প�র�লিয়া

  • পুরুলিয়ায় দলীয় সভায় ২০১৯এ বাংলায় পরিবর্তনের আহ্বান জানান,বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ

    Newsbazar,ডেস্ক, ২৯ জুনঃ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ পুরুলিয়ায় দলীয় সভায় রাজ্যের  তৃনমূল সরকারকে   কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন । তিনি  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, বাংলায় শুধু রয়েছে বোমার শিল্প । অন্য কোনও শিল্প নেই। আপনি আগে বাংলা সামলান পরে জোট সামলাবেন। তৃণমূল সরকারের আয়ু আর বেশিদিন নেই, সাধারন মানুষ এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দেবে। পুরুলিয়ায় সভায় ব্যাপক জনসমাগমে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। তিনি বলেন ২০১৯ আর বেশি দেরী নেই, ২০১৯এ তৃণমূল শেষ। রাজ্যের মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এই পরিবর্তনের আওয়াজ কলকাতা তথা সারা  রাজ্যে  পৌঁছে দিতে হবে বলে তিনি কর্মীদের কাছে আবেদন   জানান।  তিনি তৃনমূল সুপ্রিমোর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, বাংলার উন্নয়নে কেন্দ্রের দেওয়া  টাকার হিসাব কোথায়। কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন উন্ন্য়ন  প্রকল্পে  গরিব মধ্যবিত্তদের  সাহায্য দিত চাইলেও, তৃণমূল সরকার তা  চায় না বলে অভিযোগ করেছেন অমিত শাহ।   অমিত শাহ  আরও বলেন, কেন্দ্রের দেওয়া ৩ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি টাকা কার পকেটে গিয়েছে। বাংলায়  বর্তমানে চলছে মাফিয়ারাজ ও সিন্ডিকেট রাজ  এ ছাড়াও  ক্লাবগুলোকে টাকা দিয়ে গুন্ডারাজ চালানো হচ্ছে অভিযোগ করেন,  অমিত শাহ। রাজ্যের ব্যাপক অংশের  মানুষকে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হয়নি  বলে অভিযোগ করেন অমিত শাহ। সন্ত্রাস চালিয়ে সরকার বাঁচানো যায় না বলেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ।  তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ চলছিল, তাই সেখানকার সরকার বদলে দিয়েছে সাধারণ মানুষ। রাজ্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা কাদের মদতে  ঢুকছে, সেই প্রশ্নও তোলেন অমিত শাহ। পরিশেষে তিনি পুরুলিয়াবাসীদের কাছে রাজ্যে পরিবর্তনের সুচনা করার আহ্বান জানান।  

  • পরপর দুই বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় পুরুলিয়া উত্তাল, পুলিশ সুপার বদল।

     News bazar24,ডেস্ক, ২রা জুন:  আবার পুরুলিয়ায় বলরামপুরে বিজেপি কর্মী খুন। এই নিয়ে পরপর  দুইজন বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় সারা রাজ্যে তোলপাড়। জানা গেছে মৃতের নাম দুলাল কুমার (৩২)। কাল সন্ধ্যায় তাঁকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। শনিবার ভোরে এলাকার একটি হাই টেনশন টাওয়ার থেকে তাঁর মৃতদেহ ঝুলতে দেখা যায়।স্থানীয়রা তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলেছেন। বলরামপুরের ডাভা গ্রামের বিজেপি-র ওবিসি মোর্চার কর্মকর্তা ছিলেন দুলাল। কাল সন্ধেয়  তাঁকে অপহরণ করা হয় বলে দলের তরফে জানানো হয়েছে। আর আজ তাঁকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ ঘটনাস্থান থেকে মৃতদেহ আনতে গেলে গ্রামের বাসিন্দারা বাধা দেন। সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন তাঁরা। পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথরও ছোড়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে আত্নহত্যার ঘটনা বলছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাসকে বদলি করা হয়েছে বলে  জানা গেছে।  কারন এর আগের খুনের পর  তিনি মন্তব্য করেছিলেন , খুন নয়, আত্মঘাতী হয়েছে বিজেপি কর্মী।তারপর এদিন ফের খুন হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর রোষানলে পড়ে তাকে বদলি হতে হয়। জয় বিশ্বাসের জায়গায় নতুন পুলিশ সুপার হলেন আকাশ মাঘারিয়া। একদিকে পুলিশি ব্যর্থতা ও অন্যদিকে বিতর্কিত মন্তব্য করে জয় পদ হারালেন বলে জানা গেছে।         এর আগে ৩০ মে বলরামপুরেরই সুপুরড়ি গ্রামের এক জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয় ত্রিলোচন মাহাত নামে আরেক বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ। তার সাদা টি-শার্টের সামনে ও পেছনে পেন দিয়ে খুনিরা লিখে রেখেছে, ১৮ বছর বয়সে বিজেপি রাজনীতি। এছাড়া ত্রিলোচনের ঝুলন্ত দেহের নীচে একটি হাতে লেখা সাদা কাগজ পড়ে ছিল। সেখানে লেখা ১৮ বছর বয়সে বিজেপি-র রাজনীতি। এবার তোর প্রাণ নি..তোকে ভোটের থেকেই এই কাজটা করার চেষ্টা করি পারি না ... আজকে তোর প্রাণ শেষ। এক্ষেত্রেও অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদ করে টুইট করেন অমিত শাহ। ঘটনার গুরুত্ব উপলব্দি করে  সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয় রাজ্য সরকার। যদিও সিআইডি তদন্তে খুশি নয় বিজেপি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে সিআইডিকে দিয়ে রাজ্য তদন্ত করাতে চাইচে বলেও দাবি করা হয়েছে।  

  • জঙ্গলমহলে নূতন শক্তি হিসাবে বিজেপির আত্মপ্রকাশ সত্ত্বেও জেলা পরিষদে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতায় তৃনমূল

    Newsbazar,১৮ইমেঃ  বিজেপি পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম সহ জঙ্গলমহলের গ্রাম পঞ্চায়েতও পঞ্চায়েত সমিতিতে  তৃণমূলের সাথে প্রায় সমান সমানে টক্কর দিলেও জেলা পরিষদে  সেটা ধরে রাখতে পারল না। পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে জেলা  পরিষদে একচেটিয়া জয় পেল তৃণমূল কংগ্রেস। জঙ্গল মহলে বিরোধী শক্তি হিসাবে ব্যাপকভাবে আত্মপ্রকাশ করল বিজেপিই।কংগ্রেস ও বামেরা চলে গেল অনেক পিছনে। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য বিজেপি উৎফুল্ল। জেলা পরিষদে সবুজ ঝড়ে কুপোকাত বিরোধীরা। পুরুলিয়ায় জেলা পরিষদের মোট ৩৮ আসনের মধ্যে তৃণমূল পেল ২৫টি আসন, বিজেপি পেয়েছে ১০টি আসন, আর কংগ্রেস পেয়েছে ৩টি আসন। তবে বামফ্রন্ট একটি আসনও পায়নি।  তৃণমূলের সঙ্গে প্রায় সমানে সমানে  টক্কর দিয়ে বিজেপি এই জেলায় বেশ কিছু  গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করায়,  জেলা পরিষদেও এর প্রতিফলন হতে চলেছে বলে মনে হয়েছিল রাজনৈতিক মহলের।কিন্তু ফলাফলে দেখা গেল জঙ্গলমহল তৃণমূলে আস্থা  রেখেছে জঙ্গলমহল। ২৫টি জেলা পরিষদ আসনে জিতে জেলা পরিষদ দখল করেছে  তৃণমূল। যদিও পুরুলিয়ার  সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতোর পরাজিত হয়েছেন। ঝাড়গ্রাম  জেলা পরিষদেও তৃণমূলের জয়জয়কার । ১৬টির মধ্যে ১৩টি লাভ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি  পেয়েছে বাকি তিনটি আসন।  কংগ্রেস ও বামেরদের ভাড়ার শূন্য। কিন্তু পুরুলিয়ার ন্যায় এই জেলায়ও  বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন বিদায়ী জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি।  বিজেপি রাজ্যের অন্যান্য জেলাগুলি থেকে তৃণমূলকে সবথেকে বেশি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইতে রেখেছে  ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায়। পুরুলিয়ার মতো ঝাড়গ্রামেও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে তৃণমূলকে সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে বিজেপি। যদিও আসন দখলে বিজেপি সমানে সমানে টক্কর দিলেও বেশিরভাগ পঞ্চায়েতেই ক্ষমতায় থাকছে  তৃণমূল। ঝাড়গ্রামে ৭৯টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ৪২টিতে জয়ী তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি জিতেছে ১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েতে। আর তিনটির দখল নিয়েছে নির্দল। ৯টি পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু হয়েছে। পুরুলিয়ায় ১৭০টির মধ্যে ৪২টি গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। আর ২৬টি ত্রিশঙ্কু হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতিতে ঝাড়গ্রামে তৃনমূল পেয়েছে ৯৫টি আসন বিজেপি পেয়েছে ৬০ টি আসন, বামফ্রন্ট মাত্র-২টি। পুরুলিয়াতে  তৃনমূল পেয়েছে ১৩৭টি আসন বিজেপি পেয়েছে ৭১ টি আসন, বামফ্রন্ট-১৫টি আসন আর কংগ্রেস পেয়েছে-১৯টি আসন।