উত�তর ও দক�ষিণ দিনাজপ�র

  • বালুরঘাট শহর সংলগ্ন চকভৃগু এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২০ মার্চ:  ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল বালুরঘাট শহর সংলগ্ন চকভৃগু এলাকায়। অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের আবাসিক গৃহ। বুধবার দুপুর একটা নাগাদ এই অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। এদিন দুপুরে চকভৃগু  নদীপার উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে চকভৃগু তপন রাস্তার ধারে একটি খাতাপত্রের দোকানে প্রথম আগুন লাগে। পাশেই ছিল দুটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকান।  দুপুরে মুর্হূর্তেই আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। ওই দোকানঘরগুলির পেছনেই ছিল বালুরঘাট নদীপার উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস। নীচে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রদের শৌচাগার। ছাত্রাবাসের দোতালার জানালাও আগুনে পুড়ে যায়।  আগুনে পরপর তিনটি দোকান সম্পূর্ণ ভষ্মীভূত হয়ে যায়। যারমধ্যে একটি খাতাপত্রের দোকান ও দুটি হোমিওপ্যাথি ঔষধের দোকান। আগুন দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। খবর দেওয়া হয় দমকল দপ্তরে। খবর পেয়ে বালুরঘাট থেকে দমকলের দুটি ইঞ্জিন সেখানে ছুটে আসে। বিপদের আশঙ্কায় বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি ক্লাস ছুটি দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে প্রায় ঘন্টাখানেক চকভৃগু তপন রুটে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়েই ডিএসপি হেড কোয়ার্টার ধীমান মিত্র সেখানে ছুটে আসেন। প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। বিদ্যুতের সার্কিটের কারণেই আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

  • বেতন না পাওয়ায় বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ঠিকাকর্মীরা বিক্ষোভে সামিল

    অজয় সরকার,  বালুরঘাট, ১৯ মার্চ: টানা দুইমাস ধরে বেতন না মেলায় বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ২০০ ঠিকাকর্মী বিক্ষোভে সামিল হয় বালুরঘাট হাসপাতাল চত্তরে। টানা দুই ঘন্টা ধরে চলে এই কর্মবিরতি। জানা যায়, গত দুই মাস থেকে শুধু এই সব ঠিকা কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না। এমনকি তাদের প্রকৃত বেতন কত তাও বারবার জানতে চাইলেও জানানো হচ্ছে না বলে ঠিকাকর্মীরা এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে রয়েছে সিস নামে একটি বেসরকারী সংস্থা। কিন্তু এই ওই সংস্থার বালুরঘাটে কোনো অফিস নেই। সেকারণে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যুক্ত থাকা কর্মীরা তাদের মাসিক বেতনের কোন তথ্যই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার কাছে কর্মীরা বারবার জানতে চেয়েছেন। কিন্তু তারা কর্মীদের কোনো সদুত্তর দেন নি। এদিনের দুই ঘন্টার এই প্রতীকী আন্দোলনে সামিল রাখি সরকার সুত্রধর নামে এক ঠিকাকর্মী জানান, গত দুই মাস ধরে তাদের বেতন মিলছে না। এমনকি তাদের চাকরির কোনো তথ্যও তাদের হাতে নেই। এমনকি কোন কাজের কি বেতন কাঠামো তা নিয়েও কোনো সুষ্পষ্ট বেতন কাঠামো নেই।  অবিলম্বে তাদের বকেয়া বেতন না মেটানো হলে আগামীতে তারা আরও বড় ধরণের আন্দোলনে সামিল হবার হুশিয়ারি দেন এদিন। এদিন এই প্রতীকি ধর্মঘটের পরে গোটা ঘটনা জানিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসক, জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিককে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে ঠিকাদার কর্মিদের তরফে।

  • নির্বাচনের মুখে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় উদ্বার হল বেআইনি প্রচুর টাকা

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৯ মার্চঃ নির্বাচনের মুখে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় উদ্বার হল প্রচুর  টাকা।  সোমবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ থানার বরাহার এলাকায় বালুরঘাটগামী  একটি  গাড়ি থেকে উদ্ধার হল ২৩ লক্ষ ৮০ হাজার  টাকা।  কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ সুত্রে জানা যায়, এদিন দুপুরে বরাহার এলাকায় নাকা চেকিং পয়েন্টে প্রতিটি গাড়ির তল্লাসী চলছিল। সে সময়ে মালদা থেকে প্রাণসাগর হয়ে বালুরঘাটগামী একটি বিলাসবহুল গাড়ি থেকে ওই টাকা উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় ওই গাড়ির চালক সহ মোট ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়েই নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছায়। পুলিশি জেরায় ধৃতরা জানায়, তারা মালদা থেকে লটারির টাকা ভাঙ্গানোর পরে তা নিয়ে বালুরঘাটে ফিরছিলেন। ধৃতদের মধ্যে দুজনের বাড়ি বালুরঘাটে ও চারজনের বাড়ি গোপালগঞ্জ এলাকায়। ‌কুমারগঞ্জ থানার ওসি সুদীপ্ত দাস জানান, বরাহারে নাকা চেকিং এর সময়ে মোট ২৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। সব নোটই ২০০০ টাকা ও ৫০০ টাকার। ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। (ছবিতে‌কুমারগঞ্জ থানার ওসি সুদীপ্ত দাসের সামনে উদ্বার হওয়া টাকার প্যাকেট খুলছেন এক পুলিশ আধিকারিক এবং নীচে উদ্বার করা টাকা)  

  • দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এবারে নির্বাচনে ম্যাসকেট করা হল কুশমন্ডির হস্তশিল্প মুখা কে

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৮ মার্চঃ  কুশমন্ডির মহিশবাথানের হস্তশিল্প মুখা কে এবারে নির্বাচনে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ম্যাসকেট করা হয়েছে। সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা শাসক দীপাপ প্রিয়া পি এক সাংবাদিক সম্মেলন করে একথা জানান। মুখা শিল্পের এই মুখাকে নিয়ে তৈরী ম্যাসকেট জেলার প্রতিটি ব্লক ও জেলা প্রশাসনের দপ্তরে নতুন ভোটারদের তালিকায় নাম তোলা ও ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে জেলা নির্বাচন দপ্তরের উদ্যোগে প্রচার শুরু হল। এদিন এই ম্যাসকেটের উদ্বোধন করে জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক দীপাপ প্রিয়া পি জানান, মঙ্গলবার ও বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রতিটি বুথে এই ম্যাসকেটের মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহ বাড়ানো, নতুন ভোটারদের সচেতনতা বাড়ানো ও নির্বাচনে যে  ভিভি প্যাড ও ইভিএম ব্যবহার করা হবে তাও ভোটারদের দেখানো হবে। ভোটাররাও এই দুই দিন তাদের ভোটগ্রহন কেন্দ্রে গিয়ে তাদের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে পারবেন।

  • দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন থানার বাসুদেবপুর গ্রামে আগুনে ভষ্মীভূত বাড়ী

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৮ মার্চঃ  আগুন লেগে ভষ্মীভূত হয়ে গেল দুটি বাড়ি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন থানার ১১ নং গোফানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসুদেবপুর গ্রামে রবিবার রাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এদিন রাতে খবর পেয়েই বালুরঘাট থেকে দমকলের দুটি ইঞ্জিন সেখানে ছুটে আসে। প্রায় দুই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। যদিও ততক্ষণে ওই বাড়িতে থাকা পঞ্চাশোর্ধ গবাদি পশু জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যায়। যদিও এই ঘটনায় কেউ মারা না গেলেও একজন জখম হয়ে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জানা যায়, বাসুদেবপুরের বাসিন্দা বিশ্বনাথ খালকো  নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রাত আটটা নাগাদ বিদ্যুতের শট সার্কিটের কারণে আগুন লাগে। আগুন দেখেই ছুটে আসেন এলাকার লোকজন। স্থানীয় লোকজন নিজেরাই শুরুতে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর দেওয়া হয় দমকল দপ্তরে। খবর পেয়ে বালুরঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার বাসুদেবপুরে দমকলের দুটি ইঞ্জিন পৌঁছায়। যদিও ততক্ষণে ওই দুই বাড়িতে থাকা প্রায় ৪৫ টি ছাগল ও বেশ কয়েকটি গরু আগুনে পুড়ে মারা যায়। রাতে খবর পেয়ে এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা জানান, দুর্ঘটনাগ্রস্থ ওই পরিবার দুটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।  

  • বালুরঘাট অভিযাত্রী শিশু বিদ্যা নিকেতনের রজতজয়ন্তী বর্ষ উদযাপন

    বালুরঘাট, ১৬ মার্চ , সরোজ কুন্ডু :  বালুরঘাট  অভিযাত্রী শিশু বিদ্যা নিকেতনের পরিচালনায় মহাসমারোহে  পালিত হলো রজতজয়ন্তী বর্ষ ।  আজ থেকে ২৫ বছর আগে আজকের দিনই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার প্রান্তিক শহর বালুরঘাটে ১৯৯৫ সালে অভিযাত্রী ক্লাব এন্ড লাইব্রেরী উদ্দোগে গড়ে ওঠে এই শিশু বিদ্যানিকেতন । পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে আজকের এই রজত জয়ন্তী বর্ষের শুভ শূচণা হয় । পতাকা উত্তোলন করেন অভিযাত্রী শিশু বিদ্যা নিকেতনের সম্পাদক সুমিত চক্রব্রতী । অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাট ললিত মোহন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ মুখার্জী ও বালুরঘাট অভিযাত্রী ক্লাব এর প্রাক্তন  সম্পাদক বিপ্লব দেব,  শান্তনু বোস , কল্যাণ দত্ত সহ অন্যান্য ক্লাব সদস্য ও   বিশিস্ট জনেরা । পতাকা উত্তোলনের পর বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিশুদের নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বালুরঘাট  শহর পরিক্রমা করে এবং শোভাযাত্রায় পরিবেশ স্঵স্থ্য    ও শিক্ষা বিষয়ক দুটি ট্যাবলো সহ বিদ্যালয়ের শিশুরা শহরের দুটি জায়গায় পথনৃত্য  পরিবেশন করে এবং বালুরঘাট বাসির কাছে খুব  প্রশংসীত হয় ।

  • বালুরঘাট সংশোধনাগার থেকে ২১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার,নিরাপত্তার দাবীতে অনশণে বন্দীরা

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ১৩ মার্চ:  বালুরঘাট সংশোধনাগারের বিভিন্ন স্থানে নিজেদের মোবাইলগুলি লুকিয়ে রেখে সেখান থেকেই চালাত বাইরের জগতের সঙ্গে নেটওয়ার্ক। বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে এক হাজার বন্দী রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকজন দাগী আসামী।  সংশোধনাগারের তল্লাসীর সময়ে ভেতরে রাখা ২১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল।  রায়গঞ্জের বাসিন্দা মহঃ আলমগীর নামে এক বন্দীর কাছ থেকেও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে। বাকিরা অন্যত্র লুকিয়ে রেখেছিল সেগুলি। মহঃ আলঙ্গীর কাছ থেকে উদ্ধারের পরে তা নিয়ে বালুরঘাট থানায় অভিযোগ জানানোর পরেই বালুরঘাটের বন্দীরা অনশনে বসে। মঙ্গলবার দিনভর অনশন চালায় সংশোধনাগারের বন্দীরা। পরে সংশোধনাগারের জেলরের সঙ্গে কথা বলার পরে বুধবার বিকালে অনশন প্রত্যাহার করে নেয় বন্দীরা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই বালুরঘাটের এই কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে সংশোধনাগারের তরফে নিরাপত্তার জন্য ২০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েম করা হয়েছে। এছাড়াও সংশোধনাগারের ভেতরে তল্লাসীর জন্য ১৪ জনের একটি বিশেষ দল তৈরী করা হয়েছে বলে জানা যায়। যারা নিয়মিত তল্লাসী চালাবেন এই সংশোধনাগারে। বর্তমানে বালুরঘাটের এই সংশোধনাগারে রয়েছেন বাংলাদেশি সহ প্রায় এক হাজার বন্দী। যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কুখ্যাত অপরাধী রয়েছেন। সংশোধনাগার সুত্রে জানা যায়, এই সব দাগী অপরাধীদের জন্য বালুরঘাটের এই কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে উঁচু পাঁচিল রয়েছে। তবুও এই পাঁচিলের ভেতরেই তাদের লোকজন মোবাইল ছুঁড়ে ফেলে দেয়। যা দিয়েই তারা বাইরের লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। এই সব দাগী অপরাধীরা এই সব মোবাইলগুলি বাইরেই গোপন জায়গায় রেখে দিতেন। রায়গঞ্জের বাসিন্দা মহঃ আলমগীর নামে এক বন্দীর কাছ থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। এরপরেই জেলার বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার পরেই তিনি জানতে পারেন যে বর্তমানে সাজার মেয়াদ ফুরালোও সংশোধনগারে মোবাইল ব্যবহারের জন্য ফের জেল হেফাজতে থাকতে হবে। এরপরেই সংশোধনাগারের সকল বন্দীরা একজোট হয়ে অনশন শুরু করেন। জেলার শ্যামল তালুকদার জানান, এই সব মোবাইল পাবার ঘটনা পাঁচিলের বাইরে থেকে ভেতরে মোবাইল ছুঁড়ে দেবার কারণেই ঘটেছে। যাতে এই ঘটনা আর না ঘটে সেজন্য বালুরঘাট সংশোধনাগারের পাঁচিলের চারপাশে মোট ২০ জন সিভিক ভলান্টিয়ার নজরদারীর জন্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়াও ভেতরে নজরদারীর জন্য ১৪ জনের একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা ভেতরে নিয়মিত তল্লাসী চালাবেন। বালুরঘাট কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সুপারিনটেন্ডেন্ট দরজি ভুটিয়া জানান, আবাসিকরা অনশন করলেও তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে  সমস্যা মেটানো হয়েছে। তবে ভেতরে আর কোনো মোবাইল রয়েছে কিনা তা দেখতে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সুপারিনটেন্ডেন্ট জানান।

  • পড়া না পারায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ঝাঁড়ু দিয়ে মারার অভিযোগ।

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২৩ ফেব্রুয়ারিঃ পড়া না পারায় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পেটানোর অভিযোগ উঠল বাংলা বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষকের এই আচরণের প্রতিবাদে  শনিবার অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে ক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের বরকইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনা। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম বিশ্বজিৎ মন্ডল। মালদা জেলার বাসিন্দা ওই শিক্ষক কয়েকমাস আগে বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষক পদে যোগ দেন বলে স্থানীয় অভিভাবকরা জানান। পড়া বলতে না পারায় শুক্রবার ঝাঁড়ু দিয়ে মারেন বিদ্যালয়ের ৫ ছাত্রীকে।  ঠাকুরপুরার বাসিন্দা অজয় সরকার নামে এক অভিভাবক জানান, শুক্রবার  শিক্ষক বিশ্বজিৎ মন্ডল ছাত্রীদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলেন। উত্তর দিতে না পারায়  ঝাঁড়ু দিয়ে মারধোর করেন ৫ ছাত্রীকে। এতে জখম হয় সোনালী সরকার নামে এক ছাত্রী। তার হাতে আঘাত লাগে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই শনিবার সকালে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে এসে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরাঙ্গ দাস জানান, ছাত্রীদের মারধোরের কথা জেনেছেন। যদিও ঘটনার সময়ে তিনি বিদ্যালয়ে হাজির ছিলেন না। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিদ্যালয়  পরিদর্শকের অফিসে ছিলেন। রাতে বাড়ি ফিরেই তিনি জখম ছাত্রী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধান শিক্ষক জানান, পড়া না পারায় ছাত্রীদের পেটান ওই শিক্ষক। যদিও এই ঘটনাকে সমর্থন না করে তিনি ওই শিক্ষকের সঙ্গেও কথা বলেছেন। অভিযুক্ত ওই শিক্ষক ছাত্রীদের ও তাদের অভিভাবকদের কাছে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক। (ছবিতে বিদ্যালয়ের সামনে অভিবাবকদের জমায়েত)

  • খাঁড়ি থেকে সরকারী অর্থে কাটা মাটি ইঁটভাটায় বিক্রি করে দেবার অভিযোগ

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২২ ফেব্রুয়ারিঃ খাঁড়ি থেকে সরকারী অর্থে কাটা মাটি ইঁটভাটায় বিক্রি করে দেবার অভিযোগ উঠল। অভিযোগের পরেই ঘটনার তদন্তে নেমে বালুরঘাট থানার পুলিশ মাটি সহ দুটি ট্রাক্টর আটক করে বালুরঘাট থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার দুপুরে বালুরঘাটের ডাঙ্গা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।  জানা যায়, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর বালুরঘাট শহরের আত্রেয়ী নদীর সংযোগকারী ডাঙ্গা খাঁড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করেছে দুদিন আগে থেকে। আত্রেয়ী নদী থেকে বালুরঘাট ব্লকের জঙ্গলপুর পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার এই খাঁড়ির সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই ৮ কোটি টাকা বরাব্দ করা হয়েছে দপ্তরের তরফে। জেলা সেচ দপ্তরের তত্বাবধানে এই কাজে খাঁড়ি থেকে যে মাটি তোলা হবে তা খাঁড়ির দুপাড় উঁচু ও চওড়া করার পাশাপাশি অতিরিক্ত মাটি সরকারী কাজে ব্যবহার করা হবে। সেইমতো কাজ শুরুর পরেই স্থানীয় লোকজন দেখতে পান, যে পরিমান মাটি তোলা হচ্ছে খাঁড়ি থেকে তার বেশিরভাগই এক ঠিকাদারের মাধ্যমে স্থানীয় এক ইঁটভাটায় পাঠানো হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে এলাকার লোকজনই বাধা দেন। এরপরেই এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য বালুরঘাট থানায় ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরেই পুলিশ সেখানে এসে হাতেনাতে দুই ট্রাক্টর ধরে ফেলে। ট্রাক্টরদুটিকে মাটি সমেত সেখান থেকে আটক করে বালুরঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

  • তেভাগা আন্দোলনের খাঁপুরের শহীদ কৃষকদের আত্মবলিদান দিবস উদযাপন

    অজয় সরকার, বালুরঘাট, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ তেভাগা আন্দোলনে যোগ দিয়ে বালুরঘাট থানার খাঁপুরের শহীদ কৃষকদের আত্মবলিদান দিবসে জেলার সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি অনুষ্ঠানে যোগ দিল। এ উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছিল এদিন খাঁপুরে।  ৪৭ সালের আজকের দিনে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে তেভাগা আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন খাঁপুরের ২২ জন কৃষক। কিন্তু শহীদ এই সব পরিবারের হাল ফেরেনি আজও। সরকারী সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই সব পরিবারগুলি। যদিও প্রতিবছরই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করা হয় বছরের এই দিনটিতে। নিজেদের রক্তে বোনা ধানের তিন ভাগের দাবিতে এই আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। এলাকার কৃষকরা খাঁপুরের জমিদার ও ব্রিটিশ পুলিশের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কৃষকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমানোর জন্য শেষমেশ পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। এই ঘটনায় এলাকার তরতাজা ২২ জন যুবক-‌যুবতী প্রাণ হারিয়েছিল। স্বাধীনতার পরেও দীর্ঘদিন ব্রাত্য  ছিল এই এলাকা। যদিও পরে খাঁপুরের শহীদদের স্মৃতিতে সেখানে একটি শহীদ বেদি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই ফলকের প্রথমেই রয়েছে শহীদ যশোদা রানী সরকারের নাম। যশোদা রানী সরকারের ছেলে ৯৪ বছরের বৃদ্ধ দেবেন্দ্র নাথ সরকার জানান, তিনি কোনোরকম সরকারী সাহায্য পান না। অতিকষ্ট দিন কাটে তার। শহীদ ভাদু বর্মনের ছেলে অধীন বর্মন নিজে এখন অন্যের জমিতে চাষাবাদ করে দিনযাপন করেন। খাঁপুরের বাসিন্দা অধীর বর্মন ও তাঁর স্ত্রী বীনা বর্মন জানান, তাদের পরিবারের দুজন তেভাগা আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু কোনরকম সরকারী সাহায্যই মেলেনা। ফলে অন্যের জমিতে দিনমজুরি করে দিনযাপন করতে হয় তাদের। যাদের আন্দোলনের ফলে আজ দেশ স্বাধীন হয়েছে, যাদের লড়াই এর ফলে কৃষকরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছে আজ সেই সব শহীদদের পরিবারই ব্রাত্য। সরকারের তাদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার লোকজন।