ধ্রম কথা

  • ১ লা বৈশাখ না অক্ষয় তৃতীয়া ? কোন দিনটিতে দোকানে পুজো করার মাহাত্ম্য বেশী ?

    শুক্লা চুতুর্বেদী : অক্ষয় তৃতীয়া হল চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া অর্থাৎ শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। হিন্দু ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এই তিথি। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৈদিক বিশ্বাসানুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। মূলত এপ্রিলের শেষে ও মে মসের প্রথমে এই শুভ তিথি পালন করা হয়। ইতিহাস এই শুভদিনে জন্ম নিয়েছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম। বেদব্যাস ও গনেশ এই দিনে মহাভারত রচনা আরম্ভ করেন। অক্ষয় শব্দের অর্থ হল যা ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। বৈদিক বিশ্বাসানুসারে এই পবিত্র তিথিতে কোন শুভকার্য সম্পন্ন হলে তা অনন্তকাল অক্ষয় হয়ে থাকে। আধুনিককালে এই তিথিতে সোনার বা রূপার গয়না কেনা হয়। মনে করা হয়, এই শুভ তিথিতে রত্ন বা জিনিসপত্র কিনলে গৃহে শুভ যোগ হবে। সুখ-শান্তি ও সম্পদ বৃদ্ধি হবে, এই আশাতেই এদিন মানুষ কিছু না কিছু কিনে থাকেন। অক্ষয় তৃতীয়ার ফর্দঃ এদিন অনেক বাড়িতেই পুজো করা হয়। অনেকেই জানেন না যে এই পুজোতে কী কী লাগবে। তাই এই পুজোর জন্য যা যা উপকরণ দরকার, তার একটি ফর্দ দেওয়া হল। যেমন- সিদুঁর, পঞ্চগুঁড়ি, পঞ্চগর্ব্য, তিল, হরিতকী, ফুল, দুর্ব্বা, তুলসি, বিল্বপত্র, ধূপ, প্রদীপ, ধূনা, মধুপর্ক বাটি ২, আসনাঙ্গুরীয় ২, দই, মধু, চিনি, ঘি, পুজোর জন্য কাপড় ১, শাটী ১, নৈবেদ্য ২,কুচো নৈবেদ্য ১, সভোজ্য জলপূর্ণ ঘট ১, বস্ত্র ১, পাখা ১, দক্ষিণা। সব শেষে এক ঝলকে জেনে নিন মাত্র ৭ টি পয়েন্টে। তাহলেই বুঝতে পারবেন, অক্ষয় তৃতীয়ার মাহাত্ম্য। ১) অক্ষয় শব্দের অর্থ তো আর নতুন করে বলার নেই। অক্ষয় মানে যার ক্ষয় নেই। বিনাশ নেই। প্রতি বৈশাখ মাসের শুক্লাপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালন করা হয় এই অক্ষয় তৃতীয়া। অত্যন্ত শুভ দিন তো বটেই। ২) এই দিনটাতেই পরশুরামের জন্ম হয়। পরশুরাম ছিলেন নারায়ণের ষষ্ঠ অবতার। ৩) বেদব্যাস, গনেশের সাহায্য নিয়ে আজকের দিন থেকেই মহাভারত লেখা শুরু করেছিলেন। ভাবুন একবার। যে মহাভারত পড়ে বড় হলেন, সেই মহাকাব্যর লেখা শুরু কিনা আজকের দিন থেকেই। শুনেই কেমন রোমাঞ্চ লাগলো না? ৪) কৃষ্ণ এবং সুদামা ছিলেন অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। কিন্তু দুজনের আর্থিক ভেদ ছিল। কৃষ্ণ রাজার সন্তান। আর সুদামা হলেন সাধারণ পরিবারের ছেলে। কৃষ্ণ রাজার হওয়ার পর এই বিশেষ দিনে সুদামা এসেছিলেন তাঁর প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। ৫) শোনা যায় গঙ্গাও আজকের দিনেই নেমে এসেছিলেন আমাদের এই পৃথিবীতে। গঙ্গা যে আমাদের সভ্যতা। তাহলে সেই সভ্যতার শুরুও কিনা আজকের দিনেই! ৬) যে দেবী অন্নপূর্ণার পুজো করেন আপনি, সেই অন্নপূর্ণা দেবীর জন্মও হয়েছিল এই তিথিতে। ৭) ধনের দেবতা কুবের একবার বর চেয়েছিলেন মা লক্ষ্মীর কাছে। লক্ষ্মী ঠাকুর সন্তুষ্ট হয়ে আজকের দিনেই কুবেরকে অনেক ধনরত্ন উপহার দিয়েছিলেন। ১ লা বৈশাখ না অক্ষয় তৃতীয়া ? কোন দিনটিতে দোকানে পুজো করার মাহাত্ম্য বেশী

  • জানেন কি বিবাহিত মহিলাদের অপরিহার্য অলঙ্কার শাঁখা ব্যবহারের ইতিহাস

    newsbazar24: শাঁখা, পলা হিন্দু বিবাহিত মহিলাদের অপরিহার্য ভূষণ বা অলঙ্কার বিশেষ। শাঁখা হল শঙ্খ কেটে তৈরি চুড়ি বা বালা জাতীয় অলঙ্কার। ধর্মীয় রীতি এবং মাঙ্গলিক চিহ্ন হিসাবে বিবাহিত মহিলারা অন্যান্য অলঙ্কার, বালা, চুড়ির সঙ্গে শাঁখা, পলা পরেন। স্বামীর মৃত্যুর পর এই শাঁখা ভেঙ্গে ফেলা হয়। কিন্তু কী করে বিবাহিত মহিলাদের মধ্যে শাঁখা পরার রীতি চালু হল?ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, এক অত্যাচারী অসুরের উপদ্রবে দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ওই অসুরের নাম ছিল শঙ্খাসুর। এ দিকে শঙ্খাসুরের স্ত্রী তুলসী দেবী ছিলেন নারায়ণের একনিষ্ঠ ভক্ত। কিন্তু শঙ্খাসুরের অত্যাচারের শাস্তি দিতে নারায়ণ তাকে বধ করেন। শঙ্খাসুরের পতিব্রতা, ধর্মপরায়ণ স্ত্রী তুলসী দেবী তখন নারায়ণের কাছে নিজের ও স্বামীর অমরত্বের প্রার্থণা করেন। নারায়ণ তুলসী দেবীর প্রার্থণায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর (তুলসী দেবী) ও শঙ্খাসুরের দেহাংশ (হাড়) থেকে শাঁখার সৃষ্টি করেন এবং বিবাহিত সম্পর্কের মাঙ্গলিক চিহ্ন হিসাবে এটির ব্যবহারের নির্দেশ দেন। মনে করা হয়, সেই থেকেই হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে বিবাহিত সম্পর্কের মাঙ্গলিক চিহ্ন হিসাবে শাঁখার প্রচলন হয়। এ তো গেল পুরাণের বর্ণনা। ব্রিটিশ লেখক জেমস ওয়াইজের লেখা থেকে জানা যায়— বল্লাল সেনের সঙ্গে দক্ষিণ ভারত থেকে বাংলাদেশে শাঁখারিরা এসেছিলেন। অর্থাৎ, আজ থেকে প্রায় ৯০০ বছর আগেও শাঁখার প্রচলন ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, বল্লাল সেনের অনেক আগে থেকে (প্রায় ২,০০০ বছর আগে দক্ষিণ ভারতে শঙ্খশিল্পের উদ্ভব ঘটে) দক্ষিণ ভারতে অলঙ্কার হিসাবে শাঁখার প্রচলন ছিল। তবে তার পিছনে কোনও ধর্মীয় কারণ ছিল কিনা— সে বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। এ কথা আমরা অনেকেই জানি যে, শঙ্খ হল এক ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর (শামুখ) শরীরের প্রাকৃতিক আবরণ বা খোলশ। আর শাঁখা হল শঙ্খ কেটে কেটে তৈরি করা চুড়ি বা বালা জাতীয় অলঙ্কার বিশেষ। একটা প্রমাণ মাপের শঙ্খ থেকে থেকে ৫-৬ টি শঙ্খ বলয় (রিং) বা শাঁখা পাওয়া যায়। এর মধ্যে একেবারে শঙ্খের মাঝামাঝি অংশ থেকে কাটা ২-৩টি শাঁখা উত্কৃষ্ট মানের হয়। এ রকম এক জোড়া উত্কৃষ্ট মানের শঙ্খ বলয় বা শাঁখার দাম দেড় থেকে দু’হাজার টাকা হতে পারে। শঙ্খের বাকি অংশ থেকে কাটা অপেক্ষাকৃত ছোট শাঁখাগুলির দাম ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বাজারে নানা রকমের (নানা নামে) শাঁখা পাওয়া যায়। যেমন, জয়শঙ্খ, চৌমুক্ষি, তিতকৌড়ি, গৌরি, রামেশ্বরী, ধানছড়ি, সতীলক্ষ্মী, লতাবালা ইত্যাদি। এগুলির মধ্যে তিতকৌড়ি শাঁখার দাম সব থেকে বেশি। শাঁখা ছাড়াও শঙ্খ থেকে আংটি, কানের দুল বা অন্যান্য নানা সুন্দর সুন্দর অলঙ্কার তৈরি হয়। শাঁখের গুড়ো দিয়ে নানা রকমের মূর্তিও তৈরি করা হয়।

  • বাস্তু মতে প্রতিটি দিকের আলাদা আলাদা গুরুত্ব, জেনে নিন

    newsbazar24: বাস্তুশাস্ত্রর আটটি দিক। উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম, ঈশান, নৈর্ঋত, অগ্নি এবং বায়ু। বাস্তু মতে, এই প্রতিটি দিকের আলাদা আলাদা গুরুত্ব, আলাদা ভূমিকা। এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক সেগুলো। ১। উত্তর : শাস্ত্র মতে, এটা কুবেরের দিক। অর্থাৎ ধণসম্পত্তির প্রতিপত্তির দিক। বাড়ির এই দিকটায় ব্যবসার অফিস করুন। অফিস ভাড়া নিলে বিল্ডিং-এর উত্তর দিকে নিন। সিন্দুক বা টাকা রাখার জায়গা বাড়ির উত্তরে করুন। এই দিকে শৌচালয় বানাবেন না। ২। পূর্ব: এটা দেবরাজ ইন্দ্র দিক। বাস্তুমতে, নতুন কিছু এ দিকে মুখ করে শুরু করতে পারে। পড়ার ঘর, পুজোর ঘর, কাজের ঘর এদিকে মুখ করা হতে পারে। সিন্দুক এদিকে মুখ করে খুললে ভালো। শৌচালয়, স্নানঘর এদিকে বানাবেন না। এদিকে খানিক খোলা জায়গা থাকলে বাড়ির প্রধানের আয়ু বৃদ্ধি হয়। ৩। পশ্চিম : এটা বরুণের দিক। এদিকে শুভ কিছু রাখার দরকার নেই। সিঁড়ি বা জলের ট্যাংক এদিকে বানাতে পারেন। স্টোর বা জঞ্জাল রাখার জায়গা বাড়ির এদিকে করুন। ৪। দক্ষিণ : এটা বাস্তুমতে ভয়ের দিক, কারণ এটি যমের দিকয়। এদিকেও সিঁড়ি বা জলের ট্যাংক রাখুন। বাড়ির গুরুত্বপূর্ণ কিছু এদিকে বানাবেন না। খাবারের টেবিল বা খাবার ঘর যেন কোনওভাবেই না এই দক্ষিণ অভিমুখে হয়। ৫। ঈশান : ঈশান মহাদেবের দিক। এই দিকটি বাড়ির জন্য খুবই শুভ। এদিকে কিছুটা ফাঁকা জায়গা রাখুন। তাতে বাড়ির উপকার হবে। এই দিকটি বংশ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে গণ্ডগোল হলে বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সমস্যা হয়। ৬। অগ্নি : এটা অগ্নিদেবের দিক। এদিকের বৈশিষ্ট্য বাস্তুমতে, যৌক্তিকতা। তাই এদিকে স্নানাগার, শৌচালয়ের মতো কিছু রাখবেন না। শক্তি উৎপাদন করে এমন জিনিস এদিকে রাখতে পারেন। টেলিভিশন, ব্যাটারি, ইনভারটার, রুম হিটার এদিকে রাখতে পারেন। ৭। নৈর্ঋত : নৈর্ঋত শব্দের অর্থ দানব। এই দিকটি আপনার জীবন থেকে দানবদের রক্ষা করে। এদিকে দামী সামগ্রী রাখতে পারেন। সেগুলো রক্ষা পাবে। জলের ট্যাংক এই দিকে রাখবেন না। ৮। বায়ু : এটা বায়ু বা পবন দেবের দিক। ভালো স্বাস্থ্য বা দীর্ঘজীবন দিতে পারে এই দিক। কিন্তু এই দিকটা পারস্পরিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য খুব দরকারি। এদিকে যেন কোনওভাবেই মাস্টার বেডরুমটি না হয়। খাবার ঘরও এদিকে করা ঠিক নয়। এদিকে বাড়ির কোনও বৃদ্ধি যেন না হয়, তাতে শত্রুর সংখ্যা বাড়তে পারে।বাস্তু বিচার অতি প্রাচীন এক রীতি। যে কোনও বৈষয়িক কাজে এগোনের আগে, যেমন নতুন বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা থেকে শুরু করে বাড়ির ভিতরের ঘরের পরিবর্তন, বাগান তৈরি, বা বাড়ির কোথায় কোন আসবাব রাখবেন- তার প্রতিটা ক্ষেত্রই বাস্তু মেনে এগোন অনেকেই। এবং এর সুফল পেয়েছে, এমনই দাবি অনেকের।

  • মা মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করলে কী ফল পাওয়া যায় জানেন? মা মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করলে কী ফল পাওয়া যায়

    মঙ্গলচণ্ডী সকল বিশ্বের মূল স্বরূপা প্রকৃতি দেবীর মুখ হইতে মঙ্গলচণ্ডী দেবী উৎপন্না হইয়াছেন। তিনি সৃষ্টিকার্য্যে মঙ্গলরূপা এবং সংহারকার্য্যে কোপরূপিণী, এইজন্য পণ্ডিতগণ তাঁহাকে মঙ্গলচণ্ডী বলিয়া অভিহিত করেন। দেবীভা-৯স্ক-১। দক্ষ অর্থে চণ্ডী এবং কল্যাণ অর্থে মঙ্গল। মঙ্গলকর বস্তুর মধ্যে দক্ষা বলিয়া তিনি মঙ্গলচণ্ডী নামে প্রসিদ্ধ হইয়াছেন। প্রতি মঙ্গলবারে তাঁহার পূজা বিধেয়। মনু বংশীয় মঙ্গল রাজা নিরন্তর তাঁহার পূজা করিতেন। দেবীভা-৯স্ক-৪৭। মঙ্গলচণ্ডী ব্রত প্রতি মঙ্গলবারে মা চণ্ডীর আরাধনা করা হয় বলে এ ব্রতের নাম মঙ্গলচণ্ডী ব্রত। জীবনে শ্রেষ্ঠ মাঙ্গল্যের প্রতিষ্ঠার জন্যই এ ব্রতের অনুষ্ঠান। মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের নানা রূপ আছে। কুমারীরা যে মঙ্গলচণ্ডী ব্রতের আচরণ করে, তা অতি সহজ ও সংক্ষিপ্ত। দেবী অপ্রাকৃত মহিমার প্রশস্তিগীতি ব্রতের ছড়ায় এসে ধরা দেয়। যথা --- সোনার মা ঘট বামনী। রূপোর মা মঙ্গলচণ্ডী।। এতক্ষণ গিয়েছিলেন না কাহার বাড়ি? হাসতে খেলতে তেল সিন্দুর মাখতে পাটের শাড়ি পরতে সোনার দোলায় দুলতে হয়েছে এত দেরী। নির্ধনের ধন দিতে কানায় নয়ন দিতে নিপুত্রের পুত্র দিতে খোঁড়ায় চলতে দিতে হয়েছে এত দেরী।   অভীষ্ট সিদ্ধিমানসে হিন্দু মহিলাগণ মঙ্গলবারে মঙ্গলচণ্ডী দেবীর অর্চনা ও ব্রত উপসাবাদি করিয়া থাকেন। [ধনপতি সওদাগরের পত্নী খুল্লনা প্রথম মঙ্গলচণ্ডীদেবীর পূজার প্রবর্তন করেন।] দেবীর করুণাশক্তি অমোঘ। তাঁর শরণাগত হলে নির্ধন ধনী হয়, অন্ধ নয়ন পায়, বন্ধ্যা পুত্র লাভ করে, খঞ্জ চরণযুক্ত হয়। সংসারজীবনে এই মঙ্গলময়ীর আরাধনা তাই একান্তই প্রয়োজন।

  • জানেন কি কবে থেকে বাংলায় শুরু হয় হাল খাতা?

    News Bazar24: হাল খাতার আক্ষরিক অর্থ হলো,আগের বছরের দেনা-পাওনার হিসেব সমন্বয় করে এদিন নতুন করে হিসেবের খাতা খোলেন তাঁরা। এই উপলক্ষ্যে নববর্ষের প্রথম দিনে দোকানে আসা ক্রেতাদের মিষ্টিমুখও করান তাঁরা। বাংলা নববর্ষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে হালখাতা উদযাপন। হালখাতা বাঙালি ঐতিহ্য ও ইতিহাসের একটি অংশ। তবে বর্তমান কালে হালখাতার উদযাপন আগের থেকে অনেকটাই কমে এসেছে। আগে রীতিমত নিমন্ত্রণ পত্র ছাপিয়ে উত্‍সবের আয়োজন করতেন ব্যবসায়ীরা। এখনওর অনেক জায়গাতেই দোকান পরিষ্কার করে, ফুল দিয়ে সাজিয়ে, লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করে শুরু হয় হালখাতা। অনলাইন শপিং, মোবাইল ব্যাংকিং-এর দাপটে হালখাতা আগের মতো পালিত না হলেও এদিনও দোকানে দোকানে ক্রেতাদের জন্য মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা থাকে। সঙ্গে উপহার হিসেবে অন্তত একটা বাংলা ক্যালেন্ডার থাকবেই। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মোগল সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকেই পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। আর এর সঙ্গে শুরু হয় বাংলা বছরের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিক ভাবে হালনগদ করার প্রক্রিয়া। মোগল আমল থেকেই পয়লা বৈশাখে অনুষ্ঠান করা হত। প্রজারা চৈত্র মাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পয়লা বৈশাখে জমিদাররা প্রজাদের মিষ্টিমুখ করানোর পাশাপাশি আনন্দ উৎসব করতেন। তবে বাংলা নববর্ষে মানুষ দিন টিকে পবিত্র দিন হিসেবেও মনে করেন। তাই অনেকে এদিন বাড়িতে বা মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন।নতুন নতুন পোশাক পড়েন ও উপহার দেন।

  • মন্ত্র শুরু ‘ওম’ দিয়ে, শেষ ‘স্বহা’য়, কারণ জেনে নিন

    newsbazar24: হিন্দুশাস্ত্রে যখনই কোনও মন্ত্র উচ্চারিত হয়, তা শুরু হয় ‘ওম’ দিয়ে। আর শেষ হয় ‘স্বহা’ উচ্চারণ করে।  ইষ্টদেবতা যেই হন, তাঁর উদ্দেশে মন্ত্র সব সময়ই শুরু হয় ‘ওম’ দিয়ে। বৈদিক, পৌরাণিক বা বীজমন্ত্র— কোথাওই এর অন্যথা হয় না। ‘ওম’ শব্দের উল্লেখ প্রথম পাওয়া যায় উপনিষদে। এবং সেখানেই বলা হয়েছে এই শব্দের নানা অর্থ। যেমন, ওম মানে ব্রহ্মাণ্ড, ওম মানে আত্মা, ওম মানে পরমাত্মা।অন্য দিকে, ঋগ্বেদে ‘স্বহা’ শব্দের অর্থ ‘আহুতি’। পুরাণে কথিত, কোনও এক সময়ে দেবতাদের খাওয়ার মতো কিছু ছিল না। ব্রহ্মার কাছে গিয়ে সেই দুর্দশার কথা জানালে, যজ্ঞে উৎসর্গিত বস্তুকে তিনি খাদ্যদ্রব্যে রূপান্তরিত করেন। কিন্তু, সঙ্গে এমন এক শর্তও রাখেন যে, মন্ত্রের শেষে ‘স্বহা’ উচ্চারণ না করলে উৎসর্গিত দ্রব্য দেবতাদের কোনও কাজেই লাগবে না। সেই থেকেই স্বহা ও অগ্নিদেবের সহাবস্থান। 

  • চলুন জেনে নিন , সাধারণ মানুেষর মধ্যে শিবরাত্রি কেন এতটা মহিমা অর্জন করেলা? কেনই বা ফাল্গুনের এই তিথিটিই সবচেয়ে পবিত্র বলে গণ্য হয় ?

    শঙ্কর চক্রবর্তী ঃ বসন্ত কালের ফাল্গুন মাসে কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী পরোক্ষ ভাবে চতুর্দশীর রাত্রি বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ভক্তের কাছে পরম পবিত্র দিন ।এই দিন মানুষের কাছে বর প্রাপ্তির দিন।বলা বাহুল্য, সারা বছরে শিবরাত্রির সংখ্যা বারো, কিন্তু ফাল্গুনের এই তিথিটিই সবচেয়ে পবিত্র বলে গণ্য হয়। পুরাণ মতে এই দিনটিতেই শিব লিঙ্গরূপে প্রথম প্রকাশ পেয়েছিলেন। পুরাণে আছে, এই দিন শিব ও পার্বতীয় বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তাতে কী? বিয়ে তো কত লোকেই করে, এবং হরপার্বতীর বিয়েতে ঝঞ্ঝাট হয়েছিল বটে, কিন্তু অনেকের বিয়েতেই বিপুল ঝঞ্ঝাট হয়। এই দিনটার এমন অস্বাভাবিক মাহাত্ম্য কেন? বলা হয়, উত্তর গোলার্ধের আকাশে এই দিনটিতে গ্রহ-নক্ষত্রের সংস্থান এমন হয়, যাতে মানুষ তার আধ্যাত্মিক এবং অন্যান্য শক্তি বিশেষ ভাবে জাগ্রত করে তুলতে পারে। শিব নিজে নাকি উমাকে বলেছিলেন, এই তিথি পালন করলে সমস্ত পাপের ফল থেকে নিষ্কৃতি মিলবে এবং মোক্ষলাভ হবে। অনেকের বিশ্বাস, শিবরাত্রিতে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র ইত্যাদি পাঠ করলে সত্যি সত্যিই শক্তি বাড়ে। এই লেখায় আমরা অবশ্য শিবরাত্রির আচার অনুষ্ঠান মন্ত্রতন্ত্র নিয়ে আলোচনা করব না। আমরা বোঝার চেষ্টা করব, বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে শিবরাত্রি কেন এতটা মহিমা অর্জন করল? আমার মতো গবেষকদের কাছে শিব আজও অতি আকর্ষণীয় এক দেবতা। বস্তুত, যে সব ইংরেজি-জানা শহুরে তরুণ ‘দেশি’ সংস্কৃতি এবং ধর্ম থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে, তারাও এখন শিবের প্রবল অনুরাগী হয়েছে, অনেকটাই আমিশ ত্রিপাঠীর ‘শিব ট্রিলজি’র কল্যাণে। একটা ব্যাপার আমাকে চিরকালই বেশ অবাক করেছে: এই দেবতাটি পরনে একখানা বাঘছাল জড়িয়ে কী ভাবে হিমালয়ের ওই ঠান্ডা সামলান। আর, যে বাঙালি তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রির নীচে নামলেই তড়িঘড়ি মাফলার এবং মাঙ্কি ক্যাপ জড়িয়ে ফেলে, শিব তাদের এমন প্রিয় হন কী করে, সেটাও কম রহস্য নয়। শিবের মাহাত্ম্যের অন্য দিকও ভুললে চলে না। হিন্দুদের আদি ত্রিমূর্তির মধ্যে ব্রহ্মা সেই কোন কালে গুরুত্ব হারিয়েছেন, তাঁর জন্য সাকুল্যে পুষ্করে একটি মন্দির বরাদ্দ। বিষ্ণু দশাবতারের ছকটির কল্যাণে নিজের একটা ব্যবস্থা করেছেন। শিবের আসন কিন্তু খুবই পাকা। তিনি এমনকী দেবরাজ ইন্দ্রকেও হারিয়ে দিয়েছেন— বেচারি ইন্দ্র এখন নানান নামের শেষাংশ হয়ে টিকে আছেন, যেমন নরেন্দ্র। বস্তুত, শিবের সাম্রাজ্য ক্রমশ প্রসারিত হয়েছে: তিব্বত তথা চিনের মানসরোবর থেকে ভারতের দক্ষিণ প্রান্তে কন্যাকুমারী পর্যন্ত। দেশ জুড়ে বিস্তৃত তাঁর এক ডজন জ্যোতির্লিঙ্গ, কেদারনাথ থেকে সোমনাথ, বৈদ্যনাথ থেকে কাশী বিশ্বনাথ, দক্ষিণে রামেশ্বরম, আবার ও দিকে মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ এবং অন্য নানা রাজ্যে তিনি পূজিত। শিব বরুণ বা ইন্দ্রের মতো বৈদিক দেবতা নন বটে, কিন্তু শিবরাত্রি বহু যুগ ধরে পালিত হয়ে এসেছে। শিবের প্রাচীনতা প্রমাণ করার জন্য ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা চিত্রভানুর কথা বলা হয়, বলা হয় ঈশান সংহিতার কথাও। বিভিন্ন পুরাণের উল্লেখ তো আছেই: শিবপুরাণ, পদ্মপুরাণ, স্কন্দপুরাণ, মত্‌স্যপুরাণ, বায়ুপুরাণ ইত্যাদি। কিন্তু এগুলিতে সাধারণ ভাবে শিবের মাহাত্ম্যের কথা আছে, নির্দিষ্ট ভাবে শিবরাত্রির কথা নয়। এই প্রসঙ্গে জন মার্ডক-এর কথা বলা দরকার। ভারতবর্ষের বিভিন্ন উত্‌সব সম্পর্কে উইলসন, ক্রুক, হিউজ এবং উইলকিনস যে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন, মার্ডক সেগুলি এক জায়গায় সংকলিত করেন। শিবরাত্রি সম্পর্কে ১৯০৪ সালে তিনি লিখেছিলেন, ‘প্রাচীন বলে কীর্তিত হলেও স্পষ্টতই এটি আসলে নিতান্ত অর্বাচীন।’ বস্তুত, অনেক দেবতাই প্রাচীন হতে পারেন, কিন্তু তাঁদের উপাসনার পদ্ধতি হয়তো অনেক সাম্প্রতিক। যেমন আমাদের বারোয়ারি দুর্গোত্‌সব কিংবা মহারাষ্ট্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় গণেশ চতুর্থী, দুটিই মোটামুটি একশো বছরের পুরনো। তবে অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে লেখা আব্বে দুবোয়ার প্রসিদ্ধ ‘হিন্দু ম্যানার্স, কাস্টমস অ্যান্ড সেরিমনিজ’ গ্রন্থে শিবরাত্রির উল্লেখ পাওয়া যায়। ভারতে প্রাচীন শব্দটি বেশ ঠিলেঠালা ভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত করে ধরে নিতে পারি যে, শিবরাত্রি অন্তত দুশো বছর পালিত হচ্ছে, এবং বিভিন্ন উত্‌সবের সঙ্গে তুলনা করলে দুশো বছর খুব কম সময় নয়। কয়েকটি কল্পদ্রুম এবং তিথিতত্ত্বেও শিবরাত্রির আচার লিপিবদ্ধ হয়েছে, তাদের কিছু কিছু তো দৃশ্যত তান্ত্রিক ধারার। শিবরাত্রির বয়স বিচার করতে গেলে একটা কথা মনে রাখতে হবে: বাংলায় শিবের যে রূপ, সেটি কৈলাস-অধিপতির নয়, লোকসমাজে জনপ্রিয় শিবায়নে যে দরিদ্র কৃষিজীবী শিবের কথা আছে, এখানে তিনিই পূজিত হয়েছেন। তাঁর নেয়াপাতি ভুঁড়ি, তিনি নিজের গণ অর্থাত্‌ অনুচরদের সঙ্গে গাঁজা খান, ক্রুদ্ধ পার্বতী ঝাঁটা হাতে তাঁর পিছনে তাড়া করেন। আমরা স্মরণ করতে পারি শিবরাত্রির একটি আদি কাহিনি: এক শিকারি রাত্রিবেলায় বেল গাছে উঠে পড়েছিল এবং সেখানেই কাটিয়েছিল। গাছের নীচে ছিল এক শিবলিঙ্গ, শিকারির নড়াচড়ায় সারা রাত সেই শিবলিঙ্গটির উপর বেলপাতা পড়ল। সেটা ছিল শিবরাত্রি। সে যখন মারা গেল, যমদূত তাকে নিয়ে যেতে এল। কিন্তু শিবরাত্রিতে শিবলঙ্গে বেলপাতা চড়িয়েছিল সে, অতএব অশেষ পুণ্য হয়েছে তার, তাই শিবের অনুচররা যমদূতদের সঙ্গে লড়াই করে তাকে স্বর্গে শিবের কাছে নিয়ে গেল। কালকেতুর গল্পও স্মরণীয়— শিকারি কালকেতু অরণ্য থেকে বেরিয়ে এসে রাজ্য পত্তন করল, যেখানে শিকার নয়, চাষবাসই হবে মানুষের প্রধান জীবিকা। সোজা কথাটা এই যে, পনেরো থেকে সতেরো শতকের মধ্যে বাংলার মানুষ পৌরাণিক দেবদেবীদের নিজের করে নিচ্ছিল। সেই সময় শিকার, ফলমূল সংগ্রহ, মাছ ধরা এবং গরু-মোষ চরানোর পুরনো জীবিকা থেকে এই অঞ্চলের মানুষ উত্তরোত্তর কৃষিজীবী হয়ে উঠছে, জীবন ও জীবিকার সেই বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দেবলোকেও পরিবর্তন ঘটছে। কৈলাসের শিব কিংবা এমনকী দুর্গাও কী ভাবে চণ্ডী, ধর্ম এবং মনসার মতো দরিদ্রের দেবদেবীদের কাছে হেরে গেলেন, মঙ্গলকাব্যগুলি তো তারই কাহিনি। সমাজের নীচের তলা থেকে উঠে আসা চাষিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে কৃষিজীবী শিবের একটুও সময় লাগেনি। দেবপূজার এই ‘গণতন্ত্রীকরণ’ বাংলাকে অন্য প্রদেশ থেকে আলাদা করেছে। তবে শেষ করার আগে একটা কথা বলা দরকার। পুরাণে বা অন্যান্য প্রাচীন কাহিনিতে শিবরাত্রি প্রধানত পুরুষ ভক্তদের ব্যাপার বলেই দেখানো হয়েছে। তা হলে মেয়েদের মধ্যে তা এমন গুরুত্ব অর্জন করল কী করে? আমার ধারণা, মুঘল আমলের শেষের দিকে এবং ব্রিটিশ যুগের প্রথম পর্বে হিন্দু জমিদার ও ‘রাজা’দের প্রতিপত্তি যখন বাড়ল, তখন সমাজে পিতৃতন্ত্র নানা ভাবে, নানা রূপে নতুন করে আধিপত্য জারি করার জন্য তত্‌পর হয়ে উঠল। এমনকী মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গাকেও করে বাগে আনা হল— স্বাধীনচেতা শৌর্যময়ী দেবীকে বাত্‌সল্যে সিক্ত করে ঘরের মেয়ে বানিয়ে ফেলা হল, যে মেয়ে বত্‌সরান্তে বাপের বাড়ি আসে, চার দিন সেখানে কাটিয়ে আবার কেঁদে এবং কাঁদিয়ে পতিগৃহে যাত্রা করে। এই প্রক্রিয়াতেই শিবের ভাবমূর্তি এবং উপাসনারও একটা রূপান্তর ঘটে গেল। তাঁর শক্তিমতী স্ত্রীকে পাতিব্রত্যের লাগাম পরিয়ে বেঁধে ফেলা হল, আর অল্পবয়সি মেয়েদের তাঁর আরাধনায় উপবাস ও অন্যান্য কৃচ্ছ্রসাধনের ব্রত পালনে নিযুক্ত করা হল, যাতে তারা শিবের মতো প্রবল এবং রগচটা এক স্বামীকে মনে মনে কামনা করে। তবে এ সব বিচার বিশ্লেষণের পরেও একটা কথা মানতেই হয়: বাংলার সমাজে শিবের মহিমা এখনও বিপুল, ভক্তরা লাখে লাখে দেবাদিদেবের আরাধনায় নিবেদিতপ্রাণ। বাংলার আকাশবাতাস মথিত করে আজও প্রবল আওয়াজ ওঠে: ভোলে বোম তারক বোম।সব শেষে বলি শিব পুজা পূর্ণ অর্জনের পুজা। বর প্রাপ্তির পুজা।-newsbazar24:

  • মহালয়াতে যারা গঙ্গায় অঞ্জলি প্রদান করেন , তারা শুধু পূর্বদের নয় , পৃথিবীর সমগ্র কিছুর জন্য মঙ্গল কামনা করে ফেলেন।

    সন্তোষ চ্ক্রবর্তী : আগামী ২১ আশ্বিন, ইংরেজী ৮ অক্টোবর সোমবার ভোরে শুভ মহালয়া ।অর্থাৎ দেবীর আগমনীর দিন। পূর্ব পুরুষ দের শ্রদ্ধা জানানোর দিন।এই শুভ মহালয়া কথাটিগটর নাম অনেক শুনেছেন । কিন্তু কেন এই মহালয়া ! সবাই নিশ্চিত মহালয়া মানে দূর্গাপূজার দিন গোনা , মহালয়ার ৬ দিন পর মহাসপ্তমি , তাই দেবিকে আমত্রন ইত্যাদি । মহালয়ার তার চেয়ে বড় গুরুত্ব আছে , সেটা কেউ কেউ জানেন , কেউ কেউ জানেন না । আর তাই আমরা জানানোর চেষ্টা করছি - ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র অকালে দেবিকে আরাধনা করেছিলেন লঙ্কা জয় করে সীতাকে উদ্ধারের জন্য আসল দূর্গা পূজা হলো বসন্তে , সেটাকে বাসন্তি পূজা বলা হয় । শ্রীরামচন্দ্র অকালে-অসময়ে পূজা করেছিলেন বলে এই শরতের পূজাকে দেবির অকাল-বোধন বলা হয় । সনাতন ধর্মে কোন শুভ কাজ করতে গেলে , বিবাহ করতে গেলে প্র্রয়াত পূর্বরা, যাদের পিতা-মাতা তাদের পিতা-মাতার জন্য , সাথে সমগ্র জীব-জগতের জন্য তর্পণ করতে হয়, কার্যাদি-অঞ্জলি প্রদান করতে হয় । তর্পণ মানে খুশি করা । ভগবান শ্রীরাম লঙ্কা বিজয়ের আগে এদিনে এমনই করেছিলেন । সেই অনুসারে এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ-মাতৃহীন তারা তাদের পূর্বপূরূষের স্মরন করে, পূর্বপূরুষের আত্নার শান্তি কামনা করে অঞ্জলি প্রদান করেন । সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্নাদের মত্যে পাঠিয়ে দেয়া হয়, প্রয়াত আত্নার যে সমাবেশ হয় তাহাকে মহালয় বলা হয় । মহালয় থেকে মহালয়া ।পিতৃপক্ষের ও শেষদিন এটি । সনাতন ধর্ম অনুসারে বছরে একবার পিতা-মাতার উদ্দেশ্যে পিন্ড দান করতে হয় , সেই তিথিতে করতে হয় যে তিথিতে উনারা প্রয়াত হয়েছেন । সনাতন ধর্মের কার্যাদি কোন তারিখ অনুসারে করা হয় না । তিথি অনুসারে হয় । মহালয়াতে যারা গঙ্গায় অঞ্জলি প্রদান করেন পূর্বদের আত্নার শান্তির জন্য , তাহারা শুধু পূর্বদের নয় , পৃথিবীর সমগ্র কিছুর জন্য প্রার্থনা ও অঞ্জলি প্রদান করেন । যে-অবান্ধবা বান্ধবা বা যেন্যজন্মনি বান্ধবা - অর্থাৎ যারা বন্ধু নন, অথবা আমার বন্ধু ও , যারা জন্ম জন্মাত্নরে আমার আত্নীয় বন্ধু ছিলেন , তারা সকলেই আজ আমার অঞ্জলি গ্রহন করুন। যাদের পুত্র নেই , যাদের কেউ নেই আজ স্মরন করার তাদের জন্য ও অঞ্জলী প্রদান করতে হয় । যেযাং, ন মাতা, ন পিতা, ন বন্ধু - অর্থাৎ যাদের মাতা-পিতা-বন্ধু কেউ নেই আজ স্মরন করার তাদেরকে ও স্মরন করছি ও প্রার্থনা করছি তাদের আত্না তৃপ্তিলাভ করুক । সকলেই সুখি হোক । সকলেই আবার উন্নত যোনিতে জন্ম গ্রহন করুন। নতুন জন্ম যেন খুব সুন্দর ও দীর্ঘায়ু হয়।

  • কে এই বিশ্বকর্মা? কেনই বা এনার পূজা পালন করা হয় ?

    পন্ডিত পার্বতী চরণ গাঙ্গুলী , বেনারস বিশ্ব বিদ্যালয় : বেশীর ভাগ বছরেই ভাদ্র সংক্রান্তিতে তথা ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব কর্মা দেবতার পূজা হয় । শাস্ত্র বলছে, শিল্পী ও নির্মাতাদের দেবতা বিশ্বকর্মা। ব্রহ্মাপুত্র বিশ্বকর্মাই গোটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নকশা তৈরি করেন। অর্থাৎ পৃথিবী তৈরী করেন ।এমন কি স্ব রগ লোকও ,সাথে ঈশ্বরের প্রাসাদের নির্মাতাও বিশ্বকর্মা। দেবতাদের রথ ও অস্ত্রও তৈরি করেছিলেন এই বিশ্বকর্মাই। মহাভারত অনুযায়ী বিশ্বকর্মা হলের শিল্পকলার দেবতা, সকল দেবতার প্রাসাদ, সকল প্রকার অলঙ্কারের নির্মাতা। বিবরণ অনুযায়ী তাঁর চার বাহু, মাথায় রাজার মুকুট, হাতে জলের কলস, বই, দড়ির ফাঁস ও অপর হাতে একটি যন্ত্র। প্রতিবছর এই সময় আসেন বিশ্বকর্মা আর ছড়িয়ে দিয়ে যান একমুঠো দুর্গাপুজোর গন্ধ, একরাশ ভাললাগা। দুর্গা পূজার অপেক্ষা। কিন্তু কে এই বিশ্বকর্মা? কেনই বা এনার পূজা পালন করা হয় আসুন তা জেনে নেওয়া যাক। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিশ্বকর্মা দেবতাদের শিল্পী। তিনি দেবশিল্পী নামে পরিচিত। বৃহস্পতির ভগিনী যোগসিদ্ধা তাঁর মাতা এবং অষ্টম বসু প্রভাস তাঁর পিতা। বিশ্বকর্মার বাহন হাতি। বিশ্বকর্মা পূজার মাহাত্ম্য বিশ্বকর্মা বৈদিক দেবতা, ঋগবেদের ১০ম মণ্ডলে ৮১ এবং ৮২ সূক্তদ্বয়ে বিশ্বকর্মার উল্লেখ আছে। ঋগবেদ অনুসারে তিনি সর্বদর্শী এবং সর্বজ্ঞ। তাঁর চক্ষু, মুখমণ্ডল, বাহু ও পদ সবদিকে পরিব্যাপ্ত। তিনি বাচস্পতি, মনোজব, বদান্য, কল্যাণকর্মা ও বিধাতা অভিধায় ভূষিত। তিনি ধাতা, বিশ্বদ্রষ্টা ও প্রজাপতি। বিশ্বকর্মা পূজার ধ্যানমন্ত্র দংশপালঃ মহাবীরঃ সুচিত্রঃ কর্মকারকঃ। বিশ্বকৃৎ বিশ্বধৃকতঞ্চ বাসনামানো দণ্ডধৃক।। ওঁ বিশ্বকর্মণে নমঃ। বিশ্বকর্মা পূজার কীর্তি ও স্থাপত্য বিশ্বকর্মা লঙ্কা নগরীর নির্মাতা। তিনি বিশ্বভুবন নির্মাণ করেন। বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিব এর ত্রিশূল, কুবের এর অস্ত্র, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকেয়র শক্তি প্রভৃতি তিনি তৈরি করেছেন। শ্রীক্ষেত্রর প্রসিদ্ধ জগন্নাথ মূর্তিও তিনি নির্মাণ করেছেন। বিশ্বকর্মা পূজা ভাদ্রমাসের সংক্রান্তির দিন বিশ্বকর্মার পূজা করা হয়। সূতার-মিস্ত্রিদের মধ্যে এঁর পূজার প্রচলন সর্বাধিক। তবে বাংলাদেশে স্বর্ণকার,কর্মকার এবং দারুশিল্প, স্থাপত্যশিল্প, মৃৎশিল্প প্রভৃতি শিল্পকর্মে নিযুক্ত ব্যক্তিগণও নিজ নিজ কর্মে দক্ষতা অর্জনের জন্য বিশ্বকর্মার পূজা করে থাকেন। এবং ইদানিং দুই বাংলার বাইরেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিশ্ব করমার পূজার প্রচলন শুরু হয়েছে । ছবি: জিৎ বর্মণ