মুরশিদাবাদ -নদীয়া

  • লাগামছাড়া সন্ত্রাসের প্রতিবাদে পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোরসিদ্বান্ত নিল এসইউসিআই

    ডেস্ক, ১৬ই এপ্রিলঃ এসইউসিআই মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটি পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়বে না বলে সিদ্বান্ত নিয়েছে। কারন রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের  লাগামছাড়া সন্ত্রাস। সোমবার মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে জেলা কার্যালয়ে এসইউসিআইয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানানো হয়। নির্বাচন বয়কট প্রসঙ্গে এসইউসিআই জানায়, মনোনয়ন পর্ব থেকে সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। এখন মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে সন্ত্রাস চলছে। যত দিন এগোবে এই সন্ত্রাসের মাত্রা বাড়বে। আর ভোটে এই সন্ত্রাস মাত্রাতিরিক্ত হয়ে দাঁড়াবে। এই সন্ত্রাসের প্রতিবাদ জানাতেই নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এসইউসিআই জানায়, প্রথম দিন থেকে এই জেলায় সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। পুলিশকে সামনে রেখে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। এসইউসিআই মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে ৭০টির মধ্যে ২৫ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। ৭৩৬টি পঞ্চায়েত সমিতি আসনের মধ্যে ১৭টি ও ৪১৭১টি গ্রাম পঞ্চায়েত আসনের মধ্যে ৬৫ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল তাঁরা। সে সবই প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। এসইউসিআই জানায়, লাগাতার হুমকি চলছে। প্রার্থীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকী হাসপাতালে গিয়েও হুমকি দেওয়া অব্যহত রয়েছে। এই অবস্থায় রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়াইয়ের পরিবশ নেই। রক্তচক্ষু দেখিয়ে শাসক সব দখল করে নিতে চায়। নির্বাচন এখানে প্রহসেন পরিণত হচ্ছে। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই জেলায় কোনও আসনেই তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। রাজনৈতিক মহলের অনুমান এটা হল শাসকের বিরুদ্ধে শোষকের নীরব প্রতিবাদ।    

  • কংগ্রেস নেতা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR)

    ডেস্ক, , ১৪ এপ্রিল :  মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার  আইসি সনৎ দাস  কংগ্রেস নেতা হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে খুনের হুমকি ও উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে  দায়ের করলেন ।   আজ সন্ধেয় তিনি ১৮৯, ৭০৪, ৭০৫ ও ৭০৬ ধারায় মামলা রুজু করেন। যদিও সবগুলি ধারাই জামিনযোগ্য। গতকাল বহরমপুর কালেক্টরেটের সামনে গান্ধিমূর্তির পাদদেশে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির ডাকে অনশন মঞ্চ এসেছিলেন হুমায়ুন কবীর। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সরকারি আধিকারিকদের প্রকাশ্যে খুনের হুমকি দেন বলে অভিযোগ । তিনি বলেছেন, “যে সব আধিকারিক শাসকদলের দালালি করবেন তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা আক্রমনে যাব প্রয়োজনে  তাঁদেরকে  এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে পিছপা হব না জেলে যাব।   খুন করে জেল খাটব। এই জেলায় শাসকদলকে আশ্রয় দিয়ে আপনারা সুরক্ষিত থাকতে পারবেন না।” এপ্রসঙ্গে হুমায়ন কবীর অবশ্য বলেন, “একের পর এক কংগ্রেস বিধায়কের উপর হামলার প্রতিবাদে সরকারি আধিকারিক ও শাসকদলের নেতাদের সতর্ক করতে চেয়েছি। আমি তেমন কোনও অপরাধমূলক কথা বলিনি। আর এমন মামলা আমার বিরুদ্ধে আগেও অনেক হয়েছে, পরেও হবে।” প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকে পাশে বসে  হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্যে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঘটনার পর গতকাল বহরমপুর থানার পুলিশ জানিয়েছিল,  তদন্ত করে মামলা রুজু করা হবে। এরপর আজ সন্ধেয় হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে বহরমপুর থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে।  জেলার তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, হুমায়ুনএর বক্তব্যে  নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ হয়েছে । তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল।

  • মুর্শিদাবাদে আবার কংগ্রেস বিধায়ক আক্রান্ত, অভিযুক্ত তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডাবাহিনী

    ডেস্ক, ১২ এপ্রিল : মুর্শিদাবাদে আবার আরও এক কংগ্রেস বিধায়ক আক্রান্ত। অভিযোগের তীর তৃণমূলের বিরুদ্বে। সুত্রে জানা যায় যে  আজ সকালে নওদা গ্রামীণ হাসপাতালে দলীয় এক কর্মীকে দেখতে গেলে নওদার কংগ্রেস বিধায়ক আবু তাহের খান আক্রান্ত হন এবং তাকে মারধর করা হয়। এবারও অভিযোগ  তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতিদের বিরুদ্বে।তার নিরাপত্তারক্ষীও আক্রান্ত।   তাঁর নিরাপত্তারক্ষী দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বিধায়ককে বাঁচাতে শূন্যে ২ রাউন্ড গুলি চালান বলে জানা যায়।  আহত আবু তাহের খানকে আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায়  কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনায় নওদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।  বিধায়ক আবু তাহের খান জানিয়াছেন ,আজ বেলা ১১টা নাগাদ আমতলা হাসপাতালে দলীয় এক  কর্মীকে দেখতে  হাসপাতালে পৌঁছাতেই তাঁর উপর হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। , তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডলের নেতৃত্বে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর হামলা চালায়। মারধর  করা হয়েছে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীকে। এর আগে ৯ এপ্রিল দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে  বিডিও  অফিসের সামনে আক্রান্ত হয়েছিলেন বেলডাঙার কংগ্রেস বিধায়ক সফিউজ্জামান। তার একদিন পর রাস্তায় মারধর করা হয় রানিনগরের বিধায়ক ফিরোজা বেগমকে। তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় দৌলতাবাদ থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ফের নওদার কংগ্রেস বিধায়ক আক্রান্ত হলেন। একের পর এক কংগ্রেস বিধায়কের উপর হামলার ঘটনায়  গোটা মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক মহলে  সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পাশাপাশি তাদের আরও অনুমান মুর্শিদাবাদে অধীর চৌধুরীর খাস তালুকে দল ভাঙ্গাতে না পেরে আক্রমণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।  

  • লালবাগ কুতুবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পালিত হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

    ডেস্ক ঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।অন্যদিনের মতোই একটি দিন।মুর্শিদাবাদ চক্রের ১২ ননং কুতুবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পালিত হলো।মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সমস্ত শিশুদের সুস্বাস্থ্য  সচেতনতা বৃদ্ধিই এই দিবসের শপথ হোক। এই বিদ্যালয়ের ভীষণ সক্রিয় চাইল্ড ক্যাবিনেট-এর উদ্যোগে লালবাগের বেশ কিছু এলাকা পদযাত্রার মাধ্যমে প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন সহ স্লোগানের মধ্য দিয়ে এই দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়, শিক্ষিকা শিক্ষক গণ তাদের সাথে পা মেলান ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করে।চাইল্ড ক্যাবিনেটের শিক্ষা ওপরিবেশমন্ত্রী সোফিয়া খাতুন বলে "স্বাস্থ্যই হোক জীবনের অমূল্য সম্পদ।স্বাস্থ্য বিধান চলবো সকলে,নির্মল বাংলাও গড়ে তুলবো।নিরাপদ পুষ্টিকর খাবার সসুস্থ জীবনের অঙ্গীকার।" প্রধান শিক্ষক মাহামুদাল হাসান জানান, " আজকে ভাল স্বাস্থ্যই সুস্থ ও সতেজ জীবনের চাবিকাঠি। এ কথা আমরা ছোট বেলা থেকেই শুনে আসছি। আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে সাধারণ মানুষের ভাল স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা যেমন দারিদ্র, তেমনই আর একটি প্রধান বাধা সচেতনতার অভাব। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সচেতনতা এমন একটি বিষয়, যার উপর একটি দেশের মানব সম্পদ অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের গুরুত্ব এখানেই।

  • আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃনমূলের বিরুদ্বে জনগণের প্রার্থী হোক একজন- রাহুল সিনহা।

    ডেস্ক, ২০  মার্চ :গতকাল মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন  পঞ্চায়েত নির্বাচনে যদি তৃণমূলকে রুখতে হয় তাহলে সকলে মিলে একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে।  অর্থাৎ একের বিরূদ্বে এক প্রাথী দিতে হবে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতীকে জনগণের প্রার্থী হোক একজন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে ভোট কোনওভাবেই ভাগ করা যাবে না। রাহুলবাবু  গতকাল মুর্শিদাবাদের লালবাগে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষ  করে  বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠকে  রাহুলবাবু বলেন, "পঞ্চায়েত নির্বাচনে একের বিরুদ্ধে একের লড়াই হোক। তৃণমৃলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতীকে একজন প্রার্থী থাকুক। সেটা অবশ্যই রাজনৈতিক প্রতীক নিয়ে। আমরা নির্দলীয় লড়াইয়ে বিশ্বাসী নই। নির্দলীয় মোর্চা করে লড়াই‌য়ে বিশ্বাসী নই। রাজনৈতিক লড়াই আমরা রাজনৈতিকভাবে লড়তে চাই। অন্য রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন অরাজনৈতিক হলেও এরাজ্যে এটা রাজনৈতিক নির্বাচন।  মানুষের চাপে তূণমূলকে হারাতে তাদের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে প্রার্থী দেওয়া দরকার। সেই উদ্যোগ জনসাধারণ নিক।  সিপিএম-র প্রার্থীকে সমর্থনের প্রশ্নে   রাহুলবাবু বলেন, "একের বিরুদ্ধে একের লড়াইতে মানুষ ঠিক করবে কাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেবে। সে যে দলেরই প্রার্থী হোক না  কেন, তা সবাইকে মানতে হবে।  যদিও তিনি জানিয়ছেন শুধুমাত্র গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে  সমঝোতা হবে  কিন্তু বাকি দুটি স্তরে কোনও সমঝতা হবে না। আমাদের কর্মীরা জনগণের কাছে এই আবেদন রাখবে  বাংলাকে বাঁচাতে হলে তৃণমূলকে বাংলা ছাড়া করা দরকার। পঞ্চায়েত নির্বাচনে সেই সুযোগ রয়েছে।"

  • পিছন থেকে টান সিভিক সস্তার পুলিসের ,লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় ২ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

    ডেস্ক ঃ দাদার স্কুটির পিছনে বসে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল দুই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। হেলমেট না থাকায় পিছন থেকে টান দেন এক সিভিক পুলিসকর্মী। স্কুটি থেকে পড়ে যায় দুই ছাত্রীই। উল্টো দিক থেকে আসা ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় তাদের মাথা। ২ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতি ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নদিয়ার কালীগঞ্জ। পুলিস-জনতা খণ্ডযুদ্ধ, পুলিসকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটবৃষ্টি। সোমবার সকালে নাজিমা খাতুন ও মাসুদা খাতুন দাদা সাইদুল শেখের স্কুটিতে চেপে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিল। দেবগ্রামের কাছে আচমকাই তাদের স্কুটি পিছন থেকে টেনে ধরেন এক সিভিক পুলিসকর্মী। চলন্ত স্কুটিতে আচমকাই পিছন থেকে টান পড়ায় ছিটকে পড়ে যান নাজিমা ও মাসুদা। সেইসময় উল্টোদিক থেকে আসা একটি লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে যায় তাদের মাথা। রক্তাক্ত অবস্থাতে কাতরাতে থাকে দুই ছাত্রী। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় নাজিমা-মাসুদার। স্কুটি থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন সাইদুলও। তাঁকে উদ্ধার করে দেবগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিস। এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে থাকে উন্মত্ত জনতা। ইটের আঘাতে আহত হন এক পুলিসকর্মী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিসকে। এখনও থমথমে এলাকা।

  • মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে এক গর্ভবতী মা ও সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুতে নাসিংহোমে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল

    ডেস্ক , ৫ মার্চ:   এক গর্ভবতী মা ও সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুতে  চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে নার্সিংহোমে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল। আজ সন্ধ্যায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদের রেজিনগর। আগুনে দাউ দাউ করে নার্সিংহোম পুড়ছে দেখে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। এই ঘটনায় নার্সিংহোম মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামানো হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে আজ সকালে শক্তিপুরের দক্ষিণপাড়ার বসিন্দা জুলেখা বিবি(২৭)।র প্রসব যন্ত্রণা উঠলে  জুলেখা বিবিকে রেজিনগরের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে ভরতি করা হয়।  সকাল ১১টা নাগাদ সিজার করে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন ওই প্রসূতি মা। সন্তান প্রসবের কিছুক্ষণের মধ্যেই জুলেকা বিবির মৃত্যু হলেও সদ্যোজাত শিশুটি জীবিত ছিল। অভিযোগ মৃত্যুর কথা গোপন রেখে ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ জুলেকা বিবিকে সদ্যোজাত সন্তান সহ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের স্থানান্তরিত করেকিন্তু মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তাঁর। জুলেখা বিবির গর্ভস্থ সন্তানটিও মারা যায়। অভিযোগ, এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রসূতির পরিবারের লোকজন নার্সিংহোমে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং বেড সহ বিভিন্ন আসবাবে আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকী নার্সিংহোমের বাইরে পার্ক করা একটি মোটরবাইকেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। রেজিনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হয়েছে জুলেখা বিবির।  নার্সিংহোম মালিকের বিরুদ্ধে পরিবারের তরফে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রেজিনগর থানার পুলিশ সাহিদ মল্লিক নামে নার্সিংহোম মালিককে গ্রেপ্তার করেছে।

  • বহরমপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তৃনমূল নেতৃত্বের সন্ত্রাস উপেক্ষা করে কংগ্রেসের সভায় অভূতপূর্ব জনসমাবেশ

    ডেস্ক , ৫ মার্চ:  মুরশিবাদ জেলা কংগ্রেসের ডাকে সোমবার দুপুরে বহরমপুর টেক্সটাইল মোড়ে ফসলের ন্যায্য দাম,  মিথ্যা মামলায় কংগ্রেস কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে,সন্ত্রাস মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু  পঞ্চায়েত নির্বাচন সহ  একাধিক দাবিতে  এক জনসভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুর সাংসদ অধীর চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন আজ ত্রিপুরায় বিজেপির জয়ের পর  কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলছেন কিন্তু একদিন মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে এই বাংলায় নিয়ে এসেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই এই বাংলায় বিজেপির ২জন সাংসদ এবং বিধায়ক রয়েছেন। এই দিনের জনসভায় অধীর চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জঙ্গীপুরের সাংসদ অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়, দক্ষিণ  মালদার সাংসদ আবুহাসেম খান চৌধুরী, বহরমপুর বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী, নওদার বিধায়ক আবু তাহের খান, ফারাক্কার বিধায়ক মাইনুল হক সহ মুর্শিদাবাদ জেলার কংগ্রেসের বিধায়ক ও নেতা নেতৃবৃন্দ। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তাঁর বক্তৃতায় প্রথম থেকেই  জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ও জেলা প্রশাসনের বিরুদ্বে এক রাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে  কটাক্ষ করে বলেন, মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলা আমের জন্য বিখ্যাত। ফাল্গুনের শুরুতে যখন গাছে গাছে মুকুল আসে তখন হনুমানের দল আম বাগানে ঢুকে লণ্ডভণ্ড করার চেষ্টা করে। এই হনুমানের দলকে তাড়াতে গেলে বোমা ফাটাতে হয় না, পটকা ফাটালেই হবে। তিনি জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের নাম না করে  বলেন, এই জেলায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রিয়পাত্র ঐ দুই জন এবং জেলা তৃণমূল নেতৃত্বএর  শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজকের এই সভায় জন গন স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে জমায়েত হয়েছেন,  তিনি সভায় উপস্থিত কংগ্রেস সমর্থকদের  বলেন, “আজকের এই সভায় আপনাদের উপস্থিতি রাজ্য জুড়ে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের পুনরুজ্জ্বিত করবে। আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে মাঠে নেমে লড়াইয়ের অনুপ্রেরনা  জোগাবে।” তিনি জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব ও জেলা প্রশাসনকে এক হাত নিয়ে বলেন মাস খানেক আগে আজকের সভার দিন ঘোষণার পর থেকেই জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব ও জেলা প্রশাসন  এই সভাকে পণ্ড করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছিল। কারণ এখানকার নেতৃত্ব দিদিমণিকে বলেছিলেন মুর্শিদাবাদ থেকে কংগ্রেস উঠে গেছে। কংগ্রেসের সভায় লোক হলে তাদের চাকরি চলে যাবার ভয় ছিল। তিনি চ্যালেঞ্জের শুরে বলেন সন্ত্রাস করে কখনও কংগ্রেসকে দমিয়ে রাখা যায়নি যাবে না। কারণ সন্ত্রাস শেষ কথা বলে না। সন্ত্রাস শেষ কথা বললে ২০১১সালে বাম সরকারকে সরিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসত না। এরপরে তিনি সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাদেরকেই টিকিট দেবেন যারা শাসক দলের কাছে বিক্রি হবেন না। তিনি বক্তৃতার শেষে কংগ্রেস কর্মীদের করে বলেন, “নির্বাচন আসার সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের উপর সন্তাস নামবে তাতে ভয় পাবেন না। আগামীদিনে আপনাদেরকে নিয়ে এই সন্ত্রাসের প্রতিবাদে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে ঘেরাও করব, যতক্ষণ না পর্যন্ত গুলি চলবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঘেরাও চালিয়ে যাব।” এদিন সভা শেষে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল ১২দফা দাবিতে জেলাশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি জমা দেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।