়িত মানুষের সেবাকে তীর্থযাত্রার সাফল্যের সমতুল মনে করা হয়। বলা হয়েছে – ‘একতঃ ক্রতবঃ সর্বে সহস্র বর দক্ষিণা অন্যতো রোগভীতানাম্‌ প্রাণীনাম্‌ প্রাণ রক্ষণম্‌’। অর্থাৎ, একদিকে যথাবিধি সকলকে ভালো দক্ষিণা দিয়ে সম্পন্ন করা যজ্ঞকর্ম আর অন্যদিকে দুঃখী এবং রোগগ্রস্ত মানুষের সেবা – উভয়ই সমান পুণ্যের কাজ। তিনি আরও বলেন , স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ তাঁর আধ্যাত্মিক যাত্রার চরমে পৌঁছে বলেছিলেন – ‘এই সময় মহামিলন, মহাজাগরণ, মহামুক্তি আর মহান সমন্যায়ের’। তারপরই তিনি ভারত সেবাশ্রম সংঘের ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯১৭ সালে স্থাপনের পর যে সেবাভাব নিয়ে এই সংস্থা কাজ শুরু করেছিল, তা দেখে বড়োদার মহারাজ সয়াজীরাও গায়কোয়াড়-ও অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছিলেন।

জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা, শ্রদ্ধেয় ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় তো স্বামী প্রণবানন্দজিকে নিজের গুরুর মতো সম্মান করতেন। ডঃ মুখোপাধ্যায়ের ভাবনাচিন্তায় অনেক ক্ষেত্রেই স্বামী প্রণবানন্দজির ভাবনাচিন্তার প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়। শিষ্যদের মনে রাষ্ট্র নির্মাণের ভাবনার অঙ্কুরোদ্‌গম ঘটিয়ে তবেই স্বামী প্রণবানন্দ তাঁদের অধ্যাত্মচর্চা আর সেবার জন্য যেভাবে সমর্পণ করতেন, তা অতুলনীয়। ১৯২৩ সালের বাংলার ভয়াবহ খরার সময়, ১৯৪৬ সালে নোয়াখালির দাঙ্গা, ১৯৫০ সালে জলপাইগুড়ির ভয়াবহ বন্যা, ১৯৫৬ সালে কচ্ছ-এর ভূমিকম্প, ১৯৭৭ সালে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত অন্ধ্রপ্রদেশে, ১৯৮৪ সালে অভূতপূর্ব গ্যাস দুর্ঘটনা পরবর্তী ভোপালে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সেবাদূতেরা পীড়িতদের মাঝে গিয়ে যেভাবে তাঁদের সেবা করেছেন, তা উচ্চ প্রশংসার দাবি রাখে।  শুধু দেশেই নয়, বিশ্বের যে কোনও অঞ্চলে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ভারত সেবাশ্রম সংঘের সদস্যরা ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে পৌঁছে যান, সেজন্য আপনাদের যত অভিনন্দনই জানানো হোক, তা কম হবে। আমাদের শাস্ত্রে বলা হয়েছে - ‘আত্মার্থম জীব লোকে অস্মিন্‌ কো ন জীবতি মানবঃ। পরম পরোপকার আর্থম য়ো জীবতি স জীবতি’।।  অর্থাৎ, এই সংসারে নিজের জন্য কে না বাঁচে, কিন্তু যিনি পরোপকারের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন, তাঁর জীবনই হ’ল আসল জীবন। সেজন্য পরার্থে অসংখ্য প্রয়াস দ্বারা সুশোভিত আপনাদের সংস্থার শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে অভিনন্দন জানাই। 

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই সুন্দর প্রবেশদ্বার যদি পরিচ্ছন্ন না থাকে, অসুস্থ থাকে, অশিক্ষিত থাকে, ভারসাম্যহীন থাকে - তা হলে দেশের উন্নয়নের প্রবেশদ্বারও পিছিয়ে পড়বে। সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা এবং খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ আমাদের দেশের পিছিয়ে থাকার বা দরিদ্র হয়ে থাকার কোনও কারণ নেই। ‘সকলের সঙ্গে সকলের উন্নয়ন’ মন্ত্র নিয়ে আমরা সকলের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে এগিয়ে যাব।

আমাদের সমাজ – সমন্বয়, সহযোগ এবং সৌহার্দ্যের মাধ্যমে ক্ষমতায়িত হবে, আমাদের যুবসমাজ – চরিত্র, চিন্তন এবং চেতনায় ক্ষমতায়িত হবে, আমাদের দেশ – জনশক্তি, জনসমর্থন এবং জনভাবনায় ক্ষমতায়িত হবে।

এই পরিবর্তনের জন্য, পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য নতুন ভারত গড়ে তোলার জন্য আমাদের সবাইকে কোটি কোটি নিঃস্বার্থ কর্মযোগীদের, ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো অসংখ্য সংস্থাগুলিকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। এই আহ্বান রেখে আমি আমার বক্তব্য সম্পূর্ণ করছি। আরেকবার ভারত সেবাশ্রম সংঘের সকল সদস্যদের অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাই। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

 

Read 65 times Last modified on Monday, 08 May 2017 19:13
Login to post comments

ফটো গ্যালারী

Market Data

সম্পাদকের কথা

ফ্যান ছবিতে দেখা যাবে ১৭ বছরের শাহরুখকে

ফ্যান ছবিতে দেখ...

ডেস্ক: ছবির নাম যখন ফ্যান, আর অভিনয়ে যখন...

ধর্মীয় মৌলবাদীদের হামলায় খুন লেখক অভিজিৎ রায়

ধর্মীয় মৌলবাদীদ...

ঢাকা: একুশের বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা ...

উদাসী হাওয়ায় গা ভাসিয়ে বলতেই পারেন, ""হোলি হ্যায়''!!!

উদাসী হাওয়ায় গা...

শান্তিনিকেতনে বসন্ত উত্সবের সূচনা হয় প্র...

বিবাহ বন্ধনে আবব্ধ হতে চলেছেন খ্যাতনামা অফ-স্পিনার হরভজন সিংহ

বিবাহ বন্ধনে আব...

কার্ত্তিক চন্দ্র পাল : ভারতের খ্যাতনামা ...

আপগ্রেড করুন

« January 2018 »
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
1 2 3 4 5 6 7
8 9 10 11 12 13 14
15 16 17 18 19 20 21
22 23 24 25 26 27 28
29 30 31        

MC News

Contact Us

Email: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

Face Book: /newsbazar24 

Helpline No- 09434219594/9126173604