������������������

  • দুর্গাপুজোর সপ্তমীতেই রেকর্ড সংখ্যক ভিড় দেখল সারা বাঙলা

    ডেস্ক : সপ্তমীর সন্ধ্যায় মাতলো সারা বাঙলা। মাতলো কলকাতা সহ সব জেলার মানুষ। আট থেকে আশি প্রত্যেকেই ভিড় জমিয়েছে মন্ডপে মন্ডপে। সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে যা খবর পাওয়া গেছে, তা এক কথায় বলতে গেলে, এবছর দুর্গাপুজোর সপ্তমীতেই রেকর্ড সংখ্যক ভিড় দেখল কলকাতা।  পুলিশ সূত্রে তেমনটাই খবর। সকালে ভ্যাপসা গরম আর বিকেলে মেঘে ঢাকা তারা কে উপেক্ষা করেই শহরে মন্ডপে মন্ডপে ঢল নেমেছএ দর্শনার্থীদের। সপ্তমীতেই দর্শনার্থীর সংখ্যা ৮ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে বলে পুলিশের হিসেবে উঠে এসেছে। যা গত কয়েকবছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। ফলে আগামী তিনদিন সেই সংখ্যা এবছরের সপ্তমীর ভিড়কেও টপকে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন, ''টানা কয়েকদিনের লাগামছাড়া গরমের পর রাজ্যের কয়েক জায়গায় বৃষ্টির জেরে মানুষ স্বস্তি পেয়েছিল। গরম কমার জন্যই এত ভিড় বলে তাঁদের অভিমত'' । বেলা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কলকাতার পুজো দেখতে আসা দর্শকদের ভিড় বাড়তে থাকে। ফলে যান চলাচল প্রায় থমকে যেতে শুরু করেছিল। যদিও পুলিশ যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার। কিন্তু তারপরেও শহরের বেশ কিছু জায়গায় যান চলাচল প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। সূত্রের খবর, সন্ধের পরে বিটি রোড এবং উল্টোডাঙা থেকে ভিআইপি রোডের একাংশ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে উত্তরে শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে এবং পূর্বে হাডকো মোড়ে সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক যানজট হয়। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন জায়গায় কিছুসময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের এক কর্তা বলেন, ''বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি বুঝে সাময়িক রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে। ফেসবুকের মাধ্যমে তা আমরা জানিয়ে দিয়েছি। এমন কি প্রায় সব ক য় টি এফ এম ট্রাফিকের ভূমিকা সুন্দর ভাবে পালন করেছে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই আবার রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে।'' সপ্তমীর ভিড়ের চোটে দক্ষিণ কলকাতায় একটি পুজোয় দু'ঘণ্টার জন্য দর্শক ঢোকা বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। একই কারণে গতবছরও উত্তর কলকাতার একটি পুজো দু'ঘণ্টার জন্য বন্ধ করতে হয়েছিল। এক পুলিশকর্তার অভিজ্ঞতা, ''কলকাতার সবক'টি পুজো মন্ডপেই পুলিশি ব্যবস্থা থাকে। তবে নামকরা যে পুজোগুলিতে প্রচুর দর্শক হয় সেখানে বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু তার বাইরেও বেশকিছু পুজো প্রত্যেকবারই আলাদা করে মানুষের নজর কাড়ে। সেই তালিকায় কোন পুজোগুলি পড়ছে তা আগে থেকে জানা সম্ভব হয় না। ফলে সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে প্রচুর মানুষের ঢল নামে। সেজন্যই আগাম পুলিশি ব্যবস্থা না থাকায় ভিড় সামলাতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্যই অল্পসময়ের জন্য দর্শকদের আটকে দেওয়া হয়।'' এদিকে মালদার সর্বোজয়ী ক্লাবে ভিড় সামলাতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। ক্লাবের বরিষ্ঠ সদস্যের ও ময়দানে নামতে হয়। একই ভিড় মালদার কল্যাণ সমিতির মাঠে। তবে মানুষের আনন্দের কাছে তিতলি যে কিছুই না , তা প্রমাণ করে দিলো বৃষ্টি হীন পরিবেশে মানুষের ঢল। যতই ভিড় হোক আর যান চলাচল থমকে যাক পুজোর আনন্দ চেটেপুটে নিতে সব বাধাকেই উপেক্ষা করতে রাজি বাঙালি।

  • নবপত্রিকা কী ? সপ্তমীর সকাল সকাল কেন স্নান করানো হয় "কলা বউ" কে!

    ডেস্ক:আজ মহাসপ্তমী। সকাল সকাল নবপত্রিকা স্নানের মধ্যে দিয়ে শুরু হলো সপ্তমী পুজোর শুভ সূচনা।বিভিন্ন ঘাট ও পুকুরে আজ সকালে নবপত্রিকা স্নানের দৃশ্য ছিলো চোখে পড়ার মত। এখন অনেকেরই প্রশ্ন, ছোটবেলায় জ্ঞান হবার পর থেকে আমরা সকলেই দুর্গাপুজোর সপ্তমীর ভোরে মহা সমারোহে ঢাকের বাদ্যির সাথে সাথে গঙ্গায় বা নদীতে “কলা-বৌ” স্নান করানোর আয়োজন দেখি । স্নান করিয়ে সেই কলাবৌটিকে নতুন লালপাড় শাড়ি পরিয়ে মাদুর্গার পাশে রাখা হয় এবং পুজোর পাঁচটাদিন পুজো করা হয় ঐ কলাবৌটিকে । বিসর্জনের দিন প্রতিমার সাথে তাকে ও বিসর্জন দেওয়া হয় । ছোটবেলায় প্রশ্ন করলে বলা হত ওটি গণেশের কলা-বৌ । আদতে গণেশ কিন্তু বিয়েই করেন নি । মা দুর্গাকেই ঐ রূপে পুজো করা হয় । সত্যি কথা বলতে, আমাদের কৃষিপ্রধান দেশে এই কলাবৌটির পুজোটি এই প্রসঙ্গে যথেষ্ট তাতপর্য পূর্ণ । বেদে আছে ভূমি হল মাতা, মৃত্শক্তি যা ধারণ করে জীবনদায়িনী উদ্ভিদকে । আযুর্বেদের ঐতিহ্যবাহী ভারতবর্ষে রোগভোগের প্রাদুর্ভাব ও কিছু কম নয় । এবং মা দুর্গার চিন্ময়ীরূপটি এই কলা-বৌয়ের অবগুন্ঠনেই যে প্রতিস্থাপন করা হয় সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই । এই কলাবৌকে বলা হয় নবপত্রিকা । নয়টি প্রাকৃতিক সবুজ শক্তির সঙ্গে আধ্যাত্মিক চেতনশক্তির মিলন হয় দেবীবন্দনায় । সম্বচ্ছর যাতে দেশবাসীর রোগ ভোগ কম থাকে এবং দেশ যেন সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে সেই বাসনায় এই নবপত্রিকাকে দুর্গারূপে পুজো করা হয় । ন’টি উদ্ভিদের প্রত্যেকটির গুরুত্ব আছে । প্রত্যেকটি উদ্ভিদ ই দুর্গার এক একটি রূপ এবং তার কারিকাশক্তির অর্থ বহন করে । এরা সমষ্টিগত ভাবে মাদুর্গা বা মহাশক্তির প্রতিনিধি । যদিও পত্রিকা শব্দটির অর্থ হল পাতা কিন্তু নবপত্রিকায় নয়টি চারাগাছ থাকে । আবক্ষ অবগুন্ঠনের আড়ালে নববধূর একটি প্রতিমূর্তি কল্পনা করা হয় । বাসন্তী এবং দুর্গা এই দুই পুজোতেই নবপত্রিকা অর্চনার নিয়ম আছে । যে ক’টি চারাগাছের সমষ্টিকে একত্রিত করে অপরাজিতার রজ্জু দিয়ে বেঁধে নবপত্রিকা তৈরী করা হয় সেই নয়টি উদ্ভিদের নাম শ্লোকাকারে লেখা আছে আর এই ন’টি গাছের প্রত্যেকের আবার অধিষ্ঠাত্রী দেবী আছেন রম্ভা, কচ্বী, হরিদ্রা চ জয়ন্তী বিল্বদাড়িমৌ। অশোক মানকশ্চৈব ধান্যঞ্চ নবপত্রিকা ।। অর্থাত (১) কলা–ব্রহ্মাণী(শক্তিদাত্রী) (২) কালো কচু– কালিকা (দীর্ঘায়ুদাত্রী) (৩) হলুদ– ঊমা( বিঘ্ননাশিনী) (৪) জয়ন্তী–জয়দাত্রি, কার্তিকী( কীর্তিস্থাপয়িতা ) (৫) বেল–শিবাণী(লোকপ্রিয়া) (৬) ডালিম–রক্তবীজনাশিনী( শক্তিদাত্রী) (৭) অশোক–দুর্গা(শোকরহিতা) (৮) মানকচু– ইন্দ্রাণী( সম্পদদায়ী) (৯) ধান–মহালক্ষ্মী( প্রাণদায়িনী) মহাসপ্তমীর সূচনা হয় নবপত্রিকার স্নানপর্ব দিয়ে । নবপত্রিকা দেবীদুর্গার প্রতিনিধি । শ্বেত অপরাজিতা লতা এবং হরিদ্রাক্ত সূতা দিয়ে এই ন’টি উদ্ভিদ একসাথে বেঁধে নদীতে স্নান করানো হয় । দেবীর প্রিয় গাছ বেল বা বিল্ব । নদীতে নবপত্রিকা স্নানের পূর্বে কল্পারম্ভের শুরুতে দেবীর মুখ ধোয়ার জন্য যে দাঁতন কাঠি ব্যাবহৃত হয় তাও আট আঙুল পরিমিত বিল্বকাঠেরই তাছাড়া মন্ত্রে সম্বোধন করে নবপত্রিকাকে দেবীজ্ঞান করা হয় । শস্যোত্পাদনকারিণি দেবী দুর্গা স্বয়ং কুলবৃক্ষদের প্রধান অধিষ্ঠাত্রীদেবতা ও যোগিনীরা দেবীর সহচরী । স্নানান্তে নতুন শাড়ি পরিয়ে তিনটি মঙ্গলঘটে আমপাতা, সিঁদুর স্বস্তিকা এঁকে জল ভরে একসাথে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ, ঘন্টা এবং উলুধ্বনি দিয়ে বরণ করে, মন্ডপে মায়ের মৃন্ময়ীমূর্তির সাথে স্থাপন করা হয় । এই তিনটি ঘটের একটি মাদুর্গার ঘট, একটি গণেশের এবং তৃতীয়টি শান্তির ঘট । নবপত্রিকার পূজা একাধারে কৃষিপ্রধান ভারতবর্ষের বৃক্ষপূজা অন্যদিকে রোগব্যাধি বিনাশকারী বনৌষধির পূজা । মহাসপ্তমীর ভোরে বিল্ববৃক্ষের পূজা, নবপত্রিকা এবং জলপূর্ণ ঘটস্থাপন এর দ্বারাই দেবীপূজার সূচনালগ্ন ঘোষিত হয় । “ওঁং চন্ডিকে চল চল চালয় চালয় শীঘ্রং ত্বমন্বিকে পূজালয়ং প্রবিশ। ওঁং উত্তিষ্ঠ পত্রিকে দেবী অস্মাকং হিতকারিণি” এঁরাই আবার নবদুর্গা রূপে পূজিতা হ’ন । তাই দুর্গাপূজার মন্ত্রে পাই “ওঁ পত্রিকে নবদুর্গে ত্বং মহাদেব-মনোরমে” ভবিষ্যপুরাণে পাওয়া যায়.. "অথ সপ্তম্যং পত্রিকাপ্রবেশন বিধিঃ" নবপত্রিকাকে জনপদে মঙ্গলের দৃষ্টি দিয়ে বিচার করে পূজা করা হয় । একাধারে এটি কৃষিপ্রধান দেশের চিরাচরিত কৃষিলক্ষ্মী যা প্রাক্‌-আর্যসভ্যতার নিদর্শন অন্যাধারে জীবজগতের কল্যাণকর এই উভিদগুলির রোগনিরাময়ক গুণাবলীর জন্য বনৌষধিও বটে । তাই এই ন’টি গাছকে অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে দেওয়ার অর্থ হল জনকল্যাণকর এই উদ্ভিদগুলি যেন রোগ-ব্যাধির হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে বা মানুষ যেন এই পুজার মাধ্যমে রোগ ব্যাধিকে জয় করতে পারে । তবে এই তো গেলো শাস্ত্রের কথা। কিন্তু মানুষ এতো কিছু না জানলেও, আজ সকাল থেকেই ভোগ নিয়ে হাজির হয়েছএন মন্ডপে। স্নান করে পবিত্র মনে অঞ্জলী দেবার প্রতীক্ষায়।

  • কলকাতা সহ,বিভিন্ন জেলার যা খবর, ষষ্ঠীতে রাস্তায় রাস্তায় একেবারে উপচে পড়া ভিড়।

    ডেস্ক:  রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ঠাকুর দেখা শুরু হয়ে গিয়েছিল পঞ্চমীতেই।কলকাতার প্রধান পূজো গুলো আবার দ্বিতীয়া থেকেই খুলে দেওয়া হয় দর্শকদের জন্য। উত্তর বঙ্গ সহ দক্ষিণের বিভিন্ন জেলার যা খবর, ষষ্ঠীতে রাস্তায় রাস্তায় একেবারে উপচে পড়া ভিড়। উত্সবের আনন্দে মেতে উঠেছে আট থেকে আশি। সকাল থেকেই ঠাকুর দেখার দেখার ভিড় হতে শুরু করে। এরপর বেলা যত গড়িয়েছে, ভিড়ও তত বেড়েছে। কলকাতার রাজপথে ভিড় তো রয়েছেই, কিন্তু ভিড় টানার নিরিখে পিছিয়ে নেই ছোটো বাজেটের পুজোগুলিও। এবার থিম পুজোই বেশি। নতুন চিন্তা, নতুন ভাবনা। নানা সাজেপর মণ্ডপ, প্রতিমা, আলোকসজ্জা। মালদাতেও এবছর থিম পুজোর প্রতিযোগিতা। দুই পৌরসভা সহ গ্রামের পূজো গুলোও এবার নজর কাড়ছে। মালদার সর্বজয়ী, অভিযাত্রী, ইউনাইটেড ইয়ংস, অনীক সংঘ, মঙ্গল সমিতি, হিমালয় সংঘ, বিবেকানন্দ পল্লীর পূজো ইতি মধ্যে সারা ফেলে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, তিতলির সৌজন্য পুজোর কিছুদিন আগে থেকেও মুখ ভার ছিল আকাশের। কিন্তু পঞ্চমীর সকাল থেকেই আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। বৃষ্টির কোনও নামগন্ধ নেই। দক্ষিণের একডালিয়া এভারগ্রীন, সুরুচি সংঘ, মুদিয়ালীর পাশাপাশি উত্তরের সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, মহম্মদ আলি পার্ক, কলেজ স্কোয়ার, মিলন সংঘ, নলিনী সরকার স্ট্রিট, ৯ পল্লীর মন্ডপে ছিল রেকর্ড ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই বেড়েছে সেই ভিড়ও। যত সময় এগোচ্ছে ভিড় তত বাড়ছে। এদিকে মেট্রো স্টেশনগুলিতে পা রাখার উপায় নেই। রাস্তায় দু-পা এগোতেই হাঁপিয়ে ওঠার জোগাড়! ষষ্ঠীতেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে অষ্টমী, নবমীতে ভিড় যে কতটা হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ভিড় যতই হোক না কেনো কষ্ট হলেও পুজোর এই কয়দিন অনোনদে মেতে উঠতে হবে। কারন শারদ উৎসব মানেই যে সব ধর্মের মানুষের আনন্দে মেতে ওঠার উৎসব।

  • আজ মহাষষ্ঠী : জগতের কল্যাণ কামনায় দেবী দুর্গা এলেন মর্ত্যলোকে।

    ডেস্ক: আজ মহাষষ্ঠী। মহালয়া দিয়ে শুরু হওয়া দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা আজ থেকে জমে উঠেছে মন্ডপে মন্ডপে। শরতের আকাশে বর্ষার কৃষ্ণবর্ণ মেঘ যখন শুভ্ররূপ ধারণ করে, তখন পৃথিবীতে আগমণ ঘটে দেবী দুর্গার। দেবিদুর্গার আরাধনা লাভের জন্যই এই মহোৎসব। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, পুরানকালে দেবতারা মহিষাসুরের অত্যাচারে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। তখন ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরীর থেকে আগুনের তেজরশ্মি একত্রিত হয়ে আর্বিভূত হয় দুর্গা দেবীর। দেবী দুর্গাকে সকল দুঃখের বিনাশকারিনী বলা হয়। তিনিই পরমব্রহ্ম, অন্যান্য দেব দেবীরা হলো তাঁর বিভিন্ন রূপ মাত্র। আজ থেকে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীতে ভাগ হয়ে দুর্গাপূজা পালন হবে। দুর্গাপূজার ষষ্ঠ দিনটিকে দুর্গা ষষ্ঠী বা মহাষষ্ঠী বলা হয়। এই দিনে দেবী দুর্গা কৈলাশের যাত্রা শেষ করে মর্তে আগমন করেন। দিনটি শুরু হয় দেবীর মুখ উন্মোচন ও বোধন দিয়ে। ষষ্ঠীপূজার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ষষ্ঠী হলো চান্দ্র মাসের ষষ্ঠ দিন। সে অনুযায়ী প্রতি মাসেই ষষ্ঠী আসে বিভিন্ন তাৎপর্য নিয়ে। যেমন নীলষষ্ঠী, জামাইষষ্ঠী, দুর্গাষষ্ঠী। দুর্গাষষ্ঠীতে বংশধরদের কল্যাণ কামনা করা হয়। মায়েরা দুর্গাপূজা শুরুর এই দিনে সন্তানদের মঙ্গল কামনা করে দেবীকে অঞ্জলি দেন। দুর্গা ষষ্ঠী মায়েদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সারাদিন উপোষ মায়েরা সন্তানের সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করবেন। এই বিশেষ দিনে আমিষ ও চাল খাওয়া থেকে বিরত থাকেন অনেকেই।

  • রোজভ্যালিকান্ডের প্রতারনা মামলায় তদন্তকারী অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হল

    Newsbazar24, ডেস্ক, ৮অক্টোবরঃ রোজভ্যালিকান্ডের প্রতারনা মামলায়  তদন্তকারী অফিসার ব্রতীন ঘোষালকে তদন্তভার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল।।  অভিযোগ, তাঁকে কলকাতা পুলিশ প্রতিশোধমূলক ব্যাবস্থা নিয়ে জেরায়  জেরার জেরবার করে দিচ্ছিল। এছাড়াও সূত্রে জানা যায়  তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ । এই মামলায় নতুন তদন্তকারী অফিসার হয়েছেন মহিলা অফিসার চোজম শেরপা। সূত্রের খবর সিবিআই  রোজভ্যালি চিটফান্ড তদন্তের  কাজ খুব শীঘ্রই শেষ করতে চায় তাই পূর্বতন তদন্তকারী অফিসার ব্রতীন ঘোষাল কে সরিয়ে দেওয়া হল। এদিকে  ব্রতীন ঘোষালকে  রাজ্যের সি আই ডি বারবার তদন্তের নামে হেনস্থা করছে তাই তাকে নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল । সিবিআই এর আগে নারদ কাণ্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইসিং অফিসার অভয় সিংকে সরিয়ে দিয়েছিল রোজভ্যালি তদন্তে অনেকটাই এগিয়েছে সিবিআই। ওড়িশা আদালতে অতিরিক্ত চার্জশিটও পেশ করা হয়েছে সিবিআই-এর তরফে। বাকি প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে এই মামলায় তদন্ত  করতে গিয়ে সমস্যাও পড়েছে সিবিআই। বেশ কিছু প্রমান লোপাট করে দেওয়া হয়েছে  হার্ডডিক্স উধাও হয়ে গিয়েছে বলে খবর। এইসব হার্ডডিস্কের খোঁজে কলকাতা পুলিশকে ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছে সিবিআই।  

  • কলকাতা শহরের এক নামী স্কুল ফের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল

     Newsbazar 24, ডেস্ক, ৯ অক্টোবরঃ আবার কলকাতা শহরের এক নামী স্কুল ফের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ , এবং একে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল স্কুল চত্বর রনক্ষেত্রের রুপ নেয় । ৬ বছরের এক শিশুর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত ঐ  স্কুলেরই এক শিক্ষক। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে  ঢাকুরিয়া বিনোদিনী গার্লস হাইস্কুলে তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। গেটে ভেঙে স্কুলে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটছিল গত বনধের দিন। ওইদিন স্কুলের ভিতরই এক শিশুছাত্রীকে যৌন নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। নিগৃহীত শিশুর মা অসুস্থ  থাকায় এই ঘটনা সময়মত স্কুলে জানাতে পারেননি। মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতা শিশুর মা স্কুলে এসে এই অভিযোগ করেন। স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর পরই  উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে স্কুল চত্বরে। অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন সকাল থেকেই। তাঁরা অভিযুক্ত শিক্ষককে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার  দাবি জানাতে থাকেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাইক ভাঙচুর করা হয়। এরপর স্কুল গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন অভিভাবকরা। খবর পাওয়ামাত্র পূলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায় এবং অভিভাবকদের স্কুলের ভিতরে ঢুকতে  বাধা দেয়। বিক্ষোভ সামলাতে পুলিশ লাঠি চালায়, এক অভিভাবিকার মাথা ফেটে যায় বলে  অভিযোগ । এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশও জখম হয়েছে বলে জানান পুলিশ আধিকারিক। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। রণক্ষেত্র স্কুল চত্বরকে সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামানো হয়। এই ঘটনায় স্কুলের ভিতরে থাকা শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে এক শিক্ষিকার বক্তব্য নিয়েও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে  অভিভাবকদের মধ্যে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত বছর  জিডি বিড়লা স্কুলে এক কেজি টু-এর ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল।  এবার শহরের নামী স্কুলে ফের সেই একই ঘটনা ঘটল। একের পর এক ঘটনায় শিশুমনে যেমন কু-প্রভাব পড়ছে বলে মনবিদদের আশঙ্কা পাশাপাশি,  অভিভাবকরাও  আতঙ্কিত ।    

  • পুকুর ভরেছে পদ্মের কুঁড়িতে। পরবেও তা দেবীর চরণে। তবুও পথে বসতে চলেছে কয়েক হাজার পদ্ম চাষী।

    শঙ্কর চক্রবর্তী : পুকুর ভরেছে পদ্মের কুঁড়িতে। তবুও পুজোর আগে মনটা ভাল নেই ওঁদের। দুর্গাপুজোর অন্যতম উপচার পদ্ম ফুলের জোগান যে এ বার অনেক বেশি। তাই ফুলের সঠিক দাম পাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় চাষিরা। মালদার মহোদিপুর বা সাগর দীঘি ই হোক বা পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের ভোগপুর, সাগরবাড়, সিদ্ধা, দেড়িয়াচক ও হাওড়ার বাগনান, কুলগাছিয়া ই হোক, এই সব অঞ্চল থেকে ফি বছর কয়েক লক্ষ পদ্মের জোগান আসে এই রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে। এবছর পদ্মের পক্ষে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ায় পদ্মের উৎপাদনও ভালই। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-খড়্গপুর শাখায় রেললাইনের ধারে ঝিল, মেদিনীপুর ক্যানালের পাশের জলাশয়, পুকুর-জলাজমিতেও ফলানো পদ্মকুঁড়ি তুলে হিমঘরে ভরা শুরু হয়েছে। অপেক্ষা সন্ধি পূজার, প্রতিটি পুজো মণ্ডপে ১০৮ টি করে ফুলের চাহিদা। বলা বাহুল্য, কলকাতার মল্লিকঘাট ফুলবাজারের পরেই রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ফুলবাজার কোলাঘাটে পদ্মের কেনাবেচা হয়। এখান থেকে মল্লিকঘাট বাজারে পদ্মফুল চলে যায়। সেখান থেকে পদ্ম যায় দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশে। উল্লক্ষ্য, মহাষ্টমীর দিনে ১০৮টি পদ্ম লাগে।তাই এই দিন দেশ বিদেশে পদ্মের প্রচুর চাহিদা থাকে,ফলে বহুদিন ধরেই ব্যবসায়ীরা পদ্মকুঁড়ি হিমঘরে সংরক্ষণ করতে শুরু করে থাকেন। মহাষ্টমীর আগে পদ্ম হিম ঘর থেকে বের করা হয়। মহালয়ার পর থেকেই পদ্মের দাম ক্রমশ চড়তে থাকে। তবে এ বার পদ্মের দাম অনেকটাই কম বলে জানাচ্ছেন চাষি-ব্যবসায়ীরা। বোলপুর স্টেশনে ফুলের বাজারে আসা স্থানীয় মসা গ্রামের চাষি অনিল বর্মণ বলেন, এখন প্রতি একশো পদ্ম ১৫০-২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর এই সময় প্রতি একশো পদ্মের দাম ছিল ৩০০-৪০০ টাকা।” কোলাঘাট, বাগনান এলাকার অধিকাংশ পদ্মফুল চাষ হয়। রেললাইনের দু’পাশে থাকা ঝিল (জলাশয়)) লিজ নেওয়া নিয়ে পদ্মচাষিরা জানান, রেল দফতরের কাছ থেকে ঝিল লিজ নেওয়ার পর তাতে পদ্মচাষের জন্য বীজ লাগানো, পরিচর্যা, সার দেওয়া প্রভৃতির জন্য অনেক টাকা খরচ হয়। তাই পদ্মের ভাল দাম না পেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে। কোলা ঘাটের সিদ্ধা এলাকার দক্ষিণ জিয়াদা গ্রামের প্রবীণ পদ্ম চাষি গোপাল ওঝা দেড় বিঘা নয়ানজুলিতে পদ্ম চাষ করেন। প্রায় ৪০ বছর ধরে পদ্মের চাষ করা গোপালবাবু বলেন, “গত বছর এবছরের থেকে প্রায় দু’সপ্তাহ আগে পুজো পড়েছিল। ফলে সেই সময় বাজারে পদ্মের জোগান কম থাকায় দামও ছিল বেশি।” কোলাঘাট ফুলবাজারে ২৫ বছর ধরে পদ্মের ব্যবসা করছেন সুভাষ থান্দার। তিনিও বলেন, “গত বছর অষ্টমীর দিন প্রতি একশো পদ্মের দাম দু’হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। এ বছর চিত্রটা উল্টো” হবে। একই অবস্থা মালদার পদ্ম চাষীদের। সাগরদীঘির দীঘিতে এবার যে পরিমাণ পদ্ম হয়েছে ,তার তুলনায় চাহিদা অনেক কম। বাইরের পাইকার রাও এবার এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি। বলতে গেলে সাগর দীঘির একশ পদ্মের দাম ৭০ টাকার বেশী ওঠেনি। যা গত বছর পাইকারী দাম ছিলো ৬০০-৮০০ টাকা । যদিও পদ্মের দাম এবছর সস্তা হবার কারনে, স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন পূজো কমিটির উদ্যোগত রা। তাদের কথায় পদ্মের দাম কম হাওয়াই অনেক টাই কমবে বাড়তি খরচ।

  • বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য ঢালাও মদের দোকানের লাইসেন্স দিচ্ছে রাজ্য সরকার

    Newsbazar24,ডেস্ক,  ৮ অক্টোবর :  রাজ্য সরকার রাজ্যের সব জেলায়  সরকারী মদের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নিল।নবান্ন থেকে সূত্রের খবর সরকারী কোষাগারের  আয় বাড়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে । রাজ্য সরকারের আবগারি দপ্তর থেকে এই বিষয়ে  প্রয়োজনীয় তথ্য প্রত্যেক জেলার প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বল জানা গেছে। মদের দোকান খুলতে ইচ্ছুক ব্যক্তি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেই যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবেন। প্রশাসন সূত্রে আরও  জানা গেছে, পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল সর্বত্রই ফ্র্যাঞ্চাইজির মাধ্যমে মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে।  এর ফলে বেকারত্ব কিছু ক্মবে বলে  মনে করছে রাজ্য সরকার । বিরোধীরা রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য কড়া সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেস  নেতা তথা সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য  বলেন, "আমরা রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে কোনও মতে সমর্থন করি না। বাংলার মানুষ এর প্রতিবাদ করবে। বেকারের কর্মসংস্থাণের জন্য, শিল্প স্থাপন না করে সরকারী ভাবে মদের দোকাণের লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে ? আমরা রাজ্য সরকারকে ধিক্কার জানাই । বাংলার যুব সমাজকে সর্বনাশের  দিকে নিয়ে যাচ্ছে এই সরকার। " সিপিএম নেতা ও  সংসদ মহম্মদ সেলিম বলেন, "যুব সমাজকে নেশায় বুঁদ করে রাখতে রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনা। জেলায় জেলায় যাদের এই মদ বিক্রির লাইসেন্স  দেওয়া হবে তারা সব শাসকদলের ঘনিষ্ঠ। এখানেও এই রাজ্যের সরকার পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করছে। রাজ্যে কোনও কর্মসংস্থান নেই। চাকরি নেই। বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। বেকারদের নেশায় আসক্ত করানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে  সরকার।"  

  • লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপির বাড় বাড়ন্ত রুখতে দলে পরিবর্তন আনলেন মমতা,

    Newsbazar24, ডেস্ক, ৫ অক্টোবরঃ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সফর থেকে ফিরেই কোর কমিটির বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌরহিত্য করেন  তিনি।তিনি এই সভা থেকে লোকসভার আগে দলে বড়সড় রদবদল ঘটালেন।শুভেন্দু অধিকারীকে  আরও তিনটি জেলার বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হল। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষমতা ছাঁটাই করে জেলার সভাপতির   পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল । শুভেন্দু অধিকারী এতদিন  পূর্ব মেদিনীপুর সহ  মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরের দায়িত্ব  সামলাচ্ছিলেন। এই চার জেলার পাশাপাশি আরও তিন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁকে। নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়়গ্রাম জেলার বাড়তি দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধে। নদিয়ার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এবং পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে সুব্রত বক্সির সঙ্গে শুভেন্দুও দায়িত্ব দেওয়া হল। শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরেও  তৃণমূলের প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়িয়েছেন।  গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে বিজেপির শ্রীবৃদ্বিতে শঙ্কিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  শুভেন্দুকে বাড়তি দায়িত্ব দিলেন আরও তিন জেলার।  দলে ক্ষমতা ছাঁটাই করা  হল  শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতির পদ থেকে তাঁকে অপসারিত করে  নতুন জেলা সভাপতি  করা হল  শুভাশিস চক্রবর্তীকে। এই জেলায়  পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থাকবেন ফিরহাদ হাকিম। রাখা হয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়কেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূলের সংগঠনে এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দিলেন মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরহাদ হাকিম ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সহযোগিতা  করবেন তিনি। কোর কমিটির বৈঠকে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দায়িত্ব অর্পণ করেন।  

  • পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ

    Newsbazar 24 ডেস্ক, ৫ অক্টোবরঃ আসন্ন দুর্গাপুজোয় পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়ার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপর  স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় এক  জনস্বার্থ  মামলার শুনানিতে  কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্থগিতাদেশ জারি করল। মঙ্গলবার পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যের ২৮ হাজার পুজো কমিটিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। তার বিরুদ্বে এই মামলা। মামলা দায়ের করার সময় হাইকোর্টের জনৈক আইনজীবী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, 'কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মানছে না রাজ্য সরকার। ধর্মীয় কাজে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট, তা অমান্য করেই পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংবিধান বিরোধী বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন। এ ছাড়াও তিনি দাবী করেন , রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া, বিজ্ঞপ্তি জারি না করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। এই অনুদান ঘোষণা সংবিধানের ১৪ ও ১৫(১) এবং ১৬৬ ধারার পরিপন্থী। এই ঘোষণা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। এর আগে রাজ্য সরকারের ইমাম-ভাতার নির্দেশিকা খারিজ করে হাইকোর্ট জানিয়েছিল  ধর্মীয় নেতাদের টাকা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত বিধিবহির্ভূত এবং সংবিধানবিরোধী। পুজো কমিটিগুলিকে টাকা দিয়ে রাজ্য হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে বলে মামলাকারীর দাবি। রাজ্যের সিদ্ধান্তের ফলে শুধু ধর্মীর বিভাজন হচ্ছে তা নয়, সাধারণ মানুষের টাকা নিয়েও তছনছ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।  পূজোয় সরকারি অনুদানে স্থগিতাদেশ জারি করে রাজ্যের কাছে হলফনামা  দাবি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। সেই হলফনামায় জানতে চাওয়া হয়েছে, রাজ্য কি অন্যান্য পুজো বা উৎসবেও এমন অনুদান দেয়, নাকি দুর্গাপুজোতেই দিচ্ছে। যে পুজো কমিটি আবেদন করবে, সেই কমিটিই কি অনুদান পাওয়ার যোগ্য।