উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর

  • তেভাগা আন্দোলনের খাঁপুরের শহীদ কৃষকদের আত্মবলিদান দিবস উদযাপন

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ তেভাগা আন্দোলনে যোগ দিয়ে বালুরঘাট থানার খাঁপুরের শহীদ কৃষকদের আত্মবলিদান দিবসে জেলার সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি অনুষ্ঠানে যোগ দিল। এ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল এদিন খাঁপুরে।  ৪৭ সালের আজকের দিনে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে তেভাগা আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন খাঁপুরের ২২ জন কৃষক। কিন্তু শহীদ এই সব পরিবারের হাল ফেরেনি আজও। সরকারী সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই সব পরিবারগুলি। যদিও প্রতিবছরই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয় বছরের এই দিনটিতে। নিজেদের রক্তে বোনা ধানের তিন ভাগের দাবিতে এই আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। এলাকার কৃষকরা খাঁপুরের জমিদার ও ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কৃষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমানোর জন্য শেষমেশ পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। এই ঘটনায় এলাকার তরতাজা ২২ জন যুবক-‌যুবতী প্রাণ হারিয়েছিল। স্বাধীনতার পরেও দীর্ঘদিন ব্রাত্য  ছিল এই এলাকা। যদিও পরে খাঁপুরের শহীদদের স্মৃতিতে সেখানে একটি শহীদ বেদি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই ফলকের প্রথমেই রয়েছে শহীদ যশোদা রানী সরকারের নাম। যশোদা রানী সরকারের ছেলে ৯৪ বছরের বৃদ্ধ দেবেন্দ্র নাথ সরকার জানান, তিনি কোনোরকম সরকারী সাহায্য পান না। অতিকষ্ট দিন কাটে তার। শহীদ ভাদু বর্মনের ছেলে অধীন বর্মন নিজে এখন অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে দিনযাপন করেন। খাঁপুরের বাসিন্দা অধীর বর্মন ও তাঁর স্ত্রী বীনা বর্মন জানান, তাদের পরিবারের দুজন তেভাগা আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু কোনরকম সরকারী সাহায্যই মেলেনা। ফলে অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে দিনযাপন করতে হয় তাদের। যাদের আন্দোলনের ফলে আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাদের লড়াই এর ফলে কৃষকরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছে আজ সেই সব শহীদদের পরিবারই ব্রাত্য। সরকারের তাদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার লোকজন। 

  • জল সহায়করা ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসককে।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ জল সহায়করা তাদের মাসিক বেতন ও বীমা সুরক্ষা প্রদান সহ মোট ৫ দফা দাবিতে স্মারকলিপি জমা দিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসককে। জেলার সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্ত গ্রামগুলি থেকে  নলকূপগুলির জল সংগ্রহের জন্য জলবন্ধু নিয়োগ করা হয়েছে বেশ কয়েকবছর আগে । জলবন্ধুরা বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গিয়ে নলকূপগুলির জল সংগ্রহ করে। পরে সেগুলি পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামপঞ্চায়েতের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে জল সংগ্রহ করলেও তাদের অস্থায়ীভাবে রাখা হয়েছে। ওয়াটার ফেসিলিটেটররা পশ্চিমবঙ্গ ওয়াটার ফেসিলিটেটর ইন মনিটরিং ওয়েলফেয়ার সংগঠন গড়ে স্মারকলিপি জমা দিল। সংগঠনের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি তৃপ্তি সরকার জানান, মাসিক বেতন ও বীমা সুরক্ষা প্রদান করা, সচিত্র পরিচয়পত্র প্রদান, ভলেন্টিয়ার ফেসিলিটেটর নাম বাদ দিয়ে ওয়াটার ফেসিলিটেটর নাম দেওয়া, পঞ্চায়েতের অন্যান্য কাজে যুক্ত করা সহ ‌মোট ৫ দফা দাবিতে জেলা শাসকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। যাতে তাদের কাজ থেকে বাদ না দেওয়া হয় সেজন্য তারা এদিন স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। ‌

  • মাধ্যমিকের অংক পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী।

    অজয় সরকার, গঙ্গারামপুর, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ মাধ্যমিকের অংক পরীক্ষা খারাপ দিয়ে মানসিক অবসাদের জেরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। গঙ্গারামপুর থানার পূর্ব বেলবাড়ি এলাকার ঘটনা। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, মৃত ওই ছাত্রের নাম অন্তর শীল(‌১৮)‌। বাবা আনন্দ শীল কৃষিকাজ করেন। পরিবারের এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে অন্তর বড়। গঙ্গারামপুর থানার বোড়ডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছিল সে। নয়াবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষার আসন বসেছিল অন্তরের। অন্তরের মা তুলসী শীল জানান, বাংলা, ইংরেজী পরীক্ষা ভালো হলেও এবারে অংক পরীক্ষা খারাপ হয়েছিল। এরপর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিল সে। কিন্তু সে বাড়িতে এ ঘটনা ঘটাবে তা কেউই বুঝে উঠতে পারে নি। বুধবার সকালে অন্তরের বাবা আনন্দ শীল ও মা তুলসী দেবী জমিতে গিয়েছিলেন সরষে তুলতে। বাড়িতে তখন বোন ঈশিতা একাই ছিল। অনেক বেলা হয়ে গেলেও দাদা ঘুম থেকে না ওঠায় তাকে ডাকাডাকি শুরু করে। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া না মেলায় সে ঘরের দরজার নীচ দিয়ে উঁকি মেরে দেখতে চেষ্টা করে। সে সময়েই দাদার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায়। ঈশিতার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। খবর পেয়ে বাবা ও মা দুজনেই জমি থেকে চলে আসেন। প্রতিবেশীরাই ঘরের দরজা ভেঙ্গে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। তড়িঘড়ি গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎস মৃত বলে জানায়। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। অন্তরের বোন ঈশিতা জানায়, ঘরে রাতে একাই থাকত দাদা। এদিন সকালে ঘুম থেকে না ওঠায় ডাকতে গিয়ে দেখতে পায় গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে সে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। ‌  

  • পরিষেবার উন্নয়নের জন্য বালুরঘাট স্টেশন পরিদর্শনে উত্তর-‌পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার

    newsbazar24: অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৯ ফেব্রুয়ারিঃ বালুরঘাট হিলি রেলপথ সম্প্রসারণের,পরিষেবার উন্নয়নের জন্য বালুরঘাট স্টেশন পরিদর্শনে এলেন উত্তর-‌পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার। এদিন দুপুরে বালুরঘাটে আসেন তিনি। বালুরঘাট সার্কিট হাউসে আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক সভা করেন। পরে বালুরঘাটের ডাঙ্গী এলাকায় বালুরঘাট হিলি রেলপথের আত্রেয়ী নদীর উপরে রেলের ওভার ব্রীজের জায়গা পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি সেখান থেকে হিলির উদ্দেশে রওনা দেন জেনারেল ম্যানেজার। হিলির লস্করপুরে জাতীয় সড়কের উপর রেলের ওভার ব্রীজের প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেন তিনি। পরে তিনি হিলির আপ্তৈর এলাকায় প্রস্তাবিত রেলস্টেশনের কাজ দেখতে যান তিনি। হিলির এই রেলস্টেশনের পাশেই রয়েছে বাংলাদেশের রেলপথ। ভবিষ্যতে যাতে এদেশের রেলপথের সঙ্গে বাংলাদেশের রেলপথ যুক্ত করা যায়, সেই বিষয়টিও তিনি খতিয়ে দেখেন। হিলিতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ক্যাম্পে রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। হিলির আপ্তৈর এলাকাতেই তৈরী করা হবে হিলি স্টেশন ও রেক পয়েন্ট। রেলের জায়গার সমস্যা হলে প্রয়োজনে হিলির আপ্তৈর সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ক্যাম্প অন্যত্র সরানোর জন্যও আলোচনা করেন সীমান্তরক্ষী আধিকারিকদের সঙ্গে। জানা যায়, হিলি বালুরঘাট রেলপথ সম্প্রসারণের জন্য ৪১০ একর জমি অধিগ্রহন করা হবে। এজন্য জেলা প্রশাসনের তরফে গত জুলাই মাসে নবান্নে আইজি রেজিস্ট্রেশনের কাছে জমির মূল্য নির্ধারণের জন্য তা তার অনুমোদনের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমতি এলেই জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে বলে জেলা জমি অধিগ্রহন আধিকারিক দেবজিৎ বসু জানান। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার নীলেশ কিশোর প্রসাদ জানান, হিলি বালুরঘাট রেলপথের জমি অধিগ্রহনের আগে জমির মূল্য নির্ধারণ করার প্রয়োজন। একাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নবান্নের অনুমতি পেলেই জমি অধিগ্রহন করে রেলের কাজ শুরু হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই জমির ক্ষতিপূরণ দেবার কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

  • মাধ্যমিকের অঙ্কের খাতা টেনে নিতে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল এক পরীক্ষকের বিরুদ্ধে

    Newsbazar24: অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৮ ফেব্রুয়ারিঃ মাধ্যমিকের অঙ্কের খাতা টেনে নিতে গিয়ে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল এক পরীক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল বালুরঘাট খাদিমপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে। সোমবার ছিল মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা। এবারে উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আসন বসেছিল ওই বিদ্যালয়ে। ছাত্রীদের অভিযোগ, পরীক্ষার শেষে ওই ছাত্রীর খাতা ছিঁড়ে দেন পরীক্ষক দিদিমনি। এই ঘটনার পরেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুপ্রীতি সরকার। জানা যায়, পড়াশোনায় বরাবরই মেধাবী ওই ছাত্রী। খাতা ছিঁড়ে যাওয়ায় অঙ্কের ফল কি আসবে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। বিষয়টি জানতে পেরেই বিদ্যালয়ের বাইরে অপেক্ষারত ছাত্রীদের অভিভাবক-‌অভিভাবিকারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। খবর পেয়েই পরিস্থিতি সামাল দিতে বালুরঘাট থানার পুলিশ হাজির হন সেখানে। এবারের মাধ্যমিকের বালুরঘাট সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নারায়ন কুন্ডু ছুটে আসেন সেখানে। গোটা বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। খাদিমপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোমা সরকার জানান, ইচ্ছে করে ওই পরীক্ষার্থীর খাতা ছেঁড়া হয়নি। পরীক্ষার শেষ বেল বাজার পরে তার কাছ থেকে খাতা নিতে যাবার সময়েই তা ছিঁড়ে যায়। বিষয়টি জানার পরেই ওই খাতাটি সেলোটেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও খাতার উপরে বিদ্যালয়ের তরফে একটি নোট দেওয়া হয়েছে। যাতে কোনরকম সমস্যা না হয় ওই ছাত্রীর। অভিভাবকদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পরে বিক্ষোভ থামে। বালুরঘাট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ওই পরীক্ষার্থী সুপ্রীতি সরকার জানান, পরীক্ষার পরে আচমকাই খাতা জোর করে টেনে নিতে গিয়ে সেটি ছিঁড়ে ফেলেন এক শিক্ষিকা। পরীক্ষার কি ফল আসবে তা ভেবে পাচ্ছে না সে। গোটা ঘটনা নিয়ে চিন্তিত ওই ছাত্রীর পরিবারের লোকেরা।

  • নিজের ফেসবুক ওয়ালে জওয়ানদের নিয়ে বিতর্কিত তথ্য শেয়ার করার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে

    Newsbazar24: অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৭ ফেব্রুয়ারিঃ বালুরঘাট শহরের এক তৃণমূল নেতা নিজের ফেসবুক ওয়ালে জওয়ানদের নিয়ে বিতর্কিত তথ্য শেয়ার করার অভিযোগ উঠল। রবিবার এনিয়ে বালুরঘাট থানায় ওই তৃণমুল নেতার নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বালুরঘাট নিবাসি তথা গৌড়বং ইউনিভারসিটির এক প্রফেসার সুকান্ত মজুমদার। ঘটনায় এদিন ওই তৃণমূল নেতাকে প্রাথমিকভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে বালুরঘাট থানার পুলিস। ধৃত ওই নেতাকে তড়িঘড়ি তার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তরিঘরি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন গঙ্গারামপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা সত্যেন্দ্রনাথ রায়। রবিবার সকালে বালুরঘাট শহরে এই ঘটনা ঘটে। ধৃত ওই তৃণমূল নেতার নাম শান্ত সরকার। বালুরঘাটের তৃণমূলের এসসি এসটি সেলের টাউন সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এ মাসের ১৪ তারিখে কাশ্মীলের পুলওয়ামায় জঙ্গীদের হাতে ৪২ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহীদ হয়েছেন। এই ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। এর মাঝেই এদিন সকালে স্থানীয় লোকজন দেখতে পান শান্ত সরকার নামে তৃণমূলের এসসি এসটি সেলার বালুরঘাট টাউন সভাপতির ফেসবুক ওয়ালে লেখা রয়েছে কাশ্মীরের ভারতীয় জওয়ানরা ১৪ হাজার কাশ্মীরি মুসলমানদের হত্যা করেছে ও ১০ হাজার কাশ্মীরি মহিলাকে ধর্ষণ করেছে। বিতর্কিত ওই তথ্য ফেসবুকে নিজের ওয়ালে পোস্ট করতেই নিন্দার ঝড় ওঠে সর্বত্রই। সমালোচনার ঝড় ওঠে ফেসবুকে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি নিজের ওয়াল থেকে তা মুছে দেন। এমনকি বিষয়টি সামাল দিতে পরে নিজের ফেসবুকে জওয়ানদের বেশ কিছু ছবি পোস্ট করেন। কিন্তু এই তথ্য জানাজানি হবার পাশাপাশি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ সুকান্ত মজুমদার নিজে সেটির স্ক্রিন শট নিয়ে ওই নেতার বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরেই দলের এসসি এসটি সেলের বালুরঘাট টাউন সভাপতির পদ থেকে তার সরিয়ে দেওয়া হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতা তথা গঙ্গারামপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সত্যেন্দ্র নাথ রায় জানান, দেশের বিরুদ্ধাচারণ কখনই মেনে নেওয়া যায় না। বিতর্কিত ওই পোস্টের জন্য তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য জেলা সভাপতির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ সুকান্ত মজুমদার জানান, সেনাকে কলুষিত করতে এধরণের মিথ্যা অপপ্রচার কখনই মেনে নেওয়া যায় না। বালুরঘাট থানায় তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও পুলিসি অভিযোগের পরেই ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বালুরঘাট থানার পুলিস সুত্রে জানা যায়, ধৃত ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বালুরঘাট থানায় আনা হয়েছে। তবে এখনও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

  • বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে একটি সদ্যজাত মৃত শিশু উদ্ধার

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১১ ফেব্রুয়ারিঃ বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে একটি সদ্যজাত মৃত শিশু উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এদিন সকালে হাসপাতালের সাফাইকর্মীরা একটি ডাস্টবিনের মধ্যে লাই ক্যারিব্যাগের ভেতরে একটি অপরিণত সদ্যজাত মৃত শিশুকে দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হতেই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, বাইরে থেকে ওই সদ্যজাত শিশুটিকে ডাস্টবিনে ফেলে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালের সাফাই কর্মী বিকাশ সিং জানান, তিনি প্রথমে ওই প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগে মোড়ানো এই দেহটি দেখতে পান। এর আগেও হাসপাতালের ডাস্টবিনে এধরণের দেহ ফেলে রাখা হত বলে জানা যায়। হাসপাতালের বিভিন্ন প্রান্তে কর্তব্যরত পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়ারের সামনে এধরণের ক্যারিব্যাগে করে কিভাবে শিশুকে ফেলে যাবার ঘটনা ঘটছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জেলা হাসাপাতালের সুপার তপন বিশ্বাস জানান, দেহটি হাসপাতালের কোনো প্রসূতির নয়। বাইরে থেকে এনে সম্ভবত তা ফেলা হয়েছিল। ঘটনার তদন্তের জন্য পুলিসকে জানানো হয়েছে। হাসপাতালের সহকারী সুপার ডাঃ অরিন্দম রায় জানান, এমাসে এখনও পর্যন্ত জেলা হাসপাতালে মোট ৫ টি অপরিণত শিশু জন্মগ্রহন করেছে। যার মধ্যে ৪ টি অপরিণত মৃত শিশুকে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। একটি শিশু এখনও হাসপাতালেই রয়েছে। তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করে অপরিণত মৃত শিশুকে কোনো পরিবারের লোকেরা তা ডাস্টবিনে ফেলে যেতেও পারেন। এক্ষেত্রে হাসপাতালের নিরাপত্তা আরো বাড়ানোর প্রয়োজন বলে তিনি জানান। অরিন্দম রায় জানান, জেলা হাসপাতালের পেছনেও যাতে সিসিটিভি লাগানো যায়, সেজন্য শিঘ্রই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

  • লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তর দিনাজপুরে উদ্বোধন ও কাজের সুচনার ছড়াছড়ি।

    উত্তর দিনাজপুর , ১০ফেব্রুয়ারীঃ লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উদ্বোধন ও কাজের সুচনার ছড়াছড়ি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী রবীন্দ্র নাথ ঘোষ আজ উত্তর দিনাজপুর  জেলার ইসলামপুরে একটি রাস্তার উদ্ধোধন সহ দুটি কাজের শুভ সূচনা করলেন।   তিনি ইসলামপুরের সোনাপুরে ভোষপিটা থেকে প্রেমচান্দগছ, রানিগঞ্জ হয়ে সোনাপুর অবধি  প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তার উদ্ধোধন  করেন। রাস্তার জন্য ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ৫৪ লক্ষ ৩০০ টাকা । এছাড়া এদিন দুইটি কাজের সূচনা করেন মন্ত্রী। ইসলামপুরে দাড়িভিটেয় ৭২ মিটার লম্বা  সেতু ও একটি অত্যাধুনিক শ্মশানের কাজের সূচনা করেন। এই দুইটি কাজের জন্য বরাদ্দ  করা হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা ও ৬৮ লক্ষ টাকা।  এদিন এই অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসক অরবিন্দ কুমার মিনা, উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি ফরহাদ বাণু, ইসলামপুরে বিধায়ক প্রতিনিধি সহ অন্যান্য  বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গরা ।

  • যোগীর হেলিকপ্টার নামার অনুমতি না মেলা সত্ত্বেও তার অনুপস্থিতেই নির্বিঘ্নে শেষ হল বিজেপি'র গণতন্ত্র বাঁচাও সভা।

    অজয় সরকার,‌ বালুরঘাট, ৩ ফেব্রুয়ারিঃ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেলিকাপ্টার নামার অনুমতি না মেলায় রবিবার যোগী আদিত্যনাথের অনুপস্থিতেই শেষ হল সভা বিজেপি'র গণতন্ত্র বাঁচাও সভা। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই জেলা জুড়ে টানটান উত্তেজনা ছিল। বিজেপির তরফে প্রচার করা হয়েছিল জেলাজুড়ে। বালুরঘাট শহর যোগী আদিত্যনাথের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। বালুরঘাট শহর সংলগ্ন রেল লাইনের মাঠে সভা করার অনুমতিও মিলেছিল রেলের তরফে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের তরফে বালুরঘাট বিমান বন্দরে হেলিকপ্টার নামার অনুমতি না পাওয়াতেই বিজেপির এই সভায় যোগী আদিত্যনাথ আসতে পারল না বলে দলের তরফে শেষমেশ জানানো হয়। যদিও এদিন বালুরঘাট রেলস্টেশনের মাঠে সভা চলাকালীন উত্তরপ্রদেশ থেকে মোবাইলে যোগী আদিত্যনাথের ভাষণ শোনানো হয়। প্রায় ১০ মিনিটের এই ভাষণের পাশাপাশি এদিনের সভায় জেলা নেতারাও ভাষণ দেন। যদিও প্রত্যাশামতো এদিনের সভায় লোক হাজির করতে পারেন নি জেলা বিজেপির কর্মকর্তারা। সভার হেলিকপ্টারের অনুমতি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই একটি চাপা উত্তেজনা ছিল। যদিও বিজেপির তরফে হেলিকপ্টার নামার অনুমতি মিলবে বলে অনেকটাই নিশ্চিত ছিল দলের জেলা নেতারা। শনিবার বিকালেও বিজেপির তরফে এক প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাত করে। বিজেপি নেতাকর্মীরা আশা করেছিলেন যে রাতের মধ্যে সভার অনুমতি মিলবে। এদিন সকালে অনুমতি না পেয়েই দলের নেতারা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসকের বাংলোর সামনে হাজির হন। তারা দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা ধরে জেলা শাসকের বাংলোর সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। দলের উত্তরবঙ্গের ‌কনভেনর রথিন বোস জানান, গত কয়েকদিন ধরেই নানা টালবাহনা করা হচ্ছিল। প্রশাসনের তরফে অনুমতি না মেলার আশঙ্কাও করা হয়েছিল। সেইমতো রেল স্টেশন মাঠেই শনিবার রাতে একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরী করা হয়। শনিবার দুপুরেও জেলা প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বিকাল ৩ টা নাগাদ অনুমতি দেওয়া হবে বলে রথিন বোস জানান। বিকালে জেলা শাসক দীপাপ প্রিয়া পি-‌র সঙ্গে দেখা করলে তিনি জানান,  হেলিকপ্টার নামার জন্য কলকাতায় অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে অনুমতি মিললেই তা দেওয়া হবে। কিন্তু রাতভর অপেক্ষা করেও অনুমতি না মেলায় রবিবার সাতসকালে বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার, রথিন বোস, নীলাঞ্জন রায় সহ জেলার একাধিক নেতা জেলা শাসকের বাংলোয় হাজির হন। কিন্তু অনুমতি না মেলায় হতাশ হয়ে সেখানেই বসে পড়েন। শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ এবং এর    প্রতিবাদে আজ দক্ষিণ দিনাজপুরের ডিএম বাংলো থেকে কিছুটা দূরে বালুরঘাট সার্কিট হাউজ়ের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়াল বিজেপি । দলের জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার, উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক রথীন বোস, জেলা নীলাঞ্জন রায়সহ অন্যান্য জেলা নেতার উপস্থিতিতে এদিন মমতা ব্যানার্জির কুশপুতুল পোড়ানো হয়। গোলমালের আশঙ্কায় বালুরঘাট থানার আই সি জয়ন্ত দত্ত, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার দেবাশিষ নন্দি সহ এক বিশাল পুলিশ বাহিনী হাজির হয় সেখানে। ইতিমধ্যেই বেলা বাড়তে থাকে। বাইরে থাকা আসা দলের নেতা কর্মীরাও গাড়ি থেকে নেমে হাজির হন জেলা শাসকের বাংলোর সামনে। এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে তারা বালুরঘাট রেলস্টেশনের সভাস্থলে হাজির হন। দুপুর একটা নাগাদ সভা শুরু হয়। সভায় বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকার, উত্তরবঙ্গেন কনভেনর রথিন বোস, বিজেপির সহ সংগঠন সম্পাদক কিশোর দাস সহ জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।  সভা চলাকালীন যোগী আদিত্যনাথের ভাষণ মোবাইলে শোনানো হয়। তিনি এদিন না আসার জন্য শুরুতেই দুঃখ প্রকাশ করেন। জানান, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। মানুষ তৃণমূল সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চাইছে। বিজেপি এলেই রাজ্যের দুর্নীতি, বেকারি সহ সমস্ত সমস্যার মুক্তি মিলবে। তিনি বলেন, এদিন প্রশাসনের অনুমতি না মেলায় বালুরঘাটে আসতে পারলেন না। তবে খুব তিনি ফের বালুরঘাটে আসবেন। সামনেই লোকসভা নির্বাচন। লোকসভা নির্বাচনে এই সরকারকে উপড়ে ফেলতে একজোট হয়ে কাজ করার বার্তা দেন দলের নেতা কর্মীদের কাছে। দুপুর ৩ টা নাগাদ সভা শেষ হয়।

  • দক্ষিন দিনাজপুরে সীমান্ত এলাকায় পীর বাবার মেলা উপলক্ষ্যে দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৭ জানুয়ারিঃ পীর বাবার মেলা উপলক্ষ্যে দুই বাংলা মিলেমিশে একাকার হল। মেলায় এসে চোখের জলে ভাসল দুদেশের আত্মীয়রা। দীর্ঘদিন পরে নিজেদের ভাই-‌বোন দাদা কাকাকে দেখতে পেয়ে কেউ কান্নায় ভেসে পড়ল, কেউবা তাদের প্রিয়জনদের জন্য আনা পোশাক, খাবার একে অপরকে দিল। দুই বাংলার সম্পৃতির এই অনন্য নজির দেখল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের জলঘর গ্রাম পঞ্চায়েতের ত্রিকূল এলাকা। প্রতি বছরের মতো এবারেও রবিবার বসেছিল মেলা। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার এপারেই এই মেলা উপলক্ষ্যে দু-‌দেশের  প্রায় ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন ওই এলাকায়।যদিও সীমান্ত রক্ষী জওয়ানরা আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন। আগে থেকেই খবর পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশেও। সকাল সকাল বাংলাদেশের নজিপুর, মহাদেবপুর, সাপাহার, নিয়ামতপুর থানা এলাকার মূলতঃ কুমরইল, মহেশপুর, শীতল, আগ্রাদুগুন, সাপাহার, শিয়ালা, নজিপুর, ধামরহাট সহ প্রায় ৩০ টি গ্রামের ২০ হাজার বাংলাদেশি হাজির হয়েছিলেন কাঁটাতারের ওপারের সীমান্তে। অন্যদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের জলঘর এলাকা ছাড়াও তপন ব্লকের অভিরামপুর, ভাড়িলা, বালাপুর, চেঁচাই, শ্রীবই, মনিপুর,  লস্করহাট, ভবানীপুর, মালঞ্চা সহ প্রায় ৫০ টি গ্রামের লোক জমায়েত হয়েছিলেন সেখানে। দুপুর হতেই ভীড়ে উপচে পড়ে গোটা এলাকা। প্রত্যেকেই তাদের নিকটাত্মীয়দের খোঁজ করতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কাঁটাতারের বেড়ার এপার থেকে ওপারে তাদের দাদা-‌কাকা-‌ভাই বোনদের দেখতে পেতেই আনন্দ উচ্ছাস ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। চেঁচাই এর বাসিন্দা সত্তোরোর্ধ সুরেশ টিগ্গা ছোটোবেলায় বাংলাদেশের নজিপুর থানা এলাকায় নজিপুর গ্রামে ছেড়ে আসা তাঁর ভাইদের দেখতে হাজির হয়েছিলেন সেই মেলায়। সঙ্গে ভাই এর জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন লুঙ্গি, জামা ও বাড়িতে রান্না করা পায়েস। ভাই মদন টিগ্গাকে দেখতে পেয়েই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে কাঁটাতারের উপর দিয়ে ছুঁড়ে দেন নিজের আনা জিনিষপত্র। অন্যদিকে ভাইয়ের আনা বাংলাদেশের গুড় সহ অনেক জিনিষ হাতে পেয়ে দারুন উচ্ছসিত সুরেশ বাবু। তিনি জানান, বছরের এই দিনটির জন্যই সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন। দেশ ভাগের পর আর নিজের জন্মভিটেয় যাওয়া হয়নি। কিন্তু প্রতি বছরের এই মেলাতে এসে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হয়। ফেরার আগে তিনি মেলা থেকে গরম জিলিপি কিনে তা তাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। অনেকেই তাদের আত্মীয়দের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ান কাঁটাতার ঘেষে। চেষ্টা করেন একবার নিজের চোখে দেখার জন্য। না পেলে ওই গ্রাম থেকে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জেনে নিচ্ছেন তাদের সম্পর্কে। এভাবেই মেলা জমে ওঠে প্রতিবছর জলঘরে। এবারে কেবলমাত্র জলঘর এলাকাই নয়, আশপাশের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূর থেকে লোকজন হাজির হয়েছিলেন মেলায় বেচাকেনা করতে। মেলাতে মিষ্টির দোকানের পাশাপাশি হরেক রকমের মনোহারি দোকান বসেছিল। দিনভর চলে দেদার বেচাকেনা। যদিও সন্ধ্যে নামতেই ফের এক বছরের জন্য নিজেদের স্মৃতিটুকু সম্বল করে ফিরে যান তাদের ঘরে। বাস্তবিক অর্থেই এবারে জলঘরের ত্রিকূল এই মেলা দু-‌ দেশের সম্পৃতি ও মিলন মেলার রুপ