মার্কেট ফর ইউ

  • ওকিনাওয়া স্কুটারের নতুন প্রথম শো রুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

    কলকাতা,রাজকুমার দাস:সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার বুকে "ওকিনাওয়া স্কুটার"এর প্রথম শো রুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেল অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের হাত ধরে।ভারতে দ্রুততম গ্রোউইং ইলেক্ট্রিক টু উইলার ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানী র এই ধরনের দু চাকা যান চলাচলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে জানান সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর শ্রী জিতেন্দ্র শর্মা।কোম্পানীর যুগ্ম পার্টনার শ্রী অনীল আগারওয়াল ও শ্রী ঋষি শর্মা জানান কোম্পানী২০১৭সালে দুটো স্কুটার "RIDGE"ও"PRAISE" দুটো লঞ্চ করা হয়।ঘন্টায় ৫৫-৭৫কিমি মাইলেজ নিয়ে এই স্কুটি রাস্তায় দৌঁড়াবে।এদিন স্থানীয় ৭০নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্রী অসীম বসু ও উপস্থিত ছিলেন।

  • গ্রাম বাংলায় ছাগল পালন লাভজনক ব্যবসা,

    জিৎ বর্মন:আর কতদিন বেকারত্ব জীবন কাটাবেন ছাগল চাষ করুন এবং নিজে স্বনির্ভর হন ছাগল পালন পরিকল্পনা ও আনুমানিক আয়-ব্যয় হিসাব ছাগল পালনের পূর্বে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভালভাবে জানা প্রয়োজনঃ ক) ছাগল পালনের ও খামার স্থাপনের গুরুত্ব। খ) ছাগলের জাত সম্পর্কে ধারণা। গ) খামারের জায়গা নির্বাচন এবং ছাগলের বাসস্থান। ঘ) স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা। ঙ) ছাগলের খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা। চ) ছাগলের রোগ সমূহের, প্রতিকার ও নিয়ন্ত্রণ। ছ) ৫ টি ছাগলের খামারের বিভিন্ন খরচ ও নীট মুনাফার হিসাব। ছাগল পালনের গুরুত্বঃ ১. দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ছাগলের গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয় অর্থনীতিতে ছাগলের গুরুত্ব উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২. দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বল্প পূঁজি বিনিয়োগ করে ছাগল পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে। ৩. ছাগল পালন ভূমিহীন কৃষক, দুস্থ মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য উপায়। ৪. ছাগলের মাংস উন্নতমানের প্রাণীজ আমিষের উৎস। ছাগলের দুধ সহজে হজম হয়। ৫. আদিকাল থেকে গ্রাম বাংলার মহিলারা বাড়তি আয়ের উৎস হিসাবে ছাগল পালন করে আসছে। ৬. ছাগলের চামড়া উন্নতমানের যা রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। ৭. অন্যান্য শিল্পের উপকরণ হিসাবে উপজাতের ব্যবহার- শিং দাঁত, খুর ও হাড় থেকে জিলাটিন আঠা, গহনা, চিরুনি, বোতাম, ছাতা ও ছুরির বাট, প্রভৃতি তৈরি করা যায়। ৮. রক্ত সংগ্রহ করে শুকিয়ে হাঁস- মুরগী ও প্রাণীর খাদ্য তৈরি করা যায়। ৯. ক্ষুদ্দ্রান্ত্র থেকে সারজিক্যাল সুতো ,টেনিস, রেকেট স্ট্রিং, মিউজিক্যাল স্ট্রিং প্রভৃতি তৈরি করা যায়। ছাগলের খামার ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম সূচিঃ ছাগলের খামার ব্যবস্থাপনা হলো খামারের প্রাণ। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা খামারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের পথ সুগম ও ত্বরান্বিত করে এবং খামারের সম্পদ, সুযোগ ও সময়ের সঠিকভাবে সমন্বয় ঘটানো যায়। আর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা বলতে বুঝায়ঃ- ১ সম্পদের যথাযথ ব্যবহার (২) শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার (৩) শ্রমের সর্বনিম্ন অপচয় (৪) অল্প সময়ে অধিক ফল লাভ (৫) কম খরচ ও সময়ে অধিক উৎপাদন (৬) গুনগতমানের উৎপাদন (৭) সঠিক পরিকল্পনা। দৈনিক কার্যক্রম সূচিঃ ক) সকাল ৭-৯ টা • ছাগলের সার্বিক অবস্থা ও আচরণ পরীক্ষা করতে হবে। • পানির পাত্র/ খাবার পাত্র পরিষ্কার করা এবং পাত্রে খাবার ও পানি সরবরাহ করতে হবে। • খাবার দেবার পর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আচরণ পরীক্ষা করতে হবে। • ছাগল সকালে বের করার পর ছগলের ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। খ) সকাল ১১-১২ টা • খাবার ও পানি সরবরাহ করতে হবে। গ) বিকাল ৪-৫ টা • খাদ্য ও পানি সরবরাহ করতে হবে। • দরজা বন্ধ করতে হবে। • আচরণ পরীক্ষা করতে হবে। সাপ্তাহিক কাজ • খাদ্য তৈরি করতে হবে। • ঘর জীবাণুনাশক পানি দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। • প্রয়োজনে টিকা প্রদান বা কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে। ছাগল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিবেচ্য গুণাবলীঃ ছাগীর ক্ষেত্রেঃ • নির্বাচিত ছাগী হবে অধিক উৎপাদনশীল বংশের ও আকারে বড়। • নয় বা বার মাস বয়সের ছাগী (গর্ভবতী হলেও কোনো সমস্যা নেই) কিনতে হবে। • ছাগীর পেট তুলনামূলকভাবে বড়, পাজরের হাড়, চওড়া, প্রসারিত ও দুই হাড়ের মাঝখানে কমপক্ষে এক আঙ্গুল ফাঁকা জায়গা থাকতে হবে। • নির্বাচিত ছাগীর ওলান সুগঠিত ও বাঁট সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। পাঠাঁর ক্ষেত্রেঃ • পাঠাঁর বয়স ১২ মাসের মধ্যে হতে হবে, অন্ডকোষের আকার বড় এবং সুগঠিত হতে হবে। • পিছনের পা সুঠাম ও শক্তিশালী হতে হবে। • পাঠাঁর মা, দাদী বা নানীর বিস্তারিত তথ্যাদি (অর্থাৎ তারা বছরে ২ বার বাচ্চা দিত কীনা, প্রতিবারে একটির বেশি বাচ্চা হতো কীনা, দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ইত্যাদি গুণাবলী) সন্তোষজনক বিবেচিত হলেই ক্রয়ের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। বয়স নির্ণয়ঃ ছাগলের দাঁত দেখে বয়স নির্ধারণ করতে হয়। বয়স ১২ মাসের নিচে হলে দুধের সবগুলোর দাঁত থাকবে, ১২-১৫ মাসের নিচে বয়স হলে স্থায়ী দাঁত এবং ৩৭ মাসের ঊর্ধ্বে বয়স হলে ৪ জোড়া স্থায়ী দাঁত থাকবে। ছাগলের জাত সম্পর্কে ধারণাঃ (১) যমুনা পাড়ী জাতের ছাগলের বৈশিষ্ট্যঃ ভারতের এটোয়া জেলায় যমুনা পাড়ী ছাগলের উৎপত্তি। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ জাতের ছাগল পাওয়া যায়। এদের শরীরের রং সাদা, কালো, হলুদ বাদামী বা বিভিন্ন রঙয়ের সংমিশ্রণে হতে পারে। কান লম্বা ঝুলানো ও বাঁকা। পা খুব লম্বা এবং পিছনের পায়ের পেছন দিকে লম্বা লোম আছে। এরা অত্যন্তও কষ্ট সহিষ্ণু ও চঞ্চল। একটি পূর্ণ বয়স্ক পাঁঠার ওজন ৬০-৯০ কেজি এবং ছাগীর ওজন ৪০-৬০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। দৈনিক দুধ উৎপাদন ৩-৪ লিটার। (২) ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের বৈশিষ্ট্যঃ এটিই বাংলাদেশের একমাত্র জাত। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিম বঙ্গ ও আসামে এ জাতের ছাগলের দেখা যায়। সাধারণত বৈশিষ্ট্যঃ গায়ের রং কালো তবে সাদা, সাদা কালো, খয়েরি কালো, খয়েরি ইত্যাদি হতে পারে। শরীরের আকার ছোট। গায়ের লোম মসৃণ ও ছোট। এদের কান ও শিং ছোট এবং ছাগীর তুলনায় পাঁঠার শিং তুলনামূলক বড়। দুধ উৎপাদনঃ সাধারণত এ জাতের ছাগী দৈনিক ২০০-৩০০ মি. লি. দুধ দেয়, তবে উপযুক্ত খাদ্য ও উন্নত ব্যবস্থাপনায় ছাগী দৈনিক ১.০০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে। এদের দুগ্ধ প্রদানকালে সাধারণত ২-৩ মাস। মাংস উৎপাদনঃ ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের ড্রেসিং হার শতকরা ৪৫-৪৭ ভাগ। কিন্তু খাদ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য মাংসের পরিমাণ মোট ওজনের প্রায় ৫৫ ভাগ। এই জাতের ছগলের মাংস অত্যন্তও সুস্বাদু। বাচ্চা উৎপাদনঃ সাধারণত ১২-১৫ মাস বয়সেই ছাগী প্রথম বাচ্চা দেয় প্রথমবার শতকরা ৮০ ভাগ ছাগী ১ টি করে বাচ্চা দেয়। তবে দ্বিতীয়বার থেকে অধিকাংশ ছাগী ২ টি করে বাচ্চা দিয়ে থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে ৩/৪ টি করে বাচ্চা পাওয়া যায়। এ জাতের চামড়া বেশ উন্নত ও বিশ্বখ্যাত। খামারের জায়গা নির্বাচন / অবস্থান ও বাসস্থানঃ • জায়গা উঁচু হতে হবে, যেন বৃষ্টির পানি না জমে। আরোও পড়ুন  উন্নত গুনাগুনসম্পন্ন ছাগল নির্বাচন কৌশল • প্রধান সড়ক হতে দূরে তবে যোগাযোগ ব্যবসস্থা ভাল হতে হবে। • খোলামেলা পরিবেশ হতে হবে। • কাকাড় ও বালি মিশ্রিত স্থান যেখানে পানি সহজে শুকিয়ে যায়। • পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে। • ঘনবসতি এলাকা এবং শহর হতে দূরে হতে হবে। • পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যবস্থা ভাল হতে হবে। • শ্রমিক মজুরী কম ও জায়গার সহজলভ্য এলাকা নির্বাচন করা উত্তম। • পর্যাপ্ত ফলের গাছ ও চারণ ভূমি আশেপাশে থাকতে হতে। ছাগলের বাসস্থানঃ ছাগলের রাত্রিযাপন, নিরাপত্তা, ঝড়বৃষ্টি, রোদ, বন্যপ্রাণী ইত্যাদির কবল থেকে বাঁচার জন্য বাসস্থান প্রয়োজন রয়েছে। পারিবারিক পর্যায়ে ছাগল পালনের ক্ষেত্রে আলাদা বাসস্থান ব্যবস্থা তেমন দেখা যায় না। তবে এক সঙ্গে অনেক ছাগল পালনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানসন্মত বাসস্থান করা প্রয়োজন হয়। পূর্ব- পশ্চিম লম্বা-লম্বি করে দক্ষিন দিকে খোলা উন্মুক্ত স্থানে ছাগলের ঘর নির্মাণ করতে হবে। অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে ঘর নির্মাণ করা উচিৎ, যাতে পানি নিষ্কাশনে কোন জটিলতা দেখা না দেয়। বসবাসের ঘর সংলগ্ন বা অন্য কোন উচুস্থানে ও খড়/ ছন/ চাটাই/ টিন প্রভৃতি দিয়ে প্রতি ছাগলের জন্য ৫-৬ বর্গফুট করে স্থান দিয়ে ছাগলের বাসস্থান তৈরি করা যায়। ছাগল উঁচু জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। ঘরের ভিতর মাচা করে দিতে হবে। মাচার উচ্চতা মেঝে থেকে ২.৫-৩ ফুট। মাচা থেকে ছাদের উচ্চতা ৫-৬ ফুট। মাটির মেঝে হতে পর্যাপ্ত বালি দিতে হবে যাতে ঘর শুষ্ক থাকে। মাচা থেকে উপরের অংশ জি.আই/ বাঁশের নেট প্রস্তুত করে আবৃত করতে হবে। বৃষ্টির ছাট যেন ঘরে ঢুকতে না পারে সে জন্য ঘরের চাল ১-২ ফুট বাড়িয়ে ঝুলিয়ে দিতে হবে। শীতকালে মাচার উপর ৪-৫ ইঞ্চি পুরু করে খড় বিছিয়ে দিতে হবে এবং মাচার উপরের খোলা অংশ চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ঘরের পরিচর্যা ও জীবাণুমুক্ত করণ পদ্ধতিঃ • ছাগল সকালে বের করার পর ছাগলের ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করেত হবে। • ছাগলের ঘর স্যাঁতস্যাঁতে মুক্ত রাখতে হবে । আলো, বাতাস ও বায়ু চলাচল সুব্যবস্থা রাখতে হবে। • বৃষ্টির পানি ও ঠাণ্ডা দুটোই ছাগলের জন্য ক্ষতিকর, তাই এ দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। • সপ্তাহে একদিন ছাগলের ঘর জীবাণুনাশক মিশ্রিত পানি দিয়ে ভালমতো পরিষ্কার করতে হবে। ছাগল ঘরের প্রকৃতি এবং লালন পালন পদ্ধতিঃ ছগল ঘরের প্রকৃতিঃ ছাগল পালনের জন্য বিভিন্ন ধরণের ঘর রয়েছে। তবে সাধারণত দুই ধরণের ঘর দেখা যায়- ভূমীর উপর স্থাপিত ঘরঃ এ ধরণের ঘরের মেঝে কাঁচা অথবা পাকা হতে পারে। সাধারণত কৃষকেরা এ ধরণের ঘরে ছাগল পালন করে থাকে। এ ধরণের ঘরের মেঝেতে শুকনো খড় বিছিয়ে ঘর সব সময় পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে। মাচার উপর স্থাপিত ঘরঃ এ ধরণের ঘর মাটি থেকে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় খুঁটির উপর স্থাপিত হয়। ঘরের মেঝে বাঁশ বা কাঠ দিয়ে মাচার মত তৈরি করা হয়। এ ধরণের ঘর স্বাস্থ্যসন্মত এবং পরিষ্কার করা সহজ। দু’ধরণের ঘরই একচালা, দো- চালা বা চৌচালা হতে পারে এবং ছাগলের সংখ্যার উপর ছোট ও বড় হতে পারে। লালন-পালন পদ্ধতিঃ • প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে ছাগল বের করে ঘরের আশেপাশে চরতে দিতে হবে। • এদেরকে ব্যায়াম ও গায়ে সূর্য কিরণ লাগানোর পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। • ঘর থেকে ছাগল বের করার পর ভাল করে ধুতে হবে। • ঘর থেকে ছাগল বের করার আগে কোন ছাগল অসুস্থ আছে কিনা লক্ষ্য রাখতে হবে। কোন ছাগলের মধ্যে অসুস্ততার লক্ষন দেখা দিলে তা সাথে সাথে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। • খামারে বেশি ছাগল হলে তাঁদের চিহ্নিত করার জন্য ট্যাগ নম্বর লাগাতে হবে। • ছাগলকে নিয়মিত সুষম খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। • ছাগল পানি পছন্দ করে না তাই নিয়মিত গোসলের পরিবর্তে ব্রাশ দিয়ে দেহ পরিষ্কার রাখতে হবে। এতে লোমের ময়লা বের হয়ে আসে, রক্ত সঞ্চলন বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ব্রাশ করালে লোম উজ্জ্বল দেখায় এবং চামড়ার মান বৃদ্ধি পায়। • সকল বয়সের ছাগলকে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে এবং নিয়মিত টিকা প্রদান করতে হবে। ঘরে ছাগলের জায়গার পরিমাণঃ ছাগলের প্রকৃতি —————– প্রয়োজনীয় জায়গার পরিমাণ বাচ্চা ছাগল ——————— ০.৩ বর্গমিটার। পূর্ণ বয়স্ক ছাগল —————– ১.৫ বর্গমিটার। গর্ভবর্তী ছাগল ——————- ১.৯ বর্গমিটার। পাঁঠা —————————- ২.৮ বর্গমিটার। ছাগলের বাচ্চার যত্ন ও বাচ্চা পালন পদ্ধতিঃ ছাগলের বাচ্চার যত্ন ও পালনঃ নবজাত বাচ্চা ছাগলের সঠিক যত্নর উপরই এদের বেড়ে ওঠা ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। নবজাতক বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে না বলে এরা অত্যন্ত রোগ সংবেদনশীল হয় এমতাবস্থায় সমান যত্নের অভাবে বাচ্চার মৃত্যু হয়। নবজাত বাচ্চা ছাগলের যত্নঃ • বাচ্চার শ্বাস প্রশ্বাস চালু করা এবং বাচ্চার শরীর পরিষ্কার করা ও শুকানো। • বাচ্চার নাভি রজ্জু পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত কাঁচি দিয়ে কেটে দিতে হবে। • নাভি কাটার পর উক্ত স্থানে টিংচার আয়োডিন বা টিংচার বেনজীন জীবাণুনাশক ওষুধ লাগাতে হবে। • বাচ্চাকে শাল দুধ বা কলস্ট্রাম পান করাতে হবে। বাচ্চা পালন পদ্ধতিঃ দুটো পদ্ধতিতে ছাগলের বাচ্চা পালন করা হয়। যথা- (১) প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে মায়ের সঙ্গে ও (২) কৃতিম পদ্ধতিতে মা বিহীন অবস্থায় পালন। প্রতিটি পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে তবে এদের প্রাকৃতিক পদ্ধতিটি প্রচলিত। সাধারণত দু’ সপ্তাহ বয়স থেকেই বাচ্চারা কাঁচা ঘাস বা লতাপাতা খেতে শুরু করে। তাই এদের নাগালের মধ্যে কচি ঘাস, লতা পাতা এবং দানাদার খাদ্য রাখতে হয়। সময় বাচ্চাদের জন্য প্রচুর উন্মুক্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। গ্রীষ্মকালে দিনের বেলা গাছের নিচে বেড়া দিয়ে বাচ্চা পালন করা যায়। এতে এরা একদিকে পর্যাপ্ত ছায়া পেতে পারে। অন্যদিকে দৌড়াদৌড়ি এবং ব্যায়াম করার প্রচুর সুযোগ পায়, যা তাঁদের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন । আরোও পড়ুন  আধুনিকভাবে টার্কি পালন পদ্ধতি প্রতিটি বাচ্চা ছাগলকে জন্মের প্রথম সপ্তাহে দৈনিক ৩০০-৩২৫ মি. লি. দুধ ৩-৪ বারে পান করাতে হবে ধীরে ধীরে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ৬-৭ সপ্তাহে তা ৭৫০-৮৫০ মি. লি. দুধ কিভাবে পাবে? এ উন্নীত করতে হবে। দুধের বিকল্প খাদ্য ৩ সপ্তাহ বয়সের পর খেতে দেয়া যেতে পারে। ১০-১১ সপ্তাহে দৈনিক দুধ সবরাহের পরিমাণ ২০০-১০০ মি.লি. নামিয়ে আনতে হবে। এ সময় দৈনিক ১০০-১৫০ গ্রাম দানাদার খাদ্য ও প্রচুর কচি ঘাস, লতাপাতা সরবরাহ করতে হবে। ৩-৪ মাস বয়সে দুধ পান করানো পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ এ সময় শক্ত খাদ্যদ্রব্য খাওয়ার জন্য বাচ্চার পাকস্থলী পুরোপুরিভাবে তৈরি হয়ে যায়। শরৎ ও হেমন্তকালে ছাগলের মৃত্যুরহার অত্তাধিক বেশি থাকে এ সময় কৃমির আক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাছাড়া নিউমোনিয়া এবং এন্টারোটক্সিমিয়া ব্যাপক হারে দেখা দিতে পারে। তাই এ সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। ছাগলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাঃ • খামারের চারিদিকে বেড়া বা বেষ্টনী দিতে হবে। • খামারের প্রবেশ গেটে জীবাণুমুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা বা ফুটবাথ থাকতে হবে। • বাইরের লোককে যখন তখন খামারে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। • ইঁদুর, বন্যপ্রাণী – পাখি ও পোকা -মাকড় নিয়ন্ত্রন করতে হবে। • ছাগলকে প্রতিদিন পরিমাণমত সুষম খাবার সরবরাহ করতে হবে। ময়লাযুক্ত পচা বা বাসি খাবার খাওয়ানো ও যাবে না। • খাদ্য গুদাম আলো বাতাস ও বায়ু চলাচলযুক্ত হতে হবে এবং শুষ্ক ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। • গরমকালে মিশ্রিত সুষম খাদ্য ৭ দিনের বেশি সংরক্ষণ করা যাবে না। • খামারে নতুন ছাগল সংগ্রহের সময় অবশ্যই রোগমুক্ত ছাগল ক্রয় করতে হবে। • খামারে নিয়মিত টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। • ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়াতে হবে। • ছাগলের ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিদিন খাদ্য ও পানির পাত্র পরিষ্কার করতে হবে। • সপ্তাহে একদিন ছাগলের ঘর, খাবার ও পানির পাত্র জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। • সকল ছাগলকে বছরে ৫-৬ বার ০.৫% ম্যালাথিনয়ন দ্রবণে ডুবিয়ে চর্মরোগ মুক্ত রাখতে হবে। • প্রজননশীল পাঁঠা ও ছাগিকে বছরে দু,বার ১-১.৫ মি. লি. ভিটামিন এ. ডি. ই. ইনজেকশন দিতে হবে। • ছাগল মারা গেলে খামার থেকে দূরে কোথাও মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে অথবা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ছাগলের খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনাঃ বাচ্চা ছাগলের খাদ্যঃ ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল সাধারণত একাধিক বাচ্চা প্রসব করে থাকে। তাই সব গুলো বাচ্চা যেন সমানভাবে প্রয়োজন মত দুধ খেতে পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঠিকমত খেয়াল না করলে সবল বাচ্চাগুলো দুধ ইচ্ছামত খেয়ে ফেলে এজন্য দেখা যায় দুর্বল বাচ্চাগুলো দুধ খেতে না পেয়ে অপুষ্টিতে ভুগে অকালে মারা যায়। এজন্য বাচ্চাদেরকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে খুব সজাগ থাকতে হবে। দুধ ছাড়ানোর আগে ও পরে বাচ্চার খাদ্যঃ দানাদার খাদ্য মিশ্রণের নমুনাঃ চালভাঙ্গা- ২৫%+ খেসারিভাংগা-২৫%+ গমের ভুষি -২৫%+ সয়াবিন খৈল- ১৬%+ প্রোটিন কনসেন্টেট – ২%+ সয়াবিন তেল-১%+ চিটাগুড়-৪%+ এবং লবন-১%+ ভিটামিন- মিনারেল প্রিমিক্স-০.৫%+ ডি. সি. পি- ০.৫%। বাড়ন্ত বয়সের ছাগলের খাদ্যঃ মায়ের দুধ ছাড়ার পর বাচ্চার খাদ্যর অবস্থা খুব জটিল পর্যায়ে থাকে। যেহেতু এ সময় মায়ের দুধ পায় না আবার সময়টি ও বাড়ন্ত; তাই খাদ্য ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হয়। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বেলায় ৪-১৪ মাস বয়সকে বাড়ন্ত সময় বলা হয়। যে সব ছাগলকে মাংস বা বাচ্চা উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হবে তাঁদের পুষ্টি বা খাদ্যর দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। জন্মের ২য় সপ্তাহ থেকে ছাগলকে ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে দানাদার খাদ্য অভ্যাস করতে হবে। গর্ভবর্তী ছাগীর গর্ভের শেষ দুই মাসের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও খাদ্য তালিকাঃ গর্ভবর্তী ছাগীর পর্যাপ্ত খাদ্য দিতে হয়। তা না দিলে বাচ্চা দুর্বল হয় এমনকি মৃত্যু বাচ্চা প্রসব করার আশংকা থাকে। ছাগলের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়। মায়ের দুধ উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায় এবং পূর্ণরায় গর্ভধারণ করতে দেরি হয়। তাই ছাগল গর্ভবর্তী অবস্থায় খাদ্যর দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। দানাদার খাদ্য মিশ্রণের নমুনাঃ ভুট্টা ভাঙ্গা- ৩৫% + গমের ভুষি- ২৫%+ খেসারীর ভুসি-১৬%+ সয়াবিন খৈল- ২০%+ ফিস মিল- ১.৫%+ ডি.সি.পি-১.৪%+ লবন-১%+ ভিটামিন মিনারেল-০.১%। দুগ্ধবতী ছাগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ বাচ্চা মায়ের দুধের উপর নির্ভরশীল থাকে। তাই বাচ্চার দুধের চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে দুগ্ধবতী ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থার দিকে বিশেষ যত্নবান হতে হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ ছাগলের ছানাই ছোট বেলায় মায়ের দুধের অভাবে মারা যায়। ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল দুধ কম দিলেও যদি খাদ্য ব্যবস্থা ঠিক থাকে তবে বাচ্চার দুধের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হয়। ভাল ব্যবস্থাপনায় ছাগী ২-৩ টি বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর পর ০.৫-১.০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে। খাদ্য মিশ্রণের নমুনাঃ ভুট্টা ভাঙ্গা- ৩৫% + গমের ভুষি- ২৫%+ খেসারীর ভুসি-১৬%+ সয়াবিন খৈল- ২০%+ ফিস মিল- ১.৫%+ ডি.সি.পি-১.৪%+ লবন-১%+ ভিটামিন মিনারেল-০.১%। খাসীর খাদ্য ব্যবস্থাঃ ছাগল পালনকারীদের কাছে খাসীর গুরুত্ব অপরিসীম। খাসী প্রথম দিকে থেকেই যদি প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেলে বৃদ্ধি ও শরীর গঠন ব্যাহত হয়। ফলে ক্রেতা সাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ও ব্যর্থ হয়। এজন্য ছাগল পালনের মূল উদ্দেশ্যটিই ব্যর্থ হয়ে যায়। দুধ ছাড়ানোর পর খাসী ছাগলকে পরিমাণমত খাদ্য খাওয়ালে গড়ে দৈনিক ৫০-৬০ গ্রাম করে ওজন বাড়ে এবং এক বছরের মধ্যে খাসী ১৮-২০ কেজি ওজনের হতে পারে। প্রজনন পাঁঠার খাদ্য ব্যাবস্থাঃ পাঁঠাকে প্রজনন কাজে ব্যবহার করা না হলে শুধুমাত্র পর্যাপ্ত ঘাস খাওয়ালেই চলে; কিন্তু যদি পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস না পায় তবে ভাল মানের খড় দিতে হয় এবং ২৫০-৫০০ গ্রাম দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হয়। এ সময় অতিরিক্ত দানাখাদ্য দেয়ার কোন প্রয়োজনই নাই। প্রজনন কাজে ব্যবহারের সময় অবশ্যই পর্যাপ্ত দানাদার খাদ্য দিতে হয়। পাঁঠাকে প্রজননক্ষম রাখার জন্য প্রতিদিন ১০ গ্রাম পরিমাণ অংকুরিত ছোলা দেয়া উচিৎ। পাঁঠাকে কখনই চর্বিযুক্ত খাবার দেয়া যাবে না। আরোও পড়ুন  ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি খাদ্য খাওয়ানোর পদ্ধতিঃ সকাল ৬-৭ টাঃ • দৈনিক প্রয়োজনের ১/২ অংশ দানাদার এবং ১/৩ অংশ আঁশ জাতীয় খাদ্য দিতে হবে। প্রথমে দানাদার খাদ্য আলাদা আলাদা পাত্রে এবং পরে আঁশ জাতীয় খাদ্য একত্রে দিতে হবে। সকাল ৬-৯ টাঃ • পাতা সমেত গাছের ডাল ঝুলিয়ে দিতে হবে। দুপুর – ১২ টাঃ • ভাতের মাড় ১/৩ অংশ আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। বিকাল- ৪-৫ টাঃ • অবশিষ্ট দানাদার খাদ্য পূর্বের ন্যায় সরবরাহ করতে হবে। সন্ধ্যাঃ • সন্ধার পূর্বে ছাগল ঘরে তুলে দিনের অবশিষ্ট ১/৩ অংশ আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। ছাগলের কয়েকটি রোগ ও প্রতিকার পদ্ধতিঃ (১) ছাগলের ওলান প্রদাহ বা ম্যাসটাইটিস রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধঃ ছাগলের ওলান প্রদাহ বা ম্যাসটাইটিস রোগের লক্ষণ সমুহঃ • গায়ে জ্বর থাকে, ওলান ভীষণ গরম ও শক্ত হয়, বাটসহ ফুলে ওঠে। • বাট দিয়ে কখনও পাতলা আবার জমাট বাঁধা রক্ত মিশ্রিত দুধ আসে। • এক পর্যায়ে বাঁটগুলো অত্যন্ত শক্ত হয়ে যায় এবং দুধ বের হয় না। • অত্যধিক মারাক্তক অবস্থায় আক্রান্ত বাটে পচন ধরে ও এক পর্যায়ে বাট পচে খসে পড়ে। ছাগলের ওলান প্রদাহ বা ম্যাসটাইটিস রোগের প্রতিরোধঃ পরিষ্কার পরিচ্চন্ন স্থানে রাখতে হবে। বাটে সময় যাতে ক্ষত সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে হবে। (২) ছাগলের ক্ষুরা রোগের লক্ষণ ও প্রতিকারঃ ছাগলের ক্ষুরা রোগের লক্ষণঃ • ছাগল আক্রান্ত হলে কাপুনি দিয়ে জ্বর আসে। • মুখ থেকে লালা পড়তে থাকে। • মুখ ও পায়ে ফোস্কা দেখা দেয় এবং পরে ফেটে গিয়ে ১৮-২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘায়ে পরিণত হয়। ছাগলের ক্ষুরা রোগের প্রতিকারঃ সময়মত টিকা দিতে হবে রোগাক্রান্ত ছাগলকে পৃথক করে রাখতে হবে। মৃত্যু ছাগলকে দূরে পুঁতে রাখতে হবে। রোগাক্রান্ত ব্যবহৃত সামগ্রী গর্তে পুঁতে রাখতে হবে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। (৩) ছাগলের পি পি আর রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধঃ বর্তমানে বাংলাদেশে ছাগল পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাঁধা হল পি পি আর। ছাগলের পি পি আর রোগের লক্ষণঃ • রোগের শুরুতে ১০৫-১০৭ ডিগ্রি ফাঃ জ্বর হয়, এর সাথে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। • ছাগলের নাক দিয়ে স্লেম্মা নির্গত হয় এবং নাকে ও মুখে ঘা হয়। • নাসারন্ধের চারধারে স্লেম্মা জমে যায়। • গর্ভবর্তী ছাগলের গর্ভপাত ঘটে। • ছাগলের দাঁড়ানোর ভঙ্গি অনেকটা কুঁজো হয়ে যায়। ছাগলের পি পি আর রোগের প্রতিরোধঃ রোগ হওয়ার পূর্বে সুস্থও ছাগলকে এ রোগের টিকা দিয়ে রোগ প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা। ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পদক্ষেপ সমূহ পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। বাচ্চার বয়স ৪ মাস হলেই এ রোগের টিকা দিতে হবে। (৪) ছাগলের বসন্ত রোগের লক্ষণ ও প্রতিরোধঃ ছাগলের সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে বসন্ত অন্যতম। এই রোগে ছাগলের চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। ছাগলের বসন্ত রোগের লক্ষণঃ • মুখের চারপাশ ও গহ্বরে, কানে, গলদেশে, বাটে এবং পায়ু পথের চারপাশে বসন্তের গুটি দেখা দেয়। • দেহের তাপ বৃদ্ধি পায়, কিছু খায় না ও জাবর কাটে না। • ছাগলের পাতলা পায়খানার সাথে মিউকাস ও রক্তের ছিটা দেখা দেয়। • রোগ দ্রুত আশে পাশের ছাগলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ছাগলের বসন্ত রোগের প্রতিরোধঃ রোগ হওয়ার পূর্বে সুস্থ ছাগলকে এ রোগের টিকা প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা। ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত পদক্ষেপ সমূহ পুরোপুরি মেনে চলতে হবে। এছাড়াও ছাগলের যে কোন রোগের বা সমস্যার সৃষ্টি হলে আপনার নিকটস্থ পশু চিকিৎসকের সহিত যোগাযোগ করুন। ৫ টি ছাগী সমন্বিত খামারের বিভিন্ন খরচ, আয় ও নীট মুনাফার হিসাব সম্বলিত একটি ধারণাঃ মূলধনঃ ১ টি ছাগলের মূল্য ২৫০০/- টাকা হিসাবে ৫ টি ছাগলের মূল্য হবে ২৫০০x৫=১২৫০০/- টাকা। খরচঃ প্রতি ছাগীর প্রতিবার গর্ভধারণের শেষ ১ মাস ও বাচ্চা প্রসবের প্রথম ১ মাস দানাদার খাদ্যর প্রয়োজন হবে। ছাগী প্রতি দৈনিক ৩০০ গ্রাম খাদ্য সরবরাহ করা হলে ১ টি ছাগীর জন্য বৎসরে দানাদার খাদ্য প্রয়োজন হবে (৩০+৩০)x৩০০গ্রামx২=৩৬কেজি। প্রতি কেজি খাদ্য ১৫/- টাকা হলে ১ টি ছাগীর জন্য খাদ্য খরচ হবে ৫৪০/- টাকা। ৫ টি ছাগীর জন্য খাদ্য খরচ হবে =৫৪০x৫= ২,৭০০.০০ টাকা । আয়ঃ যদি ১ মাসের মধ্যে গর্ভবর্তী হলে ৬ মাস পরে ২ টি করে মোট ১০ টি বাচ্চা এবং বছরে শেষে আর ও ১০ টি বাচ্চা পাওয়া যাবে। ছাগল কেনার ১৫ মাস পরে ১০ টি বাচ্চা দৈনিক পূর্ণতা লাভ করবে এবং বাজারজাত করার উপযোগী হবে। প্রথমে ১৫ মাস পরে পূর্ণতা প্রাপ্ত ১০ টি ছাগল বিক্রি করা হবে। ১ টি ছাগলের দাম ১,৫০০.০০ টাকা হলে ১০ টি ছাগলের দাম হবে ২,০০০x১০=২০,০০০.০০ টাকা। নীট মুনাফাঃ ২০.০০০.০০-২.৭৫০.০০=১৭.২৫০.০০ টাকা। এই নীট মুনাফা থেকে ৫ টি ছাগীর দাম পরিশোধ করলে ও ১৫ মাস পরে ১৭.২৫০.০০-১২.৫০০.০০-৪৭৫০ টাকা সহ ৫টি ছাগী ও ১০ টি বাচ্চার মালিক হওয়া যায়। এভাবে স্বল্প পূঁজি ও অল্প শ্রমের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সাথে ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে পারে বড় আকারের লাভজনক ছাগলের খামার।

  • বুধবার গঠিত হল মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এর নতুন কমিটি

    জিৎ বর্মন:মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এর নতুন কমিটিতে জায়গা পেলেন না বিদায়ী সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা। প্রাক্তন সম্পাদকের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন আর্থিক অভিযোগের কারণেই ,এমনটা হয়েছে বলে মনে করছেন জেলার ব্যবসায়ী মহল। বুধবার গঠিত হল মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এর নতুন কমিটি । নতুন কমিটিতে জায়গা পেলেন না গতবারের বিদায়ী সম্পাদক উজ্জ্বল সাহা। কিছুদিন আগেই শ্রী সাহার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অভিযোগ এবং তার ভিত্তিতে ইংরেজ বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের ,পরে এই বিদায়ে সম্পাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ৪২০ এবং ৪০৬ ধারায় মামলা রুজু, এছাড়াও অভিযোগকারী ব্যবসায়ী আইনজীবী সঞ্জয় শর্মার তোলা বিস্ফোরক কিছু অভিযোগ। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যে এই বিদায়ী সম্পাদক মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের মতো ঐতিহ্যবাহী এক সংগঠনের সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের অপব্যবহার করছেন, জড়িয়ে পড়ছেন বিভিন্ন আর্থিক ছাড়াও অন্যান্য অভিযোগে। এরপরই যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েন জেলার প্রায় ৭০ ০০০ ব্যবসায়ীদের মিলিত এই সংগঠনের কর্মকর্তারা। মনে করা হচ্ছে এইসব কারনেই এবারের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে উজ্জল সাহাকে। এ বিষয়ে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের নবনিযুক্ত সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু কে জানতে চাইলে তিনি উজ্জ্বল সাহার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে না চাইলেও, জানান আমাদের এই সংগঠন ৬৩ বছরের পুরনো ।ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠন এই সংগঠনে ,ব্যক্তি নয় সব সময় আমরা সংগঠনের মর্যাদা কে সামনে রাখি। এক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি বিশেষের কারণে যদি সংগঠনের ক্ষতি হয়, বা তার সুনাম ক্ষুন্ন হয় তাহলে কখনোই আমরা তার পাশে থাকব না ।আমাদের সংগঠন কখনোই কোনো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করবে না ।আমাদের লক্ষ্য কেবলমাত্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা ,আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাবে এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। সংগঠনের নতুন কমিটিতে অভিযুক্ত উজ্জ্বল সাহা কোন পথ না পাওয়ায় খুশি উজ্জল সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ব্যবসায়ী পবন কুমার শরাফ ও ,তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত খুশি, উজ্জ্বল সাহার মত একজন অসাধু ব্যবসায়ী কে কমিটিতে জায়গা না দেওয়ায় ।আমরা খুশি পুলিশ প্রশাসন এবং মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাতে আমরা আপ্লুত ।আইনের ওপর আমাদের পুরো ভরসা আছে, নিশ্চয়ই এই অভিযুক্ত তার প্রাপ্য সাজা পাবে। এ ধরনের একজন অসাধু ব্যবসায়ী যিনি বহু লোককে ঠকিয়েছেন, বহু লোকের কাছ থেকে ঋণ করে তাদের টাকা শোধ করেননি, তার কোন মতেই এই ধরনের সংগঠনের মাথায় থাকা উচিত নয় ।অনেক ব্যবসায়ী এতদিন ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। আশাকরি ,এবারে আমার মত বহু ব্যবসায়ী এগিয়ে এসে তাদের অভিযোগ জানাবেন। এই ঘটনায় খুশি অভিযুক্তের আইনজীবী সঞ্জয় শর্মাও তিনি বলেন অত্যন্ত সদর্থক পদক্ষেপ। এই ধরনের একজন অসাধু লোককে সংগঠনের মাথায় রাখা কখনই উচিত কাজ হতো না। উজ্জল সাহার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বহু অভিযোগ সামনে আসছে ।বহু ব্যবসায়ী আমার কাছেও এসেছেন, এমন ঘটনাও শোনা যাচ্ছে যে কোন দোকান থেকে ৬০ হাজার টাকার মোবাইল কিনে তাকে ২০হাজার টাকা দেওয়ার পর বাকি টাকা তিনি শোধ করেননি ।এগুলি সবই প্রমাণসাপেক্ষ ,তবে আশা রাখি আগামীতে বহু লোক, যারা এতোদিন ভয়ে এগিয়ে এসে এই সম্পাদকের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেননি বা অভিযোগ জানাতে পারেননি, তারা সাহস পাবেন আগামীতে তারা তাদের অভিযোগ জানাবেন। নতুন গঠিত এই কমিটির মেয়াদ থাকবে ২০২১ সাল পর্যন্ত। অন্যদিকে এবারের নতুন কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন শ্রী দেবব্রত বাসু। এবং সম্পাদক পদে নির্বাচন করা হয়েছে মালদা জেলার প্রতিষ্ঠিত, সৎ এবং আদ্যপ্রান্ত ভালো মানুষ এবং জনপ্রিয় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত শ্রী জয়ন্ত কুন্ডু কে। সংগঠনের প্রাক্তন সম্পাদক উজ্জল সাহার বর্তমান কমিটিতে জায়গা না পাওয়া প্রসঙ্গে, এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তার প্রতিক্রিয়া জানার জন্য আমাদের সাংবাদিক, উজ্জল সাহাকে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন তোলেনি। হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজের কোন উত্তর আসেনি ,একবারই মাত্র তিনি ফোন ধরেছিলেন ,তাকে এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি এখন ঘুমোচ্ছি পড়ে প্রতিক্রিয়া জানাবো । তারপর বহুবার ফোন করলেও ফোন ধরেননি উজ্জ্বল বাবু। সূত্র মারফত জানা গেছে উজ্জল সাহাকে মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের নতুন কমিটিতে জায়গা দেওয়ার জন্য মোট ২৪ জনের এক্সিকিউটিভ কমিটির একজন ও সুপারিশ করেননি ।ফলে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংগঠনের সভাপতি এবং সম্পাদকের পদে দেবব্রত বাসু এবং জয়ন্ত কুন্ডুর নাম উঠে আসে। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের মাথায় অভিযুক্ত উজ্জ্বল সাহাকে সরিয়ে স্বচ্ছ এবং সৎ ভাবমূর্তির জয়ন্ত কুন্ডু এবং দেবব্রত বাসুর নাম উঠে আসায় এখন খুশির হাওয়া মালদা জেলার ব্যবসায়ী মহলে।

  • রঙের তুলনায় আবিরের বিক্রি বেশি, জানাচ্ছেন বিক্রেতারাই

    ডেস্কঃ (I.D). ০১ মার্চ ২০১৮ঃ- রঙের তুলনায় আবিরের বিক্রি বেশি, জানাচ্ছেন বিক্রেতারাই।তাঁদের মতে, আগের তুলনায় সচেতনতা বেড়েছে মানুষের। তাই রাসায়নিক উপাদান থেকে তৈরি রঙের তুলনায় আবির কিনতেই বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছেন মানুষ।রঙের তুলনায় আবিরে ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা কম থাকে বলেই এই প্রবণতা, মনে করছেন তাঁরা। তবে ভেষজ আবির বা ভেষজ রঙের যা চাহিদা, সেই তুলনায় জোগান একেবারে নেই বললেই চলে। গত কয়েক বছরে দোলকে কেন্দ্র করে ভেষজ আবির বা রং ব্যবহারের সুফল নিয়ে সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে নানা মহলে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বাজারে গিয়ে ভেষজ আবির খুঁজে খুঁজে হয়রান হওয়া মানুষের সংখ্যা প্রচুর। কোথাও পাওয়া গেলেও চড়া দামের জন্য অনেকেই দূরে সরে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শুরু হয়ে যাবে রঙের উৎসব। তার আগে বুধবার দুপুর, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত রঙের বাজার থাকল জমজমাট।বড়বাজারের পুরনো চীনাবাজার বা মধ্য কলকাতার জানবাজার—সর্বত্রই ছিল থিকথিকে ভিড়। হাতিবাগান, শ্যামবাজারের ফুটপাত বা দক্ষিণে গড়িয়াহাট এসব জায়গাতেও এদিন বিকিকিনির প্রধান উপাদান ছিল আবির ও রং।রঙের বিক্রি তুলনায় কম। ভেষজ আবির বা রং নিয়ে প্রশ্ন করায় তাঁর উক্তি, ও জিনিস বাজারে খুঁজে পাবেন না।পুরনো চীনাবাজারে দোলকেন্দ্রিক রঙের পাইকারি কেনাবেচা চলে। সেখানেও এদিন খুচরো বিক্রি হয়েছে বেশি। বাঙালিরা সাধারণত একদিনের জন্য রঙের উৎসবে মাতলেও শহরের অবাঙালি জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগই চার-পাঁচদিন ধরে রং খেলে। তাঁদের ভিড় বেশি ছিল বড়বাজারের রংয়ের দোকানে। এখানে অবশ্য ভেষজ রঙের চাহিদা কম।