উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর

  • বুনিয়াদপুরে ভোটকর্মীর রহস্যমৃত্যু ঃ রিপোর্ট তলব কমিশনের

    news bazar : ভোট কর্মীর রহস্য মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে।কীভাবে ওই কর্মীর মৃত্যু হল, তা জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।জানা গিয়েছে, মৃতের নাম বাবুলাল মুর্মু। তিনি কুশমন্ডির শিক্ষক। বুনিয়াদপুরের বাসিন্দা। রিসার্ভে থাকা ভোট কর্মী ছিলেন তিনি। এদিন সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় বাবুললাল মুর্মুর দেহ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। বাবুলাল মুর্মুর স্ত্রী জানিয়েছেন, কাল রাতে ভোটের ডিউটির কথা জানিয়েছিলেন তিনি। ভয়ের কথাও জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, সেন্ট্রাল ফোর্স না থাকলে তিনি ডিউটি করবেন না।পরিবারের দাবি, বাবুলাল মুর্মুর শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হয়েছে। ঘরের মাটিতে রক্ত পড়ে আছে। তবে, মৃত্যুর কারণ এখনও সুস্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্র নড়েচড়ে বসে কমিশনও। রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।এর পাশাপাশি, তৃতীয় দফার ভোটে এড়ানো গেল না রক্ত। রাজ্যে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটল মুর্শিদাবাদে। ভোটের হিংসায় মুর্শিদাবাদের ভগবামগোলায় প্রাণ গেল এক ভোটারের। তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে মৃত্যু হয় ওই ভোটারের। নিহতের নাম টিয়ারুল আবুল কালাম। 

  • কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোট হবে না এই দাবীতে বুথে তালা লাগালেন গ্রামবাসীরা

    ২২ এপ্রিলঃ  আগামীকাল ভোট অথচ গ্রামের বাসিন্দারা কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া  বুথের ভিতরে ভোটকর্মীদের ঢুকতে তো দিলেন না  উপরন্তু বুথে তালা লাগিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখান  তারা । ভোট কর্মীদের সাথে আসা  পুলিশের সঙ্গে  ঝামেলা লেগে যায় গ্রামবাসীদের ।  এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।  এই ঘটনাটি ঘটেছে বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ইটাহার বিধানসভার ৩৬/৫২ নম্বর বুথে। ইটাহার থানার অধীন  বেকিডাঙা জিএসএফপি স্কুলের বুথে গ্রামের ভোটাররা ভোটকর্মীদের বুথে প্রবেশ বাধা দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। সেই খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে ইটাহার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, এই বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী না দিলে ভোট নিতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভোটারদের অভিযোগ, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই বুথে ব্যাপক গন্ডগোল ও বুথ জ্যামের ঘটনা ঘটে। কোনও ভোটারকে ভোট দিতেই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।               তাই  তাদের দাবি রাজ্য পুলিশ দিয়ে এখানে  তারা ভোট করতে দেবেন না । কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার দাবিতে তাঁরা ভোটকর্মীদের বুথে প্রবেশ আটকে দেওয়ার পাশাপাশি বুথে তালা লাগিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগদ পেতে হয় প্রশাসনকে। ভোটকর্মীরা স্কুলের বারান্দায় অপেক্ষা করতে থাকেন। সর্ব শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায় গ্রামবাসীরা নিজেদের দাবীতে অটল। জেলা প্রশাসন এই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে।  

  • বুনিয়াদপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভার পর উঠেছে জল্পনা

    Newsbazar24 : দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সভার পরই উসকে উঠেছে জল্পনা। সূত্রের খবর, রাজ্যের বাকি আসনগুলির মধ্যে কোনও একটিতে প্রার্থী হওয়ার জন্য নরেন্দ্র মোদীর কাছে আবেদন জানিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে 'পদ্মবাগান' তৈরিতে মরিয়া গেরুয়া শিবির চাইছে, মোদীকেই মুখ করে এগোতে। আর তাই প্রধানমন্ত্রীকেই প্রধান কাণ্ডারি করে রাজ্যে ভোট বৈতরণী পার করতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি। প্রসঙ্গত, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত তিন দফায় মোট ৩৯টি আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিজেপি। রাজ্যে লোকসভা আসন মোট ৪২টি। অর্থাত্, আরও ৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা এখনও বাকি রয়েছে বঙ্গ বিজেপির। শেষের দুদফার কোনও আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য মোদীকে অনুরোধ করেছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব।বুনিয়াদপুরের সভায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া আক্রমণ করেন নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিনের থেকে এদিন প্রধানমন্ত্রীর সুর ছিল অনেকটাই চড়া ও ভিন্ন। সভায় মোদী সাফ বলেন, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একসময় 'ভালো মানুষ' ভেবেছিলেন। কিন্তু, এখন 'স্বীকার' করছেন যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে 'ভুল' বুঝেছিলেন। মোদীর এই কথার সূত্র ধরেই রাজ্য বিজেপি বাংলা থেকে লড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।এরপর সভা শেষ করে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে নাড়তে মোদী যখন মুকুল রায়ের কাছে এগিয়ে আসেন, তখনই তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভায় প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। মুকুল রায়ের সঙ্গেই ছিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তাঁরা সরাসরি নরেন্দ্র মোদীকে প্রস্তাব দেন বাংলা থেকে লড়ার জন্য। মোদীকে বলা হয়, প্রথম দু-দফার ভোটের পরই পরিস্থিতিটা অনেকখানি পরিষ্কার। এই পরিস্থিতি তিনি যদি বাংলা থেকে লড়েন, তাহলে তার গুরুত্ব অনেকখানি বেড়ে যাবে।

  • আত্রেয়ী নদীর জল সমস্যাকে হাতিয়ার করে বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ মমতার

    সরোজ কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৯ এপ্রিলঃ জেলার গুরুত্বপূর্ণ আত্রেয়ী নদীর জল সমস্যাকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মমতা। বাংলাদেশ থেকে এসে বালুরঘাট ও কুমারগঞ্জের মধ্যে ফের বাংলাদেশে প্রবাহিত এই নদী রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি তুলে তিনি বলেন, আত্রেয়ী নদীর জল আটকে দিয়েছে। এখানকার লোক জল পায়না। এটা বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণ করে। আমি অনেকবার বলেছি। কিন্তু ইন্ডিয়া গরমেন্ট বিজেপি সরকার নড়েও না চড়েও না। বালুরঘাট, গঙ্গারপুরের মানুষ জল না পেলে তাদের কি এসে যায়। কিন্তু অন্যসময় আবার এসে যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রনে থাকা আধা সামরিক বাহিনীর উদ্দেশ্যে বালুরঘাটের সভামঞ্চ থেকে হিন্দি ভাষাতেই আবেদনের মাধ্যমে নিদান দিলেন বাংলার মূখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়।এদিন বালুরঘাট শহরের টাউন ক্লাব ময়দানের নির্বাচনী প্রচার থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে নেত্রী বলেন, সেন্ট্রাল ফোর্স, স্টেট ফোর্স এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স আপনারা একসাথে কাজ করুন। কোন পার্টির হয়ে কাজ করবেন না। প্রশাসনের হয়ে কাজ করুন বিজেপির হয়ে না। আপনাদের কোন বিষয় থাকলে আমাদের রাজ্য পুলিশ আছে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। কেএখন এক সরকার পরে আরেক সরকার আসবে। বিজেপি সরকারে থাকবে না। তখন কি হবে? কে দেখবে? আপনারাও আমাদের ঘরের সন্তান। আপনাদের ভাল চাই, পছন্দ করি এবং স্যালুট করি। আমাদের রাজ্যে আপনাদের কোন পার্থক্য নেই। তাই বলছি এই রাজ্যে একসাথে কাজ করতে। বিজেপির কথা শুনে নয়।

  • প্রার্থীরা মার খেয়েছেন, ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেন সূর্যকান্ত মিশ্র

    newsbazar24: রায়গঞ্জের ২২টি বুথে পোলিং এজেন্ট ও ভোটাররা ঢুকতে পারেননি। প্রার্থীরা মার খেয়েছেন। এদিন ভোট শেষের পর সূর্যকান্ত মিশ্র অভিযোগ করেন, স্পর্শকাতর বুথের তালিকা ঠিক মতো হয়নি। প্রসঙ্গত ইসলামপুরের নয়াপাড়া টেরিংবাড়িতে আক্রান্ত হন বাম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম। তাঁর গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। এহেন পরিস্থিতিতে ভোটারদের নিরাপত্তা কোথায় প্রশ্ন তোলেন তিনি। এরপরই রায়গঞ্জের ২২টি ও ইসলামপুরের ৮টি, মোট ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেন সূর্যকান্ত বাবু।পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বায়োপিক 'বাঘিনী'র মুক্তি কেন রদ করা হবে না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তৈরি ছবি 'বাঘিনী'র মুক্তির বিরুদ্ধে ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়ার দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধীরা। ছবিটি সেন্সর সার্টিফিকেট পেয়েছে কিনা, বিরোধীদের অভিযোগের পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া। এখন 'বাঘিনী' ছবির রিলিজ বন্ধের বিষয়েও ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া-ই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

  • বালুরঘাটের প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতিপর্ব খতিয়ে দেখতে কৈলাস বিজয়বর্গী ও রথীন্দ্রনাথ বোস।

    বালুরঘাট, ১৮ই এপ্রিল:-  ভোট হতে আর মাত্র চারদিন বাকি  কিন্তু বিজেপি ও  তৃণমূল উভয় দলই শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প কার্ড স্পেডের টেক্কা খেলে বাজিমাত করার মরিয়া চেষ্টায় উভয় শিবির l আগামীকাল বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বালুরঘাট ও গঙ্গারামপুরে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির জনসভা l অপরদিকে বিজেপি শিবিরও বালুরঘাট লোকসভাকে পাখির চোখ করে  আগামী ২০ শে এপ্রিল বিজেপি শিবিরের প্রধান মুখ নরেন্দ্র মোদিকে প্রচারের শেষ লগ্নে মাঠে নামিয়ে বাজিমাত করতে চাইছে l  মোদির সভা উপলক্ষে আজ বৃহঃস্পতিবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারি ব্লকের  নারায়ণপুরে বুনিয়াদপুর -  রায়গঞ্জ রাজ্য সড়কের ডান পার্শে প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে হাজির হলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গী ও উত্তরবঙ্গ জোনের বিজেপির কনভেনার রথীন্দ্রনাথ বোস। এদিন বিকেলে সভামঞ্চের কাজ সরজমিনে দাঁড়িয়ে থেকে দেখলেন কৈলাসজী।ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সভার মঞ্চের যেন কোনো  ত্রুটি  না থাকে সেবিষয়ে তদারকি করলেন ও যেসব সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে আসবেন ২০ এপ্রিল সকালে তাদের সভায় আসতে যেনো কোনো সমস্যা না হয় সেবিষয়ে জেলা বিজেপি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন বুনিয়াদপুর বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা যায় l  বৃহস্পতিবার দুপুরে নানা দিক থেকে হেলিকপ্টারের মহড়া হয় নারায়ণপুরে মোদির প্রস্তাবিত সভা স্থলের হেলিপ্যাডে l  হেলিকপ্টার দেখার জন্য উপচে পড়ে সাধারণ মানুষের ভিড়। এদিকে শুক্রবার জেলার দু জায়গায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সভা করবেন। বিজেপির তরফ থেকে মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের কাউন্টার করাতে জেলার তপন ও হিলি এলাকায় মুকুল রায়কে দিয়ে সভা করানোর রণকৌশল নিয়েছে জেলা বিজেপি।

  • প্রথম দফার ভোট গ্রহণের পরেও প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবীতে ভোট কর্মীদের বিক্ষোভ।

    বালুরঘাট, ১১ এপ্রিলঃ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটকর্মীদের যে  ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সন্মূখীন হতে হয়েছিল সেই একই জিনিষ আবার দেখা গেল লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে । তাই  যাতে পুনরায়  তাদের ক্ষেত্রে সেই  ঘটনা না ঘটে তাই তার আবার  বিক্ষোভে সামিল হল। এই বিক্ষোভে সামিল হলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের  ভোট কর্মীরা৷  লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণে  যখন কোচবিহার আলিপুরদুয়ারে  যখন বুথে ঢুকে ছাপ্পা ভোট ও ইভিএম লুঠের ঘটনায় ঘটছে  এবং প্রিসাইডিং অফিসার ভয়ে আতঙ্কে কথা  বলতে পারছেন না সেটা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দৌলতে সারা রাজ্য দেখছে। আর এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে  দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে  নিরাপত্তা ও সমস্ত বূথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবিতে বিক্ষোভ ভোট কর্মীদের। তাঁদের  দাবি রাজ্য পুলিশ নয়। বালুরঘাট কেন্দ্রের সমস্ত বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যতক্ষণ পর্যন্ত না নির্বাচন কমিশন সবক’টি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী সুনিশ্চিত করছে ততক্ষণ তাঁরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় দফায়  বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন। সুষ্ঠভাবে ভোট গ্রহণ ও গণনা পর্ব সম্পন্ন করতে নিয়োজিত ভোট কর্মীদের দাবি সব বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিতে হবে। এই দাবিতেই বৃহস্পতিবার বালুরঘাটের কংগ্রেস ভবন মাঠে জমায়েত হন ভোট কর্মীরা। সেখান থেকে মিছিল করে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা।

  • বালুরঘাটে যেন বাম জমানা চলছে , কিন্তু কেন এমন মনে হলো ?

    সরোজ কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩ এপ্রিলঃ বালুরঘাটে যেন বাম জমানা চলছে। এদিন মনোনয়ন পত্র জমা দিতে লাল পার্টির কর্মি সমর্থকদের মিছিল দেখে অন্তত এমনই মনে হওয়া স্বাভাবিক। মোদি, মমতার একই দিনে সভার দিনে বামেরা যেন রাজ্যে নগন্য। কিন্তু বালুরঘাট আজ ছিল বামেদের দখলেই। বাম প্রার্থী তথা আরএসপি নেতা রনেন বর্মন এদিন যেন লাল ঝড়ের ইংগিত দিয়েই মনোনয়ন জমা দিতে যান। কয়েক হাজার কর্মী সমর্থকদের লাল টুপি,পতাকা দিয়ে সুসজ্জিত মিছিল দেখতে শহরবাসির উতসাহ ছিল চরমে। ঢাক, ঢোল, কাসর নিয়ে নাচতে নাচতে সমর্থকেরা মিছিলে চলেন। বামেদের এই মিছিলের জেরে এদিন কয়েক ঘন্টা শহরে যানজট এর সৃস্টি হয়। আদিবাসী, তপশিলি জাতি ও সংখ্যালঘু সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান বাম বিধায়ক বিশ্বনাথ চৌধুরী। এবারে এই আসনে জয়ের জন্যে পাখির চোখ করেছে বামেরা। বিজেপি, তৃণমূলের সংগে ত্রিমুখী লড়াই এ এবারে বাজিমাত করতে বামেরা প্রার্থী করেছে প্রাক্তন সাংসদ রনেন বর্মন কে। রণেন বর্মন 1996, 1998, 1999 এবং 2004 সালে এই আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। 2009 সালে এই আসন থেকে জিতেছিলেন আর এস পির প্র‍য়াত নেতা প্রশান্ত মজুমদার। এবারে অপরাজিত সাংসদ রনেন বর্মন কে ফের প্রার্থী করে এই আসনটি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বামেরা। এ দিন ছিল রনেনবাবুর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন। কয়েক হাজার কর্মী সমর্থককে নিয়ে এদিন শহর ঘুরে হাই স্কুল মাঠের দিকে চলে যায় মিছিলটি। সেখান থেকে জেলা নেতাদের সংগে রণেন বর্মন মনোনয়ন জমা দিতে জেলা প্রশাসনিক ভবনে যান। মনোনয়ন জমা দিয়ে, জেলাশাসক এর সামনে শপথ বাক্য পাঠ করেন তিনি। মনোনয়ন পত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে রনেন বর্মণ বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের ভ্রান্ত ও জনবিরোধী নীতির ফলে বেকাররা, কৃষকরা সহ সাধারণ মানুষ সকলেই খুব সমস্যার মধ্যে রয়েছে। এই বঞ্চিত মানুসদের হয়ে বামেরাই লড়াই

  • মনোনয়ন প্ত্র জমা দিতে এসে রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির গড়লেন বালুরঘাট কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট,  ১ এপ্রিলঃ সোমবার বালুরঘাট শহরে রাজনৈতিক সৌজন্যের এক অনন্য নজির দেখালেন বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদার। বিভিন্ন যখন এলাকায় রাজনৈতিক হানাহানি দেখা যাচ্ছে। সেই সময় বালুরঘাট শহর দেখল ঠিক উল্টো চিত্র। বালুঘাটের তথা দক্ষিণ দিনাজপুরের রাজনীতিতে যাকে দ্রোনাচার্য বলে মনে করা হয়, সেই বিশ্বনাথ চৌধুরীর কাছে আশীর্বাদ নিলেন বিজেপির প্রার্থী সুকান্ত মজুমদার। মনোনয়ন জমা দিতে যাবার আগে শুধু পায়ে হাত দিয়ে প্রনামই নয়, সম্মান জানাতে বিশ্বনাথবাবুর গলায় নিজেই মালা পরিয়ে দিলেন সুকান্ত।  সৌজন্য দেখালেন বিশ্বনাথ বাবুও। মিছিল থেকে বেরিয়ে এসে অন্য বিজেপি নেতা কর্মীরাও বালুরঘাটের বিধায়ক তথা আরএসপির রাজ্য সম্পাদক বিশ্বনাথ চৌধুরী কে প্রনাম করতে থাকেন।  বিজেপি, বাম  যুযুধান দুই পক্ষের নেতাদের সৌজন্য রাজনিতি। যা লোকসভার মত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে স্বস্থি দিচ্ছে ভোটারদের।      প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুর একটা নাগাদ বালুরঘাট শহরের মঙ্গলপুর পার্টি অফিস থেকে কয়েক হাজার সমর্থক নিয়ে জেলা শাসকের দপ্তরে নমিনেশন জমা দেন সুকান্ত বাবু। এদিনের নমিনেশন এ বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ ছিল দেখার মতো। প্রায় একশো ঢাক বাজিয়ে নাচের তালে বালুরঘাটে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন সুকান্ত বাবু। এ দিনের মিছিলে সুকান্ত বাবু সঙ্গে পা মেলান সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবজারভার কৈলাস বিজয়বর্গীয় জেলা সভাপতি সুব্রত সরকার প্রাক্তন জেলা সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী।      বিশ্বনাথ বাবু জানান, পার্টি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সে সময় বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদার সৌজন্যবোধ দেখিয়ে আমার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। আমি ও সৌজন্যবোধ দেখিয়েছি।       বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত মজুমদার জানান বিশ্বনাথ বাবু একজন বরিষ্ঠ রাজনীতিবিদ। উনার আশীর্বাদ নিয়েই আমি আজ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি।

  • দক্ষিন দিনাজপুরের প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি তুলে প্রশিক্ষণ বয়কট ভোট কর্মীদের

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ৩১ মার্চঃ এবারের লোকসভা নির্বাচনে জেলার প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী দেওয়ার দাবি তুলে রবিবার প্রশিক্ষণ নিতে আসা সরকারী কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ল বালুরঘাট মহিলা মহাবিদ্যালয়ে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় মাত্র ৩ কোম্পানী অর্থাৎ ২৭০ জন আধা সামরিক বাহিনী ভোটের দায়িত্বে আসছেন এই খবর জানাজানি হতেই ভোট কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। এদিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই প্রশিক্ষণ নিতে আসা কর্মীরা প্রশিক্ষণ বয়কট করে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিল। এ মাসের ২৩ এপ্রিল তৃতীয় দফায় বালুরঘাট লোকসভা নির্বাচন। এই লোকসভার ১৫৩০ টি বুথের মধ্যে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতেই রয়েছে ১৩০৫ টি বুথ। বাকি বুথগুলি উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের মধ্যে রয়েছে। এদিন ছিল দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রশিক্ষণ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়, বুনিয়াদপুর নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ও বালুরঘাট মহিলা মহাবিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ চলছে। এদিন প্রশিক্ষণ চলাকালীন বালুরঘাট মহিলা বিদ্যালয়ে আসা দেড় শতাধিক কর্মী ভোটে আধাসামরিক বাহিনীর পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে সরব হন। মাত্র ৩ কোম্পানী কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে এজেলার ভোটপ্রক্রিয়ার জন্য, জানতে পেরেই তারা এদিনের এই প্রশিক্ষণ বয়কট করে। এদিনের এই প্রশিক্ষণে সরকারী কর্মচারী ও শিক্ষকরা হাজির ছিলেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন এভাবে বয়কটের ঘটনায় প্রথমে অস্বস্তিতে পড়েন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভেতর থেকেই একাধিকবার মাইকে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ শিবিরে হাজির হবার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ভোটকর্মীই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েম করা না হলে প্রশিক্ষণ নিতে অস্বীকার করে। পরে অতিরিক্ত জেলা শাসক কৃত্তিবাস নায়েক জানান, যে সকল ভোটকর্মী এদিন প্রশিক্ষণ নেন নি, তাদের আবার প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান। যদিও এবারের ভোটে কত কোম্পানী আধাসামরিক বাহিনী আসছে তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি অতিরিক্ত জেলা শাসক। ‌